দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চিত্রশিল্পী ফারিনা সামহি নিথীর প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘সাইলেন্ট এক্সপ্রেশনস’ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১ আগস্ট। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত এশিয়াটিক সেন্টারের বাতিঘর আর্ট স্পেসে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলা মঙ্গলদ্বীপ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে বিকেল ৪টায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ওরাকল বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বরেণ্য অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং গ্যালারি চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
ভার্টেক্স চেম্বার্স ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে অ্যাক্রেলিক মাধ্যমে আঁকা ফারিনার বাছাই করা কিছু চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হবে। শব্দে যা বলা যায় না, রং, আকার ও অবয়বের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যায় বলে বিশ্বাস করেন ফারিনা। সেই ভাবনা থেকেই তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়েছে ‘সাইলেন্ট এক্সপ্রেশনস’।
শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিল্পী ফারিনা বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিয়ে তাঁর শিল্পচর্চা ও কাজের ধরনকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। এছাড়া, বিভিন্ন দলীয় প্রদর্শনীতেও তাঁর কাজ স্থান পেয়েছে। ২০১৭ সালে কলকাতায় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) আয়োজিত আন্তর্জাতিক দলীয় শিল্পপ্রদর্শনী এবং ২০২৩ সালে শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ শিল্পপ্রদর্শনীতে তাঁর কাজ প্রদর্শিত হয়।
প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org