পাবনা সুগার মিলে দুই কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য ॥ ভাগাভাগি নিয়ে ভাংচুর-হট্টগোল

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥ ঈশ্বরদীর পাবনা সুগার মিলে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে তুলকালাম ঘটেছে। এ ঘটনার জের ধরে সুযোগবঞ্চিত ১৬ নেতা একত্রিত হয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি এবং সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ইউনিয়ন অফিস থেকে বের করে দেন। এরপর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতারা অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেন।

২ আগস্ট নিয়োগ-বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে শ্রমিক নেতাদের রুদ্ধদার বৈঠকে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সুগার মিলে এবার দুই কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের একাধিক বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতা এবং টাকা দিয়েও চাকরিবঞ্চিতরা জানান, পাবনা সুগার মিলে বিভিন্ন পদে ১ আগস্ট ৭৮ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়। তারা জানান, প্রতিটি পদের জন্য জনপ্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে ঘুষ নেয়া হয়। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, অলিখিত নিয়মানুযায়ী ঘুষ বাণিজ্যের একটি অংশ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্যদের মাঝে পদ অনুসারে বণ্টন করার কথা ছিল। ১ আগস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়। পরের দিন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতারা ইউনিয়ন অফিসে এ বিষয়ে বৈঠকে বসলে সভাপতি মোঃ ইব্রাহীম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বলের সঙ্গে বাকি ১৬ জন নেতার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা হট্টগোলে রূপ নেয়। সে সময় বিক্ষুব্ধ ১৬ নেতা একত্রিত হয়ে সুগার মিলে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি/সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করেন। এক পর্যায়ে সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বলকে ইউনিয়ন অফিস থেকে বের করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতারা।

পাবনা সুগার মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক রমযান আলী জানান, ‘এবারের নিয়োগে তাদের নির্বাহী কমিটির দাবি ছিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহ-সভাপতির ছেলে এবং যুগ্ম সম্পাদকের ভাজিতার চাকরি দিতে হবে। কিন্তু প্রথম দিকে সভাপতি এবং সম্পাদক রাজি থাকলেও পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে বেইমানি করে অন্য জায়গায় বেশি টাকা পেয়ে তারা সেই চাকরি বেচে দিয়েছেন।’

পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক লীগের এক প্রভাবশালী নেতা জানান, এবার চাকরি দেয়ার নামে মিলের প্রশাসন ও সিবিএ সভাপতি এবং সম্পাদক মিলে প্রায় দুই কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। যার বড় একটি অংশ ভাগবাটোয়ারা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার মধ্যে। এরই অংশ হিসেবে মিল গেট এলাকার একজন চায়ের দোকানদারের ছেলে মিরাজুলের কাছ থেকে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল মোটা অংকের টাকা নিয়েও তাকে মিলে চাকরি দেয়নি। আর এ কারণে মিরাজুল আত্মহত্যার জন্য সিডাকসিন খেয়ে রাস্তায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে সুগার মিলের ডাক্তাররা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

সূত্রে জানা গেছে, টাকা দিয়েও আয়নাল ও ইব্রাহীম নামের আরও দুই যুবক চাকরি না পেয়ে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এসব বিষয়ে পাবনা সুগার মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, নিয়োগের জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। আর এবারের নিয়োগে আমাদের কমিটির দুই জনের চাকরি না হওয়ায় তারা অসন্তুষ্ট হয়ে চেঁচামেচি করেছেন। তবে কারও বিষ খাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও জানান।

Advertisements
Loading...