“আর যাই বলুননা কেন জনদুর্ভোগ বলা যা-বে না!”

এ.বি.এম. শরীফুল আলম ॥ যাজনট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে ইতিপূর্বে অনেকবার লেখা-লেখি হয়েছে। ৬ আগষ্ট /২০১২ প্রথম আলো পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় ছবি সহ সড়ক মহাসড়কের করুন চিত্রটি সত্যিকার অর্থেই ফুটে উঠেছে।

যোগাযোগমন্ত্রী ও সড়ক বিভাগ বনাম প্রিন্টিং ও বেসরকারী ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া গুলোর মধ্যে রীতিমত প্রকাশ্যে যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। গত ৭ আগষ্ট /২০১২ যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যানজট দর্শণে যাবেন বলে, মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তাগণ গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে ওবায়দুল কাদের বাংলামোটর থেকে হেঁটে ফার্মেগেট পর্যন্ত যানজট দর্শণের প্রেক্ষিতে খামারবাড়ী, মিরপুর, গাবতলী, মহাখালী ও শাহাবাগে যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। তাই রাসেল আহমেদ নামক এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইফতারের আগে যানজট দর্শনের এই নাটক, দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে ্তিুয়েছে। মানুষের এখন আর নাটক দেখার সময় নেই, পারলে কিছু করে দেখান। রাসেল আহমেদের এই ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই আর যাই বলুনা কেন জনদুর্ভোগ বলা যা-বে না!

যাত্রাবাড়ী থানার বিবিরবাগিচা ও আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ডেমরা রোডে বিবিরবাগিচা এবং ২,৩ ও ৪ নম্বর রোড এলাকায় টানা বড় গর্ত খোঁড়ায় স্থানীয়দের যাতায়াতের পথ প্রায় বন্ধসহ পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ ফেটে যাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ময়লা পানি, বিচ্ছিন্ন হয়েছে যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের টেলিফোন সংযোগও। এছাড়াও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠাণ আলী এন্ড কোং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে চারফুট প্রশস্ত ও চারফুট গভীর গর্ত খোঁড়ে প্রতি ট্রাক মাটি পাঁচশত টাকা করে বিক্রয় করা সহ স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য নিজ খরচে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ এবং পাইপ কেনার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আসলামের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হয়, তাঁর প্রতিবেশি এক বাড়িওয়ালা আপাতত দুই হাজার টাকা দিয়েছেন ঠিকাদারের লোকদের ।
ডিসিসি দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, এলাকার জলাধার গুলো আগে ভরাট করে ফেলায় পানি যাওয়ার পথ নেই। তাই কাঁচা নর্দমা তৈরি করতে হচ্ছে (প্রথম আলো ৯ আগষ্ট/২০১২) এখন মজার ব্যাপার হলো পুকুর খনন, পুকুর বা জলাধার ভরাটকরণ, রাস্তাকর্তন ও গৃহ নির্মাণ ও পূননির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন/পৌরসভা থেকে প্রাগ অনুমোদন নেওয়ার আইন ও বিধান আছে। সিটি করপোরেশন থেকে যদি অনুমোদন নিয়ে কেহ জলাধার ভরাট করে থাকেন তাহলে ভবিষ্যতে পয়ঃনিষ্কাশনসহ সকল প্রকার উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্ত-বায়নের ক্ষেত্রে যে সকল জটিলতার সৃষ্টি হবে, সে বিষয়টি আগেই ভাবা উচিৎ ছিল। এ ছাড়াও প্রাচীতম ঢাকা পৌরসভা তথা পরবর্তীতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মাষ্টার প্ল্যান অবশ্যই আছে। কার্যকর মাষ্টার প্ল্যান অনুযায়ী যদি উন্নয়ন মূলক কাজ পরিচালিত হত, তবে বর্তমানে রাজধানীর এই বিচিত্র ও বেহালদশা জনগনকে ভোগ করতে নাও হতে পারত ? আর যদি ডিসিসির অনুমতি ব্যাতিত জলাধার ভরাট করা হয়ে থাকে তাহলে অবৈধ জলাধার ভরাটকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল তা বিশিষ্ট জনদের সঙ্গে আমারও প্রশ্ন? কারণ একদিনে বা একরাতের ভিতরে জলাধার গুলো ভরাট করা মোটেই সম্ভব নয় বলে আমার সাথে একমত পোষণ করবেন সকল রাজধানীবাসিও। জলাধার গুলো ভরাট করনের বিষয়টি একটু বেসদ্ভবও বটে!আরও মজার ব্যাপার হলো যদি পয়ঃনিষ্কাশনের স্বার্থে নর্দমা তৈরি করতেই হয় তবে তার প্রস্তুতি বর্ষামৌসুমে কেন? তাও আবার ঠিক ঈদের আগমুহূর্তে কেন? এ সকল বিষয়গুলো বুঝতে বাকি নেই অন্ততপক্ষে ভূক্তভোগিদের। কথায় বলে না, দেওয়ালেরও কান আছে? ৯ আগষ্ট/২০১২ প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় সিলেট থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রীবাহী বাস মঙ্গলবার গভীর রাতে বিবিরবাগিচা এলাকায় ডিসিসি ্তুক্ষিণ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ঠিকাদারের খোঁড়া গর্তে কাত হয়ে পড়েছে, ঢাকা অভিমুখে আগত বাসটি। হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেছে কী না জানা নেই। একটি ট্রাকও খোঁড়া গর্তে পড়ে উল্টে আছে।

এরকম একটি দুইটি বাস-ট্রাক কেন হাজার হাজার বাস-ট্রাক উল্টে পড়ে লক্ষ লক্ষ যাত্রীর মৃত্যুবরণ সহ কোটি কোটি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করলেও দেখার কেউ নেই! অপ্রিয় হলেও কথাটি সত্য।

গত ২৮ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার বিগত ৫/৬ বছরের মধ্যে প্রথম একটু ভাড়ী বৃষ্টিপাত হয়েছিল। আবহাওয়াবিদদের দেওয়া তথ্য মতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার। অতীতের যে কোন সময়ের সাথে তুলনা করলে এ ধরনের বৃষ্টিপাতকে তেমন একটা ভাড়ী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচ্য করা যায় না। ঐ দিন আমি মদনপুর থেকে সোঁনারগাও এক্সপ্রেসে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হই। বিকেলের দিকে দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনে যানযটে আটকা পড়ি। রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষ ও পথচারীদের যানযটের বিষয়টি একরকম গাসহায় হয়েগেছে। কিন্তু সে দিনের প্রেক্ষাপট ছিল একটু ভিন্ন হতে ভিন্নতর। কারণ দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মার্কেটের সামনেই সময় কেটেগেল ঘণ্টা তিনেক। গাড়ীর চাক্কা সামনের দিকে অর্ধেক ঘোরে তো ঘোরে না, এমন একটা পরিস্থিতি। গাড়ী থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে হেটে সামনের দিকে অগ্রসর হবো, তারও কোন উপায় নেই। রাস্তার উপর কোথাও এক হাটু আবার কোথাও বা কোমর পরিমাণ ময়লা ও উৎকট দূর্গন্ধ পানি। কোথাও কোথাও ফুটপাতের উপরও পানি। ভ্যাপসা গরম ও উৎকট দূর্গন্ধে যেন যাত্রীদের মুখোচ্ছবির বিকৃতি ঘটেছে। এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ঘণ্টা তিনেক সময় কাটানোর পর বাসটি সম্মুখের দিকে ৮/১০ হাত অগ্রসর হলো, সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি দু’টি বাস ও একটি ট্রাক ম্যানহলের গর্তে আটকা পড়ে আছে। এ্যামবুলেন্স সহ পুলিশ ভ্যান গুলোর ভে-পু’র শব্দ ও পুলিশের বাসির শব্দে কান ঝালা-পালা হয়ে উঠতে লাগল। তারপর পিছনের ডানদিকে দেখতে পাই র‌্যাকার। শতশত নারী ও পুরুষ ময়লা ও উৎকট দূর্গন্ধ পানিতে নেমে জামাকাপড় ভিজিয়ে কর্দমাক্ত দেহটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলতে থাকলো। পরক্ষণের মধ্যেই দৃশ্যত হলো র‌্যাকার এর হুক একটি বাসের সামনের বাম্পারে সংযুক্ত করে পিছনের দিকে এগোতে থাকলো আর বাসটি গর্ত থেকে উদ্ধার হয়ে সম্মুখের দিকে অগ্রসর হতে থাকলো। বাসের যাত্রী ও আশেপাশের লোকজনের আনন্দ উল্লাসে মনে হয়েছিল যেন মঙ্গল গ্রহে পৌঁছেগেছে, ভাবখানা যেন ঠিক তেমনটাই! আর এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বাসের ড্রাইভার আরও এক ধাপ সামনের দিকে বা পাশ চেপে এগিয়ে এসে থেমে গেল অফুরন্ত সময়ের জন্য। বাসের বা দিকের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ডাব খেয়ে কোন এক হতভাগা ডাবের খুলি ফেলেছিল রাস্তার ও’পর। ঠেলা-ধাক্কা ও গুতা-গুতি খেয়ে ডাবের খুলিটি ভেসেভেসে বাসের দরজা ও ফুটপাতের মাঝামাঝি অবস্থায় ডুবু ডুবু হয়ে পড়ে ছিল, কোন এক ক্ষমতাধর ব্যক্তির পায়ের স্পর্শের অপেক্ষায়! এরই মধ্যে দু’এক জন্য যাত্রী ঐ ডাবের খুলির উপর পা রেখে ফুটপাতে উঠে হেটে যাচ্ছেন, আমিও ঠিক তেমনটাই করলাম। উভয়দিকে গাড়ীগুলোর চালক যে যেরকম সুযোগ পেয়েছিলেন সে তেমনটাই সৎব্যবহার করতে একটুও কৃপণতা বোধ করেন নি। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। সকল ধরনের যানবাহনগুলো যার যার মতো অবস্থান নিয়ে খানবাহাদুর সেজে, ষ্ট্রার্ট বন্ধ করে অপেক্ষামান অবস্থায় দাঁড়িয়ে রইল।

আমি সামনের দিকে পায়ে হেঁটে অগ্রসর হতে থাকি। জয়কালী মন্দির রোডে র‌্যাবের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে হাটখোলা রোড দিয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বর হয়ে আরামবাগে আসি। এই দীর্ঘ সময় ধরে ধাক্কা-ধাক্কি ও কর্দমাক্ত দেহটাকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। আমার বিবিসাহেব আৎকে উঠে বলেন, কী হয়েছে? সরকার বিরোধী কোন মিছিলে আটকা পড়ে কী মিছিলকারীদের ও পিকেটারদের আঘাতে আহত হয়েছ? না কী সরকারের বেপরোয়া পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের লাঠিপেটা খেয়েছো? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি শান্ত হও ক্লান্তিটা দূর হলে সবকিছু খুলে বলব। আমার বিবিসাহেবকে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করলাম। ঘটনার বর্ণনা শুনে হতভাগিনির নয়ন জুড়ে টস-টসে ডালিমের রসে স্বিক্ত হয়ে উঠল তার দু’চোখ।

ডিসিসি দক্ষিণ এর হেয়ালিপনায়, সরকারের উদাসীনতায় ও অপরিকল্পিত ভাবে শুরচ হয়েছে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। উদ্দোগটা যে অত্যান্ত মহৎ ও ভালো তা নি:সন্দেহে বলা যায়। ২০১১ সালের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও আমাদের দেশে কোন কাজই সময় মত শেষ হয় না। সময়মত কাজ শেষ না করাটাও ঠিকাদারদের একটা ট্রেডিশন। চুরি, ডাকাতি অথবা ছিনতাই করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পরে গণপিটুনি খেয়ে জেল হাজত খেটে, মুক্তি পেয়ে গলায় ফুলের মালা ঝুলিয়ে এসে বলে নেতাগিরি করতে গিয়ে জেল খেটেছি। অমানবিক নির্যাতন করে আমাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছিল সরকার, আমার দল ক্ষমতায় এলে এক হাতের জাগায় দশ হাত দেখে নিয়ে ছাড়বো। এখন চুরি, ডাকাতি বা ছিন্তাই করে গণপিটুনি খেয়ে ধরা পরলেও রাজনৈতিক নেতার সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। সুতরাং ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে অতীতে একটু আটটু ঢিলে-ঢালা থাকলেও বর্তমানে খুবই চাঙ্গা। কারণ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আছে মাত্র দেড় বছর। তাই ক্ষমতা থাকতেই যে ভাবেই হোক না কেন ফ্লাইওভারের কাজ সম্পন্ন করতে পারলে শ্বেতপাথরে নাম লেখাটা সহজ হবে। কারণ শ্বেত পাথরে নাম লেখিয়ে ক্রেডিট কার্ড হাতে পাওয়া বড্ড বাপের বেটার কাজ! তাই অপরিকল্পিত ভাবে খোঁড়া-খুঁড়ি ও তাড়াহুড়া করে কাজ সম্পন্ন করাটাই ক্রেডিট কার্ড হাতে পাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য। জনগণকে বোনাস হিসেবে একটু বাড়তি দুর্ভোগা পোহাতে হচ্ছে এটা তেমন কোন আলোচ্য বিষয় নয়।

জনগণের করের বোঝা বাড়িয়ে বিদেশ থেকে রই-কাতলাদের জন্য গাড়ী ও জ্বালানী আমদানী করে একটির জায়গায় বোনাস হিসেবে ২/৩ টি গাড়ী ব্যবহার করার দুঃসাহস চাট্টিখানি কথা নয়। তাই লক্ষ লক্ষ টাকার জ্বালানী দীর্ঘ যানজটে পড়ে অপচয় হোক এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের মূল্যবান সময় আস্তাকুড়ে পড়ে থাকুক, যেন চক্ষুমেলিয়ে দেখার কেও নেই! তাহলে এ অবস্থা থেকে জনগনের পরিত্রাণ পাওয়ার কী কোন উপায় নেই? পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় অবশ্যই আছে। একটি ছোট গল্প বলছি, তাতে অতী সহজেই পরিত্রাণের পথ খোঁজে পাওয়া যাবে। আমাদের মুসলমানদের যেমন ধর্মসভা হয়, ঠিক তেমনি মুচিদেরও বছরান্তে ধর্ম সভা হয়। মুচিদের র্ধম যাজক বক্তব্যে বলেন, রাম না ডাকলে স্বর্গে যাওয়ার কোন উপায় নেই। র্ধম যাজকের এই কথা শুনে মহাবিপদে পড়ে যায় বয়োজৈষ্ঠ মুচিরা। তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল! আকাশ ভেঙ্গে পড়ার কারণ তাদের নিজেদের জন্য নয়, দেশপ্রেমে উদ্বোধ্য হয়ে ভাবতে থাকলেন বয়োজৈষ্ঠ মুচির দল। মুচিদের মুখোচ্ছবি মলিন ও বিবর্ণ দেখে আশ্চার্য্য হয়ে ধর্ম যাজক প্রশ্ন করলেন ব্যাপারটা কী? এত চিন্তিত কেন? আপনারাতো হর হামেসায় রাম-রাম জপেন, সুতরাং আমার বিশ্বাস আপনারা অবশ্যই স্বর্গে যাবেন। তখন এক বয়োজৈষ্ঠ মুচি ধর্ম যাজককে প্রশ্ন করেন, তা হলে তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের স্বর্গে যাওয়ার কোন উপায়ই নেই? ধর্ম যাজক প্রশ্ন শুনে নিজেও চিন্তিত ও বিমূর্ষ হয়ে পড়লেন। ঠিক ঐ মুহূর্তে ১০/১২ বছরের এক মুচির বাচ্চা বলে উঠল, মুসলমানদেরও স্বর্গে যাওয়ার উপায় আছে………আছে। তখন ধর্ম যাজক প্রশ্ন করলেন, কেমন করে? উত্তরে মুচির বাচ্চা বলেন, ঐ যে মুসলমানেরা যে, হা-রাম কহিতে যে রাম কহে সেখানেই একটু উপায় আছে।

# এ.বি.এম. শরীফুল আলম, কবি ও সাহিত্যিক।

Advertisements
Loading...