নক্ষত্র ধ্বংস করে ধরা পড়লো গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে দূরে লুকিয়ে থাকা কৃষ্ণগহ্বর!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাবিশ্বে কৃষ্ণগহ্বর কিংবা ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে একটি কৃষ্ণগহ্বর যদি কোনো গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অস্বাভাবিকভাবে অনেক দূরে অবস্থান করে এবং এতদিন প্রায় অদৃশ্য থেকে যায়, তাহলে সেটি অবশ্যই বিস্ময়কর ঘটনা।

২০২৬ সালের আগস্টে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমনই একটি বিশাল কৃষ্ণগহ্বর শনাক্ত করার খবর প্রকাশ করেছেন।

গবেষণায় যে কৃষ্ণগহ্বরটির কথা বলা হয়েছে, সেটি একটি গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। এটি এতদিন কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে একটি নক্ষত্র তার কাছাকাছি চলে আসার পর কৃষ্ণগহ্বরটির মহাকর্ষীয় শক্তির শিকার হয়। কৃষ্ণগহ্বরটি নক্ষত্রটিকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলার সময় যে উজ্জ্বল বিকিরণ সৃষ্টি হয়, সেটিই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এই অদৃশ্য মহাজাগতিক বস্তুর উপস্থিতির সংকেত হয়ে ওঠে।

Related Post

এই ঘটনাকে বলা হয় ‘tidal disruption event’। কোনো নক্ষত্র কৃষ্ণগহ্বরের খুব কাছে চলে গেলে কৃষ্ণগহ্বরের প্রবল মহাকর্ষ নক্ষত্রটির ওপর এমন অসম শক্তি প্রয়োগ করতে পারে যে নক্ষত্রটি আর নিজের কাঠামো ধরে রাখতে পারে না। তখন সেটি ছিন্নভিন্ন হয়ে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে পদার্থের প্রবাহ তৈরি করে ও প্রচুর আলো এবং অন্যান্য বিকিরণ নির্গত হতে পারে।

এখানেই বিজ্ঞানীদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়। সাধারণ অবস্থায় একটি নিষ্ক্রিয় কৃষ্ণগহ্বরকে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ সেটি নিজে থেকে আলো দেয় না। তবে কোনো নক্ষত্রকে ধ্বংস করার মতো ঘটনা ঘটলে সেই কৃষ্ণগহ্বর হঠাৎ করে মহাজাগতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

গবেষকদের ধারণা, এই কৃষ্ণগহ্বরটি হয়তো কোনো ছোট গ্যালাক্সির অবশিষ্টাংশ হতে পারে। আবার গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে কোনো প্রাচীন সংঘর্ষ বা মহাজাগতিক মিথস্ক্রিয়ার কারণে এটি গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে ছিটকে গিয়েও থাকতে পারে।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব আরও একটি কারণে। সাধারণভাবে বিশাল কৃষ্ণগহ্বরকে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়। অনেক বড় গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর থাকার প্রমাণ রয়েছে। তবে কেন্দ্র থেকে এতো দূরে একটি নিষ্ক্রিয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি গ্যালাক্সির বিবর্তন সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

কৃষ্ণগহ্বরকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের অন্যতম কারণ হলো এগুলোর মহাকর্ষ এত শক্তিশালী যে নির্দিষ্ট সীমার ভেতর থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না। যে কারণে কৃষ্ণগহ্বরকে সরাসরি দেখা যায় না; বরং তার আশপাশের বস্তু এবং বিকিরণের ওপর প্রভাব দেখে তার অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়।

নতুন আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের মনে আরও বড় প্রশ্ন তুলেছে- মহাবিশ্বে এমন আরও কত কৃষ্ণগহ্বর গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে দূরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেগুলো এখনও আমাদের চোখে ধরা পড়েনি? হয়তো কোনো নক্ষত্রের দুর্ভাগ্যজনক পতনই একদিন সেগুলোর অস্তিত্ব প্রকাশ করবে।

এই ঘটনা তাই শুধু একটি কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান নয়। এটি মহাবিশ্বের এমন এক অদৃশ্য জগতের জানালা খুলে দিয়েছে, যেখানে বিশাল মহাজাগতিক বস্তু কোটি কোটি বছর ধরে নীরবে অবস্থান করতে পারে- একটি নক্ষত্রের ধ্বংসই হঠাৎ তাদের অস্তিত্ব আমাদের সামনে প্রকাশও করে দিতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on আগস্ট ২৪, ২০২৬ 2:14 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক হোসেনপুর লাল মসজিদ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

কিডনি ভালো রাখতে কোন ব্যায়াম করবেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কিডনি শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ…

% দিন আগে

কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে চীনের নতুন পরিকল্পনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের কৌশলগত প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা…

% দিন আগে

লেবু আমাদের স্বাস্থ্যের কী কী উপকার করে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ লেবু রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল। শরবত, সালাদ, বিভিন্ন রান্না…

% দিন আগে

আন্তর্জাতিক মাইলফলকে সুনেরাহ: যাচ্ছেন ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। প্রথম…

% দিন আগে

ইরানে আবারও ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইরানজুড়ে একযোগে ব্যাপক বোমাবর্ষণে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর…

% দিন আগে