কুসংস্কার আর নয়: তেঁতুলকে না নয়!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক: তেঁতুল খেলে নাকি বুদ্ধি কমে যায় – আমরা কম বেশি সবাই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, আবার অনেকেরই ধারণা, তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং রক্ত পানি হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর ভেষজ ও পুষ্টিগুণ। তেঁতুলের পুষ্টি গুণ দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী। রক্তে কোলস্টেরল কমানোর কাজে তেঁতুলের আধুনিক ব্যবহার হচ্ছে।


535025_366492853459181_680089293_n

পরিচিতিঃ আঞ্চলিক নাম তেঁতুল , ইংরেজি নাম ট্যামারিন্ড এবং বৈজ্ঞানিক নাম ট্যামারিন্ডাস ইনাইডকা ।

জাতঃ দেশের সর্বত্র কম বেশি তেতুল চাষ হয় । এর কোন অনুমোদিত জাত নাই।

পুষ্টিগুণঃ তেঁতুলের খাদ্যশক্তি আসে মূলত শর্করা থেকে। প্রতি ১-২ কাপ তেঁতুল থেকে ১৪০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যার মধ্যে থাকে ৩৪ গ্রাম শর্করা, ৩ গ্রাম খাদ্যআঁশ ও ২ গ্রাম আমিষ। তেঁতুলে ফ্যাট নেই একেবারেই। এ ছাড়া এটি ভিটামিন সি এবং আয়রনের ভালো উৎস। ভিটামিন-বি না থাকলেও তেঁতুল বি-ভিটামিন্স, থায়ামিন ও নিয়াসিনে বেশ সমৃদ্ধ। এতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতিও আছে প্রচুর পরিমাণে।

ঔষধিগুণঃ

*তেতুল একটি জনপ্রিয় ভেষজ ফল। পেটের বায়ু নাশক এবং হাত-পা জ্বালাপোড়া উপশমে তেতুলের শরবত উপকারী।

* তেতুলের কচি পাতা সিদ্ধ করে পানি সেবন করলে সর্দি-কাশি ভাল হয়।

* তেতুলে টারটারিক এসিড থাকে যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

* মাথাব্যাথা, কচু, ধুতরা ও এ্যালকোহলের বিষাক্ততা তেতুলের শরবত পানে নিরাময় হয়।

*উচ্চ রক্তচাপ নিরাময়ে তেতুলের শরবত কাজ করে এবং প্যারালাইসিস অঙ্গের অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

* গাছের ছালের গুড়ো দাঁত ব্যাথা, হাপানি, ও চোখ জ্বালাপোড়া উপশমে কাজ করে।

* * আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় তেঁতুলকে গ্যাস্ট্রিক ও হৃদরোগের নিরাময়ে এবং তেঁতুল ফুলের জুস পাইলস নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।

*তেঁতুল রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। মেদ-ভুঁড়ি কমায়। পেটে গ্যাস হলে তেঁতুলের শরবত খেলে ভালো হয়।
* পাকা তেঁতুল কফ ও বায়ুনাশক, খিদে বাড়ায় ও উষ্ণবীর্য হয়। তেঁতুল গাছের বাঁকল, ফুল, পাতা, বীজ ও ফল সবই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়!

*তেঁতুল পাতার রস কৃমিনাশক ও চোখ ওঠা সারায়। মুখে ঘাঁ বা ক্ষত হলে পাকা তেঁতুল জলে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায়। বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরানো ও রক্তের প্রকোপে তেঁতুল উপকারী |

নিষেধাজ্ঞাঃ পটাশিয়াম ও অক্সালিক এসিডের আধিক্যের জন্য কিডনি রোগীদের তেঁতুল খাওয়া নিষেধ। জন্ডিসের ক্ষেত্রেও তেঁতুল নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম তেঁতুলে পুষ্টি উপাদানঃ

উপাদান       পরিমাণ             দৈনিক চাহিদারপূরণকৃত অংশ
খাদ্যআঁশ      ৫.১ গ্রাম-           ১৩%
থায়ামিন       ০.৪৩ মিলিগ্রাম     ৩৬%
নিয়াসিন       ১.৯৪ মিলিগ্রাম     ১২%
ভিটামিন সি    ৩.৫ মিলিগ্রাম       ৬%
পটাশিয়াম     ৬২৮ মিলিগ্রাম      ১৩%
আয়রন        ২.৮০ মিলিগ্রাম     ৩৫%
ম্যাগনেসিয়াম ৯২ মিলিগ্রাম    ২৩%
কপার          .৮৬ মিলিগ্রাম       ৯.৫%
ক্যালসিয়াম    ৭৪ মিলিগ্রাম      ৭%

সুত্রঃ বাংলানিউজ২৪.কম

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...