দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বের কয়েকটি শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পর অস্থায়ীভাবে বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষ ও গবেষকদের বিস্মিত করেছে।
বছরের পর বছর যেখানে বালু ও ধুলোর রাজত্ব, সেখানে হঠাৎ নীল পানির বিস্তার অনেকটা অলৌকিক দৃশ্যের মতো মনে হয়।
প্রকৃতপক্ষে, বিরল আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে অল্প সময়ে প্রচুর বৃষ্টির পানি জমে এমন হ্রদ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুকনো নদীপথ বা নিচু ভূমি পানিতে পূর্ণ হয়ে কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের জন্য জলাধারে পরিণত হয়। এরপর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বাষ্পীভবনের ফলে ধীরে ধীরে পানি শুকিয়ে যায়।
এই অস্থায়ী হ্রদগুলোর আরেকটি আশ্চর্য দিক হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে পাখি, কীটপতঙ্গ এমনকি কিছু জলজ প্রাণীর উপস্থিতি দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বহু প্রাণীর ডিম বা সুপ্ত জীবাণু দীর্ঘদিন বালুর নিচে টিকে থাকতে পারে এবং পানি পেলে দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই দৃশ্য আনন্দের হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে মরুভূমিতে এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেরও ইঙ্গিত হতে পারে। একই সঙ্গে এইসব এলাকায় আকস্মিক বন্যা মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অসংখ্য পর্যটক ও আলোকচিত্রী এই বিরল দৃশ্য ধারণ করতে ছুটে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরুভূমির মাঝখানে নৌকা ভাসানোর ছবি অনেক সময় ভাইরাল হয়ে পড়ে।
প্রকৃতির এই অদ্ভুত রূপ আমাদের শেখায় যে পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থানও কখনো কখনো পানিতে ভরে উঠতে পারে। পরিবেশের ক্ষুদ্র পরিবর্তনও কত বড় বিস্ময় সৃষ্টি করতে পারে, মরুভূমির এই সাময়িক হ্রদ তারই এক অনন্য উদাহরণ সেটি বলাই যায়।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on জুন ২২, ২০২৬ 10:38 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…