দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই বাড়ছে উন্নত চিপের প্রয়োজন। এআই মডেল প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ, বিশাল পরিমাণ গণনা ও তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রচুর শক্তিশালী প্রসেসর ও মেমোরি প্রয়োজন।
যে কারণে বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী শিল্পে চাহিদা বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চিপের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিয়ে চাপ। রয়টার্সের প্রযুক্তি সংবাদে ১৯ আগস্ট ২০২৬-এ স্যামসাংয়ের চিপ উৎপাদনমূল্য বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এআইয়ের বর্তমান যুগে শুধু সাধারণ কম্পিউটার প্রসেসর নয়, বিশেষায়িত এআই চিপ, উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স প্রসেসর এবং উচ্চগতির মেমোরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি বড় এআই ব্যবস্থা একই সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়া করে। সেই কাজের জন্য প্রচলিত কম্পিউটার চিপের তুলনায় অনেক বেশি গণনাশক্তি প্রয়োজন।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করছে। এর ফলে চিপ এবং মেমোরির চাহিদাও বাড়ছে। আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড প্রযুক্তির চাহিদা সামলাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তথ্যকেন্দ্র, উন্নত চিপ এবং মেমোরি ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে। আগে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গাড়ি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য চিপের চাহিদা ছিল বড় বাজারের চালিকাশক্তি। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই তথ্যকেন্দ্র। ফলে একই চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে একদিকে ব্যক্তিগত প্রযুক্তিপণ্যের বাজার এবং অন্যদিকে এআই অবকাঠামোর বাজার- দুই দিকের চাহিদা সামলাতে হচ্ছে।
এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে পারে। উন্নত মেমোরি বা চিপের দাম বাড়লে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, সার্ভার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে- এমন নিশ্চয়তা নেই; কোম্পানির মজুত, উৎপাদন ব্যয়, প্রতিযোগিতা ও বাজার পরিস্থিতির ওপর চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে।
চিপের বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরবরাহ নিরাপত্তা। বিশ্বের উন্নত চিপ উৎপাদন ব্যবস্থা কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশ এবং অঞ্চলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবহন সমস্যা, বিদ্যুৎ বা পানি সংকট কিংবা উৎপাদন ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শিল্পে প্রভাব পড়তে পারে।
এআইয়ের প্রসারের কারণে শুধু চিপ নয়, মেমোরির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। উচ্চক্ষমতার এআই সার্ভারে বিপুল পরিমাণ মেমোরি প্রয়োজন হয়। ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি করতে আগ্রহী হচ্ছে এবং মেমোরি উৎপাদনকারীরা এআই বাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই নিয়ে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মেমোরি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের কথাও প্রযুক্তি খাতে আলোচিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে, এআই শুধু সফটওয়্যার বিপ্লব নয়; এটি হার্ডওয়্যার শিল্পকেও আমূল পরিবর্তন করছে। ভবিষ্যতে এআইয়ের উন্নতির গতি অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে উন্নত চিপ এবং মেমোরির সরবরাহের ওপর। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ শুধু অ্যালগরিদমের হাতে নয়- চিপ কারখানার উৎপাদনক্ষমতার সঙ্গেও এটি গভীরভাবে যুক্ত।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২০, ২০২৬ 2:46 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের শরীরে গাউট কিংবা…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তস্বল্পতা কিংবা অ্যানিমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন রক্তে পর্যাপ্ত…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার ইতিহাস এবং প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩…
View Comments
istanbul escort