বাতের ব্যথাও সারতে পারে মাত্র কয়েকটি ব্যায়ামে! সেগুলো কী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাতের ব্যথা (আর্থ্রাইটিস) বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়লেও অনেক তরুণ-তরুণীকেও আক্রান্ত করছে।

সাধারণত জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও শক্ত হয়ে যাওয়া- এই সমস্যাগুলোই বাতের প্রধান লক্ষণ। তবে সুসংবাদ হলো, নিয়মিত কিছু সহজ ব্যায়াম করলে এই ব্যথা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়াম বাতের ব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়গুলোর একটি। এটি জয়েন্টকে নমনীয় রাখে, পেশিকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। নিচে এমন কয়েকটি সহজ ব্যায়ামের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো নিয়মিত করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

Related Post

প্রথমেই বলা যায়, “রেঞ্জ অব মোশন” ব্যায়ামের কথা। এই ব্যায়ামগুলো জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখতে সাহায্য করে। যেমন- হাত ধীরে ধীরে ওপরে তোলা, হাঁটু ভাঁজ করা বা সোজা করা। প্রতিদিন কয়েক মিনিট এই ধরনের ব্যায়াম করলে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া কমে।

“স্ট্রেচিং” বা প্রসারণ ব্যায়াম খুবই উপকারী। এতে পেশি ও লিগামেন্ট নমনীয় থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- হালকা করে পায়ের পেশি টান দেওয়া বা হাত সোজা করে কিছুক্ষণ ধরে রাখা। এটি ব্যথা কমাতে ও শরীরকে আরাম দিতে সহায়তা করে।

“স্ট্রেন্থ ট্রেনিং” বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম। হালকা ওজন তোলা বা রাবার ব্যান্ড দিয়ে ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী হয়, যা জয়েন্টের ওপর চাপ কমায়। তবে এই ব্যায়াম অবশ্যই ধীরে ধীরে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত।

এ ছাড়াও হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মতো হালকা অ্যারোবিক ব্যায়ামও খুব উপকারী। বিশেষ করে সাঁতার জয়েন্টের ওপর কম চাপ দেয়, তাই এটি বাতের রোগীদের জন্য আদর্শ একটি ব্যায়াম হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে মনে রাখতে হবে, ব্যায়াম করার সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া ঠিক নয়। ব্যথা বেশি থাকলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। এছাড়া নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যায়াম করলে বাতের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ওষুধের পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক পদ্ধতি জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on এপ্রিল ২, ২০২৬ 2:05 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের রেকর্ডে ‘পাসুরি’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…

% দিন আগে

রাশিয়ার ড্রোন হামলা থেকে অল্পের রক্ষা পেয়েছে জেলেনস্কির বিমান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…

% দিন আগে

শনি গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে বিশাল ১০ কোণ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…

% দিন আগে

এমন দৃশ্য আপনি কী আগে কখনও দেখেছেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…

% দিন আগে

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস এ স্বীকৃতি অর্জন করলো এনার্জিপ্যাক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…

% দিন আগে