নিখোঁজ ও গুমের ঘটনাকি কখনও শেষ হবে না? নিখোঁজ ব্যক্তি ফিরছে, তবে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে!

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা নিয়ে আমরা আগেও লিখেছি। দেশে সামপ্রতিক সময়ে নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, এতে করে মানুষের মধ্যে প্রতিমুহূর্তে বিরাজ করছে এক অজানা আতঙ্ক। কখন, কাকে পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাবে সে আশংকা সকলের মধ্যে। শুধু তাই নয়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ফিরছে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে।

এদিকে নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা বাড়ার কারণে রাজধানীতে দিনকে দিন বাড়ছে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা। নৃশংসভাবে হত্যার পর ঘাতকরা নির্জন এসব স্থানে একের পর এক লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে। হত্যার পর শরীরের বিভিন্ন অংশ খণ্ড-বিখণ্ড কিংবা এসিডে ঝলসে দেয়ায় বেশির ভাগ লাশেরই পরিচয় মিলছে না। এর ফলে ঘাতকরাও থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরিচয় না মেলায় এসব লাশ বেওয়ারিশ ঘোষণা করে তাদের দাফন করছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, শুধু রাজধানীর বুুড়িগঙ্গা নদী ও শ্যামপুরের ওয়াসা পুকুর থেকে পুলিশ তিন বছরে ৪৭ বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকা গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, আশুলিয়া ও সাভার থেকে উদ্ধার হয়েছে নাম-পরিচয়হীন আরও ৭৭ লাশ। আর উদ্ধারকৃত মোট ১২৪ লাশের মধ্যে পরিচয় মিলেছে মাত্র ২২টির। বাকি ১০২ মানব সন্তানের নাম-পরিচয় জানতে না পারায় বেওয়ারিশ হিসেবেই দাফন করা হয়। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম এসব বেওয়ারিশ লাশের সৎকারের ব্যবস্থা করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, বিভিন্ন বিরোধের জের ধরে অপহরণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা অপেক্ষাকৃত নির্জন এসব এলাকায় লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে। বেশিরভাগ লাশ বিকৃত থাকায় হতভাগ্যদের পরিচয় পর্যন্ত জানা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে এসব মামলার বেশির ভাগেরই ফাইনাল রিপোর্ট দিতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশ। তাছাড়া অপরাধীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশের পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম করছে। যাতে তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, বিধি মোতাবেক সব ঘটনারই তদন্ত চলছে। তদন্ত করেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একের পর এক এ ধরনের রহস্যজনক নিখোঁজ ও গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটলেও তার রহস্য উন্মোচন হচ্ছে না। এটি সমাজে মানবাধিকার বিকাশের জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেয়া তথ্যানুযায়ী, তিন বছরে রাজধানীতেই দুই শতাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১১৬টি। অপহরণের শিকার এসব ব্যক্তির মধ্যে মাত্র ২৪ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ফিরে এসেছে ৪ জন। বাকিদের ভাগ্যে কি ঘটেছে দীর্ঘদিনেও তা জানতে পারেনি তাদের স্বজনরা। আসকের তথ্যমতে, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এসব অপহরণের ঘটনা ঘটলেও অপহূতদের উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ তেমন কোন ভূমিকাও রাখেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর লাশ উদ্ধার হলে সে লাশ নিয়েই পরিবারের সদস্যদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। ঘাতকদের শনাক্ত করা দূরের কথা অধিকাংশ মামলার তদন্ত কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে যাদের লাশও পাওয়া যায়নি তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও খুঁজে ফিরছে স্বজনদের। পুলিশের কাছে গেলে ‘তদন্ত চলছে, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি’- এ মনগড়া কথা শুনতে শুনতে দিন পার করছেন হতভাগ্য পরিবারের সদস্যরা। ‘অজ্ঞাত লাশ’র মিছিলে প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে গেছে এমন সন্দেহে রয়েছে অনেক পরিবার।

পুলিশ বলেছে, নাম-পরিচয়বিহীন অবস্থায় যেসব লাশ উদ্ধার করা হয় তার বেশির ভাগই থাকে গলিত। অনেক ক্ষেত্রে ঘাতকরা যাতে পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব না হয় সেজন্য হত্যার পর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে। অনেক সময় এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়া ছাড়াও নানাভাবে লাশ বিকৃত করে ফেলে। এর ফলে অনেকেরই পরিচয় উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয় না। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য তা পাঠিয়ে দেয়া হয় হাসপাতালের মর্গে। দুই-তিন দিন অপেক্ষার পর পরিচয় না জানা গেলে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য লাশগুলো দিয়ে দেয়া হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ৬ মাসে শুধু ঢাকা শহর থেকেই অপহরণের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন পেশার ৪৮ জন মানুষ। এর মধ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ৩০ জনকে। হতভাগ্য এসব মানুষের মধ্যে ১২ জনের লাশ পাওয়া যায় গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও সাভার থানা এলাকায়। দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ১৪ জন এখনও নিখোঁজ। পরিবারের শংকা, এরা সবাই গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন।

সূত্রগুলো বলেছে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মিরপুরে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠান শেষে ধানমণ্ডির বাসায় ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যশোর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজমুল ইসলাম। রাতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে আসার পথে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাকে উঠিয়ে নেয়া হয় একটি গাড়িতে। পরের দিন তার লাশ মেলে গাজীপুরের শালনা এলাকার গহিন জঙ্গলে। এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ মামলা নিলেও তার তদন্ত হয়নি। এর ফলে বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলামের ঘাতক কারা আজও তা জানা যায়নি।

১৭ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীও নিখোঁজ হন একইভাবে। রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এনিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দল। ঘটনার প্রথম থেকে অভিযোগ অস্বীকার করলেও আইন-শৃংখলা বাহিনী এখন পর্যন্ত ইলিয়াস আলীর সন্ধান দিতে পারেনি।

গত বছরের ২ অক্টোবর পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক ও ঝুট ব্যবসায়ী আবদুল করিম হাওলাদারকে ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এখনও তার খোঁজ মেলেনি। করিমের স্ত্রী নাসিমা আক্তার বলেন, আটটি মাস বুকে পাথর বেঁধে বসে আছি। লোকটা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, তাও জানতে পারছি না। লাশ পেলে অন্তত সান্ত্বনা পেতাম। তিনি বলেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তির এভাবে নিখোঁজের পর সন্তানদের নিয়ে এখন তিনি নানা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্তভার যখন থানা থেকে ডিবিতে যাওয়ার পর প্রথমদিকে খোঁজখবর নেয়া হলেও এখন তারা এ বিষয়ে কথাও বলতে চান না।

রাজধানীর হাতিরপুল এলাকা থেকে ২৮ নভেম্বর রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম হাসান সোহেল, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ওরফে আল আমিন ও মাসুম হোসেন নামে তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়। অপহরণের প্রায় ১০ দিন পর ৮ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী থেকে পুলিশ দুটি গলিত লাশ উদ্ধার করে। এর একটি ইসমাইলের বলে তার স্বজনরা শনাক্ত করে নিয়ে যায়। অন্য লাশের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তা দিয়ে দেয়া হয় আঞ্জুমানকে। অপহরণের শিকার বাকি দু’জনের খোঁজ আজ পর্যন্ত মেলেনি। নিখোঁজ শামীমের ভাই সাইমুন ইসলাম বলেন, আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতিটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনকি ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতার কাছে ঘুরেও তিনি তার ভাইয়ের কোন খোঁজ মেলাতে পারেননি।

একটি দৈরিকের তথ্যে জানা যায়, গত বছরের ১৭ নভেম্বর মালিবাগ থেকে একসঙ্গে অপহূত হন ৭ জন। এরা সবাই ওই দিন সকালে ভোলার বোরহানউদ্দীন থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। পরস্পরের আত্মীয় এ ৭ যুবককে ধরে নেয়ার কিছুক্ষণ পর মোঃ মিরাজ ও শেখ সাদী নামের দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর ১০ দিন পর আশুলিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হয় এদের একজন জসীমউদ্দীনের লাশ। বাকিরা কোথায় এবং আদৌ বেঁচে আছে কিনা তা আজও তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেনি। জসীমউদ্দীনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ভাইয়ের লাশ পাওয়ায় তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু বাকি ৫ জনের লাশ না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও আশায় বুক বেঁধে আছেন। এদিকে অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মিরাজ ওই সময়ে এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে মিরাজ উল্লেখ করেন, অপহরণকারীরা তার মামাতো ভাই আকাশের ব্র্যাক ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যায়। ওই কার্ডের পিন নম্বর নিয়ে ঘাতকরা মৌচাক-শান্তিনগর এলাকার একটি বুথ থেকে টাকাও তুলে নেয়। মিরাজ জানায়, ব্যাংকের বুথে থাকা সিসি ক্যামেরার ছবি থেকে অপহরণকারীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে চেষ্টা চালালে হয়তো তাদের ধরা সম্ভব হতো। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোন ভূমিকা রাখেনি। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর মিরপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন চার ভাসমান ব্যবসায়ী কালাম শেখ, তার মামাতো ভাই আবুল বাশার শেখ, আবদুর রহিম ও যাত্রাবাড়ীর আতাউর রহমান ওরফে ইস্রাফিল। এখনও তাদের সন্ধান মেলেনি। এর আগে ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে সাদা পোশাকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ফেনীর সোনাগাজীর যুবলীগের নেতা সারোয়ার জাহানকে। তারও খোঁজ নেই বলে জানিয়েছেন তার ভাই আবদুর রহিম। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন লাইনে বাসার নিচ থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা কেএম শামীম আক্তারকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এখনও তার সন্ধান মেলেনি। তার পরিবারের শংকা, গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন শামীম। শামীমের স্ত্রী ঝর্ণা খানম বলেন, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের পর পুলিশের পেছনে অনেক ঘুরেছি, কিন্তু কোন লাভ হয়নি। শামীম বেঁচে আছে না মরে গেছে, এখন আমরা শুধু সেই তথ্যটাই জানতে চাই।

দৈনিকে ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, গত বছরের ২০ অক্টোবর সাভার থেকে নিখোঁজ হন রাজধানীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরু হাজী। এরপর ৩ ডিসেম্বর শ্যামলী থেকে নিখোঁজ হন তার মেয়ে জামাই আবদুল মান্নান। মান্নানের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন ইকবাল নামের আরেকজন। নূর হাজীর আরেক মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, অপহূত তাদের স্বজন কাওকেই এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। ‘অজ্ঞাত লাশ’র মিছিলে এসব মানুষ হারিয়ে গেছে কিনা এ নিয়ে সন্দেহে রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। গত বছরের ৩১ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে দুর্বৃত্তরা দয়াগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যায় জুয়েল সরদার, রাজীব সরদার ও মিজানুর হোসেন নামের তিন তরুণকে। জুয়েল ও রাজীব সম্পর্কে চাচাতো ভাই। এক সেনা কর্মকর্তা গাড়ি নিয়ে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এ দৃশ্য দেখে ফেলেন। তিনি অপহরণকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য বলে ওই সেনা কর্মকর্তার কাছে পরিচয় দেন। এরপর ওই সেনা কর্মকর্তা সেখান থেকে চলে যান। এর পাঁচ দিন পর রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের পূবাইলে পাওয়া যায় জুয়েল আর মিজানের লাশ। অন্যদিকে রাজীবের লাশ মেলে ঢাকা-মাওয়া সড়কের পাশে সিরাজদিখানের নিমতলীতে। তিনজনেরই হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তিনজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ৪ জুলাই টিকাটুলীর রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে থেকে সজল ও ইমরান নামে দুই তরুণকে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা। প্রায় আট দিন পর ১২ জুলাই সজলের লাশ পাওয়া যায় আশুলিয়ার ঢাকা-বাইপাল সড়কের পাশে সমরসিংহ গ্রামে। পরদিন ১৩ জুলাই ইমরানের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় ঢাকা-মাওয়া সড়কের পাশে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ার একটি ইটভাটায়। এবছর মাটিকাটা এলাকায় বসবাসরত জাতীয় পার্টির নেতা এম. এইচ. খান দিপু নিখোঁজ হন দুপুরের পর। পরদিন মেডিক্যাল কলেজের মর্গে তার লাশ শনাক্ত করা হয়। জানা যায়, সাভারের একটি ইটভাটা থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় তার গুরিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেলে পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নিয়ে আসে।

এভাবে সারাদেশে সামপ্রতিক সময়ে গুম ও নিখোঁজের ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে। অনেকেই পরে লাশ হয়ে উদ্ধার হলেও অনেকের খোঁজ আর কখনও মেলেনি। আর এই অবস্থায় নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারবর্গ সারা জীবন খুঁজে ফিরবে তাদের নিকটজনকে। মানুষ মারা গেলে তাকে শেষ দেখাটি অন্তত হয়। কিন্তু নিখোঁজ ও গুমের ঘটনাগুলো এমন অমানবিকভাবে ঘটছে যে, সেগুলোর অধিকাংশই সারা জীবন ধোয়াসে রয়ে যাচ্ছে। আজীবন তাদের পরিবার ও নিকটজন শুধু খুঁজেই যাবে!

আজ এই অবস্থায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেশ সোচ্চার। তারা মনে করেন, মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি সরকারকেই দিতে হবে। এই দায়িত্ব থেকে সরকার সরে আসতে

Advertisements
Loading...