বাগেরহাটের ঐতিহাসিক দরিয়া খাঁ’র মসজিদ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। আজ শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০১৫ খৃস্টাব্দ, ২২ ফাল্গুন ১৪২১ বঙ্গাব্দ, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬ হিজরি। দি ঢাকা টাইমস্ -এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ সকাল। আজ যাদের জন্মদিন তাদের সকলকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন।

Doria-Kha-Mosque

যে ছবিটি দেখছেন সেটি বাগেরহাটের ঐতিহাসিক দরিয়া খাঁ’র মসজিদ। হযরত খানজাহান (রহ:) এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর এই দরিয়া খাঁ’র মসজিদটি আজ বিস্মৃতপ্রায় নাম। স্থানীয় গ্রামবাসী, এমনকি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাগজপত্রেও মসজিদটি এখন ‘রণবিজয়পুর এক গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই মসজিদটি বাংলাদেশে সংরক্ষিত মুসলিম যুগের এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ।

ইউনেসকো প্রাচীন মসজিদের শহর বাগেরহাটে খানজাহানের সময়কালের সব স্থাপনাকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে। জানা যায়, দরিয়া খাঁর মসজিদও এই বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। নামটি বেমালুম বদলে ফেলায় একদিকে যেমন বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতির অবমূল্যায়ন হচ্ছে, আবার অন্যদিকে যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মূল্যবান ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।

বাগেরহাট-খুলনা সড়কে হযরত খানজাহান (রহ:) এর মাজার মোড় হতে উত্তরমুখী যে রাস্তাটি রণবিজয়পুর গ্রামে প্রবেশ করেছে, সেটি ধরে সামান্য গেলেই ‘ফকিরবাড়ি’ চৌরাস্তা মোড়। আর এই ফকিরবাড়ির প্রবেশপথের পাশেই ৬শ’ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই দরিয়া খাঁ’র মসজিদ।

ফকিরবাড়ির অন্যতম জেষ্ঠ সদস্য বেলাল ফকির (৬২) সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দরিয়া খাঁর মসজিদ এবং মসজিদের দক্ষিণ দিকের দিঘিটি দরিয়া খাঁর দিঘি নামেই পরিচিত ছিল। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা এখনও এই নামেই মসজিদটি চেনেন। মসজিদের পাশের সুন্দর বাঁধানো কবরটি হজরত দরিয়া খাঁর বলে সকলের ধারণা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংরক্ষণের সময়ে মসজিদের সঙ্গে দরিয়া খাঁর নামটি সংযুক্ত রাখা কিংবা কবরটির প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা কেও করেনি। এই মসজিদটি লোকমুখে ‘রণবিজয়পুর এক গম্বুজ মসজিদ’, আবার কখনওবা ‘ফকিরবাড়ি মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

জানা যায়, ১৯১৪ সালে প্রকাশিত সতীশ চন্দ্র মিত্রের যশোর-খুলনার ইতিহাস বইয়ে হযরত খানজাহান (রহ:)-এর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে যাঁদের নামের উল্লেখ পাওয়া যায়, তাঁদের অন্যতম হলেন এই দরিয়া খাঁ। এই বইয়ে ‘খালিফাতাবাদ’ শিরোনামে দেওয়া বর্ণনায় রণবিজয়পুর গ্রামে দরিয়া খাঁর মসজিদের কথা উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে মসজিদটিতে দড়িতালুক, রণবিজয়পুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মুসল্লিরা নিয়মিতভাবে নামাজ আদায় করেন এই ঐতিহাসিক দরিয়া খাঁ’র মসজিদে।

তথ্যসূত্র: bagerhatinfo.com এর সৌজন্যে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...