দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আরও শক্তিশালী ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী কম্পিউটার চিপের চাহিদা।
এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম সম্প্রতি এক ন্যানোমিটারেরও ছোট (সাব-১ ন্যানোমিটার) চিপ প্রযুক্তি উন্মোচন করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা ভবিষ্যতের এআই ডেটা সেন্টার, সুপারকম্পিউটার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও দক্ষ করে তুলতে পারে।
আইবিএমের নতুন প্রযুক্তির নাম NanoStack। এতে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ট্রানজিস্টরগুলোকে উল্লম্বভাবে স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছে। এর ফলে একই আকারের একটি চিপে আগের তুলনায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর বসানো সম্ভব হয়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, একটি নখের সমান আকারের চিপে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ট্রানজিস্টর স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে, যা তাদের আগের ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ঘনত্ব প্রদান করে।
এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হলো কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়। আইবিএমের দাবি অনুযায়ী, নতুন আর্কিটেকচার একই বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি কর্মক্ষমতা দিতে পারে অথবা একই কর্মক্ষমতা বজায় রেখে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। বর্তমানে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। ফলে এই ধরনের চিপ ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু সফটওয়্যার নয়, হার্ডওয়্যারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বড় ভাষা মডেল, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, চিকিৎসা গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মতো ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী প্রসেসরের প্রয়োজন হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সাব-১ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ভবিষ্যতের কম্পিউটিং সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। এত ক্ষুদ্র আকারে চিপ উৎপাদন করতে গিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ব্যয় এবং নির্ভুল উৎপাদন প্রক্রিয়ার মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আইবিএম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে এবং এজন্য উৎপাদন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চলবে।
বিশ্বব্যাপী বর্তমানে উন্নত চিপ প্রযুক্তি নিয়ে আইবিএম, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, ইন্টেল, টিএসএমসি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে উন্নত ও দক্ষ চিপ তৈরি করতে পারবে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বাজারে তারাই বড় সুবিধা পাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আইবিএমের নতুন সাব-১ ন্যানোমিটার চিপ প্রযুক্তি শুধু একটি গবেষণাগত সাফল্য নয়, বরং ভবিষ্যতের এআই অবকাঠামো গঠনের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও এটি বাজারে আসতে এখনও কিছু সময় লাগবে, তবুও প্রযুক্তি বিশ্ব ইতিমধ্যেই এই উদ্ভাবনকে পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটিংয়ের সম্ভাবনাময় ভিত্তি হিসেবেই দেখছে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on জুলাই ২, ২০২৬ 12:16 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্তন্যপায়ী প্রাণী বলতে আমরা সাধারণত এমন প্রাণীকেই বুঝি যারা ডিম…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের শরীরে গাউট কিংবা…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তস্বল্পতা কিংবা অ্যানিমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন রক্তে পর্যাপ্ত…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার ইতিহাস এবং প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস…
View Comments
VLXVN Xem Phim Heo Không Quảng Cáo, Clip VLXVN 4K HD