যমুনার পানি বৃদ্ধি ॥ উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত ॥ আগামী মাসে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। বহু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী মাসে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্ষার শুরুতেই এমনভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে আগামী মাসে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আমাদের দেশে ইতিপূর্বে দেখা গেছে আগস্ট মাসে বন্যা হতে। এবার বন্যাটা একটু আগে-ভাগেই দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির শুরুতেই যে পরিস্থিতি তাতে আগামী মাসে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গাইবান্ধায় আবারও ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নীলফামারীর ডিমলায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীতে কয়েক দিন কমার পর আবার পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, রোববার থেকে আবার পানিবৃদ্ধি শুরু হলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার আগেই আবার পানি বাড়তে থাকায় তারা নতুন করে বন্যার আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন। এদিকে জেলার কাজীপুর, চৌহালী উপজেলায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের ফলে প্রতিদিন যমুনা পাড়ের লোকজন গৃহহারা হচ্ছে। এছাড়া, সিরাজগঞ্জ শহর সংলগ্ন মালসাপাড়া, রানীগ্রাম, চর মিরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় প্রচণ্ড জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

গাইবান্ধা

উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে দু’দিন ধরে আবারও ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটসহ অন্যান্য নদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে যেসব এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গিয়েছিল, সেসব এলাকায় নতুন করে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৯ সেমি এবং ঘাঘট নদীর পানি ৭ সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন দিনে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ডিমলা (নীলফামারী)

নীলফামারীর ডিমলায় নাউতারা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রোববার দুপুরে নাউতারা নদীবেষ্টিত পূর্ব সাতজান গ্রামের ৩২ পরিবারের বসতভিটা, জমিজিরাত, দুইশ’ মিটার সাতজান ব্রিজের রাস্তা ও ৬০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমোরসহ ১৫টি নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ধরলা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীতে ৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২১ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ সময় ব্রহ্মপুত্রের পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে।

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

দেওয়ানগঞ্জ বন্যা-ত্রাণ বিতরণের আড়ালে চলছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শুক্র ও শনিবার পৌর এলাকাসহ ৮টি ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন। ত্রাণ বিতরণের সময় অনন্ত ৫০টি পথসভা ও ২ শতাধিক মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন। স্থানীয় লোকজনের কাছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার তাকে নির্বাচিত করার জন্য আগাম ভোট চেয়েছেন। শনিবার সাবেক আইজিপি দেওয়ানগঞ্জ ঝটিকা সফর করে পথসভায় নিজের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নেত্রী সাহিদা আক্তার রিতা রোববার দুপুরে বন্যায় আশ্রিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এবারও প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন।

উত্তরাঞ্চল ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো না। বরিশাল, ফরিদপুর ও নড়াইলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানকার বহু মানুষ এখনও পানিবন্দি। বহু ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

বরিশাল

হিজলায় মেঘনার জোয়ারের পানিবৃদ্ধিতে হিজলা গৌরব্দী ও মেমানিয়া ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ফসলসহ রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষসহ গবাদিপশু পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বীজতলা তলিয়ে কমপক্ষে ১০০ টন আমন ধানের বীজ নষ্ট হয়েছে। পানির নিচে রয়েছে প্রায় পাঁচশ’ একর আউশ ধান। ভেসে গেছে দেড়শ’ পুকুরের মাছ। এছাড়া পানের বরজে পানি প্রবেশের ফলে আশংকা রয়েছে ব্যাপক ক্ষতির। নদীভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফরিদপুর

সরকারের কাছে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও যখন নদীভাঙন ঠেকাতে কোন কাজ হচ্ছিল না, তখন নদীপাড়ের শত শত মানুষ নিজ উদ্যোগে ভাঙন ঠেকাতে কাজে নেমে পড়লেন। নিজেরাই বাঁশ দিয়ে, চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে নদীভাঙনরোধে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। সরেজমিন জেলার আলফাডাংগা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের মধুমতি নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। এলাকাবাসী জানায়, বুড়াইচ ইউনিয়নের দিগনগর বাজার থেকে বানাবাজার পর্যন্ত মধুমতি নদীর উত্তর পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গত বছর থেকে ভাঙন শুরু হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় এমপির কাছে নদীভাঙন ঠেকাতে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে আবেদন করে। কিন্তু তাদের সেই আবেদন কোন কাজে আসেনি।

লোহাগড়া (নড়াইল)

লোহাগড়ায় মধুমতি নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে কালনা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে দক্ষিণবঙ্গের হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...