স্মার্ট বাদাম বিক্রেতা তাহমিনার গল্প!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যে কোনো কাজ কারো কাছেই ছোট নয়, সেই প্রমাণ করলেন লালমাটিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাহমিনা। আজ রয়েছে সেই স্মার্ট বাদাম বিক্রেতা তাহমিনার গল্প!

Smart nut seller Tahmina story

প্রকাশিত একটি খবরে জানা যায়, রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ছোট-ছোট ঠোঙ্গায় করে কী যেনো ফেরি করছিলেন এক তরুণী। প্রথম দেখায় যে কারোর পক্ষে তরুণীটিকে ফেরিওয়ালা বলে কখনই মনে হবে না। কারণ তার কানে রয়েছে সাদা হেডফোন, নেভি ব্লু রঙের শার্ট, পায়ে কনভার্স আর পরনে জিন্স! এতেই ফুটে উঠেছে তার অভিজাত পরিচয়।

কিন্তু খুব কাছে গিয়ে দেখা গেলো- পিঠে ব্যাগ এবং গলায় ঝুলানো বাঁশের মাঝারি ঝুড়ি। ছোট-ছোট ঠোঙ্গায় ভরে বাদাম ফেরি করছেন তরুণীটি। এমন দৃশ্য দেখে সবাই অবাক!

প্রশ্ন করতেই নাম বললেন- তাহমিনা রহমান। বয়স ২৩। পরিবার ও বন্ধুরা তাকে ডাকেন ‘কথা’ বলে।

Smart nut seller Tahmina story-3

তার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, লালমাটিয়া মহিলা কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। তার জন্ম মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায়। এখন বসবাস করেন ধানমন্ডিতে। বাবা হাবিবুর রহমান সাটুরিয়া হাসপাতালে চাকরি করেন; একই হাসপাতালে কাজ করতেন তার মা আয়েশা হাবিবও। তবে ২০০৮ সালে মা মারা যান। এরপর হতে একা হয়ে পড়েন বাবা। পড়াশোনা সূত্রে বাবাকে ছেড়ে মেয়েকেও ঢাকায় থাকতে হচ্ছে।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তাহমিনার মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য সুযোগ এসেছিল। পুরো পরিবার মালয়েশিয়ায় স্থায়ী হতে চাইলেও বেঁকে বসেন তাহমিনা। দেশের মাটিতেই কিছু একটা করার ইচ্ছে জাগে তার।

Smart nut seller Tahmina story-4

যেকোনো পেশাকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো মনোভাব প্রবল স্বাধীনচেতা ইচ্ছা জন্মলগ্ন হতেই। তবে প্রথমে সাহস পাচ্ছিলেন তাহমিনা। তবে নগরীর হ্যান্ডসাম ফেরিওয়ালা তাজুল ইসলাম লিখনের ‘ড্রিম ভ্যান’ কথার মনে-প্রাণে সাহস চলে আসে তাহমিনার। যে কারণে এক অভিজাত পরিবারের মেয়ে হওয়া সত্বেও লিখনের মতো যেকোনো কাজকে মহান ভেবে নগরীর রাজপথে বাদাম বিক্রি শুরু করে দেন।

তাহমিনা বর্তমানে ধানমন্ডির বিভিন্ন পয়েন্টে বাদাম বিক্রি করছেন। সাটুরিয়া হতে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বাদাম কিনে আনেন। বাসায় বাদামগুলো ভালোমতো বাছাই করে তা ভাজেন। পরে দেখতে নান্দনিক কালো ঠোঙ্গায় ঢুকিয়ে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেন তিনি। এতে তাহমিনা দিন শেষে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় দুই হতে আড়াইশ টাকা আয় করে ঘরে ফেরেন।

যে কোনো মানুষই যেনো যে কোনো কাজকে গুরুত্ব দেন, বা ছোট করে না দেখেন সেটিই তার একমাত্র চাওয়া।

Smart nut seller Tahmina story-2

বাদাম বিক্রি প্রসঙ্গে তাহমিনা কথা বলেন, ‘ভালো একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে জব করতাম। জব ছেড়ে বাদাম বিক্রির পেশায় নেমেছি। স্বাধীন জীবন আমার অনেক পছন্দ। সব কর্মই মহান। কাজ সবসময় কাজই হয়। কাজের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকা কখনও উচিত নয়। বাদাম বিক্রি এবং ট্রাভেল এজেন্সির কাজের মধ্যে আমি কোনও পার্থক্য খুঁজে পাইনি! কারণ হলো দু’টি পেশাই আমার কাছে মহান। আর এমন চিন্তা-চেতনাই মানুষকে বদলে দিতে ও উচ্চ স্থানে পৌঁছে পারে। আমাদের ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশ- এতো বড় বড় জব পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই সব হতাশা ছেড়ে যে কোনো কাজেই মন দেওয়া উচিৎ।’

তাহমিনা রহমান কথা বলেন, ‘আমি বাদাম বিক্রেতা; অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না। কেও কেও প্রশ্ন করে বসেন- আমি কি কাওকে সাহায্য করতে (অর্থাৎ তহবিল সংগ্রহ) এসেছি কিনা। তখন আমি তাদের বলি- আমি অন্যকে নয়, নিজেকে সাহায্য করতে এসেছি, আই ওয়ান্ট টু ডু সামথিং।’

তাহমিনা আরও বলেন, ‘বাদাম বিক্রি করে কতো টাকা আয় হলো সেটি বড় কথা নয়। দেশের সব ছেলে-মেয়েদের কাছে আমার বার্তা হলো: ‘চলো কিছু একটা করি’। অলস সময় বসে না থেকে দেশের সব কাজকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।’

সহযোগী একটি অনলাইন পত্রিকায় এমন খবর দেখে বিস্ময়ের শেষ ছিলো না। ওই পত্রিকাটিকে (www.deshebideshe.com) ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Advertisements
Loading...