দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং অস্থিরতা নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানকে বড় ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন যে, তেহরান যদি তাদের বর্তমান কঠোর অবস্থানের আমূল পরিবর্তন না করেন, তবে এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, আলোচনার টেবিলে উল্লেখযোগ্য কোনো ‘ছাড়’ দেওয়ার মানসিকতা রাখা বর্তমান সময় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রধান শর্ত। মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে ফ্রান্সের এই কূটনৈতিক বার্তার বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ নিশ্চিত করার পথেই হাঁটতে হবে। তিনি মনে করেন যে, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং দ্বন্দ্বে তেহরানের বর্তমান নীতিগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার আনাটা জরুরি।
এই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনবে না, বরং ইরানের সাধারণ নাগরিকদের একটি সুন্দর এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফ্রান্সের পক্ষ হতে দেওয়া এই বার্তাকে তেহরানের ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ চললেও সংঘাত নিরসনের আলোচনাগুলো অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যকার সরাসরি যুদ্ধ ও লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ পুরো অঞ্চলকেই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো একটি প্রভাবশালী ইউরোপীয় শক্তির কাছ থেকে এই ধরনের কঠোর মন্তব্য তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। প্যারিস চাইছে ইরান যেনো তাদের পারমাণবিক ও আঞ্চলিক সামরিক নীতিতে নমনীয় হয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি টেকসইমূলক সমঝোতায় পৌঁছায়।
সামগ্রিকভাবে ফ্রান্সের এই অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইরানের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এই যুদ্ধের একটি সমাপ্তি টানতে চাইছেন। যদিও ইরান ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের ‘রেড লাইন’ কিংবা চূড়ান্ত সীমারেখা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, তবুও ফ্রান্সের এই আহ্বান আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে কি-না, তা নিয়ে বেশ সংশয় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া যখন এক গভীর অচলাবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে, তখন জ্যঁ-নোয়েল বারোর এই প্রস্তাব তেহরানের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপে আসলে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্বের।তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 10:36 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার দাবিতে প্রেমনির্ভর…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইজিস সিস্টেম সমৃদ্ধ যুদ্ধজাহাজ…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রকৃতির জগতে এমন প্রাণী রয়েছে, যাদের দেখলে মনে হতে পারে…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শিশু অসুস্থ হলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। জ্বর, সর্দি,…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রতিটি টেস্ট ড্রাইভের বিপরীতে একটি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ…
View Comments
Well explained applications for offshore oil & gas sectors.
This post is absolutely packed with value! I feel like I just got the equivalent of a paid course for free. Your generosity in sharing such detailed information and your own hard-won insights is truly appreciated. The examples you provided were particularly helpful in showing how to actually apply these concepts in real-world situations. I'm excited to start implementing what I've learned here. Thank you for putting in the time and effort to create something this useful!
Custom lifting solutions are indeed necessary for complex infrastructure projects.
Appreciate the engineering perspective shared here.
Informative post on load testing systems in heavy industries.