দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) তাদের গৌরবময় ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার একটি হোটেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক অঙ্গন, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর প্রদর্শিত হয় আইবিএফবি -এর দুই দশকের পথচলা ও সাফল্যের ওপর একটি বিশেষ প্রামাণ্য উপস্থাপনা, যেখানে গবেষণা, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সংগঠনটির অবদান তুলে ধরা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবি -এর সভাপতি লুতফুন নিসা সৌদিয়া খান গত ২০ বছরে সংগঠনটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে আইবিএফবি -এর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বেসরকারি খাতনির্ভর উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আরও বিস্তত সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক, নেপাল, ওমান, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, ব্রুনাই দারুসসালাম ও মালদ্বীপের হাইকমিশনার, জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI)-এর প্রতিনিধিসহ দেশের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারণী মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই-এর মাননীয় প্রশাসক আবদুর রহিম খান, আইবিএফবি -এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান খান এবং সাবেক সভাপতি হুমায়ুন রশিদ।
কেক কাটার আয়োজন, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দলীয় আলোকচিত্র গ্রহণ এবং নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে একটি নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আইবিএফবি -এর দীর্ঘদিনের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org