দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সকালের নির্মল বাতাস, শান্ত পরিবেশ এবং সূর্যের কোমল আলো- দিনের শুরুটা যদি হাঁটার মাধ্যমে হয়, তাহলে তা শরীর ও মনের জন্য একসঙ্গে উপকার বয়ে আনতে পারে।

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস কমে গেলেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা এখনো এটিকে সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করেন।
প্রতিদিন ৩০ হতে ৪৫ মিনিট হাঁটলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে, রক্তসঞ্চালন উন্নত হয় ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত হাঁটা শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ায়, যে কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে।
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও হাঁটার উপকারিতা উল্লেখযোগ্য। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের “ভালো লাগার” হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। অনেকেই জানান, সকালে হাঁটার পর সারাদিন কর্মক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়ে।
হাঁটার সময় যদি পার্ক, গাছপালা বা প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা যায়, তাহলে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। প্রকৃতির সংস্পর্শ মনকে শান্ত করে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
তবে হাঁটার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। আরামদায়ক জুতা পরা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী গতি নির্ধারণ করা উচিত। যাদের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
প্রতিদিনের অল্প সময়ের হাঁটা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ এবং সক্রিয় জীবনযাপনের একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org