বাংলাদেশী ছাত্রের সততা: মুগ্ধ হলেন মাহাথির কন্যা মারিনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশীদের সুনাম বা খ্যাতি রয়েছে বিশ্বব্যাপি। আর তাই বাংলাদেশীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানাভাবে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। এবার সুনাম কুড়ালেন এক বাংলাদেশী ছাত্র মালয়েশীয়ায়। বাংলাদেশী ছাত্রের সততায় মুগ্ধ হলেন মাহাথির কন্যা মারিনা মাহাথির।

Bangladeshi student integrity

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের সুনাম বা খ্যাতি রয়েছে। গরীব দেশের মানুষ হলেও চালে-চলনে বাংলাদেশীরা সব সময় সততার পরিচয় দেন। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শোনাও যায়। তবে এবার শোনা গেলো মালয়েশীয়ানদের কাছ থেকে। যদিও আগের অনেক সুনাম অর্জন করে বাংলাদেশীরা। আর সে জন্য স্টুডেন্ট থেকে শুরু করে শ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে।

Bangladeshi student integrity-3

এবার বাংলাদেশীদের সুনাম ও সততার পাল্লা ভারী করেছেন এক বাংলাদেশী ছাত্র। এই সাধুবাদ এসেছে মালয়েশীয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মাহাথির মোহাম্মদের কন্যা মারিনা মাহাথিরের কাছ থেকে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মনির হোসেন নামে বাংলাদেশী এক ছাত্র মাহাথির কন্যার লক্ষাধিক টাকার জিনিস কুড়িয়ে পেয়েও তা ফেরত দিয়ে করেছেন নতুন এক সততার দৃষ্টান্ত।

মনির স্বপ্নের মালয়েশীয়ায় আসেন ২০১৩ সালে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের একমাত্র ছেলে মনির। মালয়েশিয়ার সেরেম্বান নাইটিঙ্গেল কলেজের ডিপ্লোমা ইন বিজনেসের ছাত্র মনির হোসেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় আর দশটা বাংলাদেশীর মতোই তাকেও কাজ করে পড়াশোনা খরচ চালাতে হয়। মনির পার্ট টাইম কাজ করেন বুকিত বিনতানের লয়াত প্লাজায় ‘কাবাব তুর্কি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে। সপ্তাহে চারদিন তাকে কাজ করতে হয়। এই রেস্টুরেন্ট কাবাব তুর্কিতে প্রতিদিন প্রচুর কাস্টমার আসেন।

একদিন কাজ শেষে মনির দেখতে পান কারো একটা ব্যাগ পড়ে রয়েছে। ব্যাগ খুলে দেখতে পান ভেতরে মালয়েশীয়ার মুদ্রায় ৩ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটা আইপ্যাড, একই মূল্যের একটা আই মোবাইল ফোন, ২টা ব্যাংক কার্ড এবং আরও রয়েছে বেশ কিছু দরকারী কাগজপত্র। ব্যাগে তিনি একটা ভিজিটিং কার্ডও পান, যাতে লেখা ছিল মারিনা মাহাথির।

বাংলাদেশী এই ছাত্র মনির হোসেন কার্ড হতে নম্বর নিয়ে ফোন দেন মারিনাকে। অপর প্রান্ত হতে ফোন রিসিভ করে মারিনার নিরাপত্তা কর্মী। মনির তাকে ব্যাগের বিষয়টি জানালে তারা চলে আসেন রেস্টুরেন্টে। মনির এ সময় মারিনার পরিচয় পেয়ে বিস্মিত হন মনির। তবে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া ব্যাগসহ দামি জিনিসপত্র ফেরত দিতে অনীহা প্রকাশ করেন মনির হোসেন।

নিরাপত্তা কর্মীরা মারিনার সঙ্গে কথা বলে এবং তার ছবি দেখিয়ে ব্যাগ ফেরত নেয়। এ সময় তারা মনিরকে কিছু আর্থিক পুরস্কার দিতে চাইলেও মনির তা নিতে অস্বীকার করেন। পরে মারিনার নিরাপত্তা কর্মীরা মনিরের ছবি তুলে নিয়ে চলে যান।

Bangladeshi student integrity-2

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এরপর মাহথির কন্যা মারিনা তার ফেসবুকে ওয়ালে মনিরের ছবি আপলোড করে মনিরের সততার বিবরণসহ স্ট্যাটাস দেন। তিনি স্ট্যাটাস-এ লেখেন, ‘মনির একজন সৎ ছেলে। শত পরিশ্রম করেও তার কোনো লোভ জাগেনি। সত্যি বাংলাদেশীরা অনেক সুন্দর।’
(‘Everyone, meet Munir Hossain(on the right), the kebab seller who returned me my iPad. If you’re ever in Low Yat Plaza, go to the basement food court and say hello to a nice man.’)

ফেসবুকের ওই স্ট্যাটাসের পর মুহূর্তের এ খবর সেদেশের নাগরিকসহ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ে। মনিরকে অভিনন্দন জানান মালয়েশীয়ান অন্যান্য নাগরিকরাও।

এ ঘটনার পর মনির সংবাদ মাধ্যমকে তার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘প্রতিটি মানুষকে নিজের জায়গা হতে সৎ থাকা উচিত। পরের কিছুতে লোভ করে কখনও বড় হওয়া যায় না। বড় হতে হলে সততা থাকতেই হবে। আমাদের কাজেই বিদেশীরা আমাদের ভালবাসবে।’

মনিরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, কোটি কোটি টাকা দিয়ে যা অর্জন করা যায় না। তা অর্জন করা সম্ভব একমাত্র বিশ্বাস দিয়ে। আর এই বিশ্বাস আসে সততার মাধ্যমে। মানুষ হিসেবে আমাদের সেটিকেই ধরে রাখা উচিত। তাহলে সমাজে এতো হিংসা-হানাহানি কিছুই থাকবে না। তাহলে পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া আমাদের সার্থক হবে।

Advertisements
Loading...