দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আইফোন মানেই হলো সাধারণ মানুষের কাছে আভিজাত্যের প্রতীক, যার দাম আকাশচুম্বী। বর্তমানে সিরিজে লাখ টাকার নিচে ব্র্যান্ড নিউ আইফোনের দাম ভাবাই যায় না।
আইফোনের এমন আকাশচুম্বী দাম দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে, একটি আইফোন বিক্রি করে কত মুনাফা করে অ্যাপল?
সম্প্রতি ইনভেস্টোপেডিয়া এবং ফোর উইকসের প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের মুনাফার তথ্যটি।
একটি অ্যাপল আইফোন-১৪ প্রো ম্যাক্স তৈরি করতে অ্যাপলের খরচ হয় ৫০০ ডলার। সেটি তারা বাজারে বিক্রি করেছে ১ হাজার ১০০ ডলার করে। অর্থাৎ শুধু একটি আইফোন বিক্রি করে অ্যাপলের মুনাফা করে ৬০০ ডলার!
মুনাফার পাশাপাশি কর্মীদের কীভাবে কম বেতন দিয়ে নিজেদের লাভের ভাগ ঠিক রাখছে আইফোন সেটিও উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে। যেসব কর্মী আইফোনের চীনের কারখানায় কাজ করেন তাদের প্রতি ঘণ্টার গড় বেতন দেওয়া হয় মাত্র ১২ ডলার। মূলত সস্তায় আইফোন তৈরির জন্যই চীনকে বেছে নেয় অ্যাপল।
চীনের ফক্সকন কোম্পানির মাধ্যমে আইফোন উৎপাদন করে থাকে অ্যাপল। এই ফক্সকন কোম্পানির কর্ম পরিবেশ নিয়ে টেক সংবাদমাধ্যম নেক্সট শার্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইফোন কারখানার যে গড় বেতনের হিসাব করা হয়েছে সেটির মাধ্যমে মূল চিত্র তুলে ধরাও সম্ভব না। একটি আইফোন অ্যাসেম্বল করতে একজন কর্মীকে টানা ১৭ ঘণ্টা সময় ব্যয়ও করতে হয়। যারা এই ধরনের কাজ করে থাকেন তাদের দৈনিক আয় দাড়ায় মাত্র ৩০ ডলার। অর্থাৎ যন্ত্রপাতির হিসাব বাদ দিলে মাত্র ৩০ ডলারের কাজ করিয়ে প্রতিটি কর্মীর হতে দিনে একটি করে আইফোন বানিয়ে নিচ্ছে অ্যাপল।
সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইফোনের পেছনের লেখা ‘ডিজাইনড বাই অ্যাপ’ল ইন ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসেম্বেলড ইন চায়না’ লেখাটি অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগায় সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে অ্যাপল কেনো চীনে এলো? মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইন কঠোর হওয়ার কারণে সস্তা শ্রমের খোঁজে চীনের দিকে অভিযাত্রা শুরু করে অ্যাপল।
চীনে প্রতিষ্ঠিত তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান ফক্সকনে প্রায় ১৩ লাখ কর্মী কাজ করেন। ওয়ালমার্ট ও ম্যাকডোনাল্ডসের পরেই কর্মীসংখ্যার দিক দিয়ে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে ফক্সকন।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে যে, ফক্সকনের এইসব কর্মী প্রতিনিয়ত অধিকার বঞ্চিতের শিকারও হন। ফক্সকনের ভেতরে কী ঘটছে তা বাইরে থেকে জানার কোনো উপায় নেই। তবে বিভিন্ন সময় জানা যায়, ফক্সকন কর্মীদের এতো বেশি পরিমাণ চাপের মধ্যে রাখে যে, কারখানায় আত্মহত্যার ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে।
আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে চীনের শেনজেন প্রদেশের বাইরে ফক্সকন কারখানাতেই। দেড় বর্গমাইলের কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কর্মী রয়েছেন। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর মধ্যে সিংহভাগ কর্মীরা মারাত্মক হতাশায় ভুগছেন।
২০১০ সালে হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২ ডজন কর্মী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং এদের মধ্যে ১৪ জন কর্মী মারাও যান। মারা যাওয়া কর্মীদের সুইসাইড নোট থেকে জানা যায় যে, লাগাতার কাজের চাপ ও কর্তা ব্যক্তিদের প্রতিদিনকার অপমানের ফলশ্রুতিতেই দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন তারা। সেই হতাশা হতেই আত্মহননের পথ বেছে নেন এইসব কর্মী।
আইফোনের প্রধান নির্বাহী টিম কুক জানিয়েছেন যে, গত এক দশকে শুধু আইফোন বিক্রি করে অ্যাপল আয় করেছে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। দিন যতো যাচ্ছে আইফোন বিক্রি ততো বাড়ছে; যার প্রমাণ মেলে গত বছর স্যামসাংকে হটিয়ে আইফোনের এক নাম্বার স্মার্টফোনের জায়গা দখল করে নেওয়া থেকে।
প্রতিবার নতুন মডেলের সিরিজে ধাপে ধাপে দামও বাড়িয়েছে আইফোন। যেখানে বছর খানেক গায়ে আইফোন-৭ এর অফিশিয়াল দাম ছিলো ৪৪৯ ডলার, সেখানে আইফোন-১৫ প্রো ম্যাক্সের সর্বনিম্ন অফিসিয়াল দাম ধরা হয় ১ হাজার ৩৯৯ ডলার। হু হু করে আইফোনের দাম বাড়লেও সেই হিসাবে এইসব কারখানায় থাকা কর্মীদের বেতন কিংবা সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। এতে করে অ্যাপল প্রতিটি আইফোন বিক্রি করে স্মার্টফোনের দুনিয়ায় স্মরণকালের সেরা মুনাফাও তুলে নিচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, গত এক দশকে স্যামসাং মোট ৮০০ মিলিয়ন স্মার্টফোন বাজারে শিপমেন্টও করেছে। অপরদিকে এক দশকে আইফোনের এই শিপমেন্টের পরিমাণ ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন।
২০২৩ সালে অ্যাপল মোট ২৩৫ মিলিয়ন আইফোন শিপমেন্ট করে। ২০১৩ সালের সঙ্গে তুলনা করলে ১০ বছরে আইফোনের শিপমেন্ট বেড়ে হয়েছে ৫৩ শতাংশ। এভাবেই দিনকে দিন বিক্রি বাড়ছে আইফোনের; লাভের হিস্যার পাহাড় গড়ছে বিশ্বের এই এক নাম্বার টেক কোম্পানি অ্যাপল। কিন্তু শ্রমিকদের আয় বাড়ছে না।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on এপ্রিল ২, ২০২৬ 4:26 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…