দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা নামছে আজ রাতের ফাইনাল ম্যাচের মধ্যদিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রতীক্ষিত এই মহারণ, যেখানে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন।
দীর্ঘ এক মাসের রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা শেষে এই দুই দলই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে ফাইনালে পৌঁছেছে। আর্জেন্টিনার জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তারা মাঠে নামবে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলটি দারুণ ছন্দে রয়েছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অধিনায়ক লিওনেল মেসি পুরো আসরেই দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অনেকের ধারণা যে, এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে পারে। তাই এই ফাইনাল তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
অপরদিকে স্পেন দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই ফাইনালে এসেছে। সেমিফাইনালে তারা ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি। একইসঙ্গে মাঝমাঠের দখল ও দ্রুত পাসিং ফুটবল প্রতিপক্ষকে বারবার চাপে ফেলেছে। স্পেন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
দুই দলের শক্তির দিক বিবেচনা করলে ম্যাচটি হবে আক্রমণ বনাম সংগঠিত রক্ষণ এবং বল দখলের লড়াই। আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা, মেসির নেতৃত্ব ও বড় ম্যাচে খেলার মানসিক দৃঢ়তা তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
অপরদিকে স্পেনের তরুণ এবং গতিময় ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং সমন্বিত দলীয় পারফরম্যান্স তাদের বড় শক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচে ছোট একটি ভুলই শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও একটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো- এই ফাইনালের মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি আনুষ্ঠানিক হাফটাইম শো অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা একে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ আয়োজন করেছেন, যা বিশ্বকাপ ফাইনালকে নতুন মাত্রা দেবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। আর্জেন্টিনা এবং স্পেন- দুই দেশের সমর্থকেরাই নিজেদের দলকে উৎসাহ দিতে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সমর্থক সবচেয়ে বেশি। আর তাই আজকে ম্যাচটি বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার খেলা দেখার জন্য আজ বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বড় পর্দায় সবাই একসঙ্গে দেখার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে- সেইসঙ্গে বিশেষ খানাপিনার ব্যবস্থাও থাকছে অনেক স্থানে। সব মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।
এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, শেষ হাসি কে হাসে। আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রেখে ইতিহাস গড়বে, নাকি স্পেন ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরবে? উত্তর পাওয়া যাবে আজ রাতের ৯০ মিনিট (অতিরিক্ত কিছু সময়সহ), অথবা প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের নাটকীয়তার পর। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ এখন একটাই ম্যাচ- ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাফাইনাল। সময়ই বলে দেবে আসলে কি ঘটবে আজ রাতে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on জুলাই ১৯, ২০২৬ 3:48 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের শরীরে গাউট কিংবা…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তস্বল্পতা কিংবা অ্যানিমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন রক্তে পর্যাপ্ত…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার ইতিহাস এবং প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩…