দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আজ গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সাতারকুল ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক ‘ইনকোয়ারি-বেজড’ শিক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা করেন।

ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী স্কুলটির পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় এসটিএস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানাস সিং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখান এবং একাডেমিক বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত করান।
গ্লেনরিচ সাতারকুলের প্রি-প্রাইমারি শ্রেণিকক্ষ, প্লে-জোন, মন্টেসরি ল্যাব, সেন্ট্রাল কোর্টইয়ার্ড, স্কুল লাইব্রেরি এবং সেকেন্ডারি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি বিদ্যালয়টির উন্নত একাডেমিক হাবগুলো, যেমন আর্ট ল্যাব, ম্যাথ ল্যাব, রোবোটিকস ল্যাব ও আইসিটি ল্যাবসহ একাধিক বিজ্ঞান ল্যাব পরিদর্শন করেন।

এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সৃজনশীল ও ক্রীড়া সুবিধাও ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ছিল মিউজিক রুম (গিটার, ভায়োলিন, পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত), ড্যান্স রুম, ইনডোর জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, স্কেটিং রিঙ্ক এবং ফুটবল, বাস্কেটবল ও ক্রিকেট অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত আউটডোর স্পোর্টস জোন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্কুলটির মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে তাদের সার্বিক বিকাশে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
পরিদর্শন সম্পর্কে এসটিএস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানাস সিং বলেন, “মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর এ সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এটি শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে বিশ্বমানের শিক্ষা ও উন্নত অবকাঠামো প্রদানে আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে।”
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org