দেখুন যেভাবে রোগ ছড়াচ্ছে এটিএম!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এটিএম বুথ বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ ব্যাংকের টাকা তুলতে এটিএম বুথই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গবেষকরা বলেছেন, যৌনরোগসহ নানা রোগ ছড়াচ্ছে এটিএম হতে!

disease-is-spreading-atm

বর্তমান সময়ে টাকা তোলার একমাত্র মাধ্যেমে পরিণত হয়েছে এটিএম বুথ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এটিএম মেশিন ব্যবহারে সতর্ক থাকতে সাবধান বাণী শুনিয়েছেন। কারণ হলো, এই এটিএম মেশিন হতে যৌনরোগসহ নানা ধরনের রোগ ছড়াচ্ছে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন একটি তথ্য উঠে এসেছে। ‘এমস্ফিয়ার’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাভিত্তিক সাময়িকীর বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যম ডেকান ক্রনিকেল সম্প্রতি একটি খবর প্রকাশ করেছে।

ওই খবরে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের এটিএম ব্যবহারকারীদের ওপর গবেষণা চালানোর পর পাওয়া যায় এই ভয়াবহ তথ্য।

ওই গবেষকদলটি এটিএমের কি প্যাডে মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহের নিম্নাংশ ও যৌনাঙ্গে অবস্থানকারী পরজীবীর নমুনা পেয়েছেন। মানবদেহের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটানো পরজীবী ‘ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস’ গোত্রের আরেক পরজীবীর অস্তিত্ব পাওয়া যায় এটিএমের কী-প্যাডে!

disease-is-spreading-atm-2

গবেষকরা বলেছেন, এটিএম মেশিনের কি প্যাড জীবাণু দিয়ে ভর্তি থাকে। ওই জীবাণুদের মধ্যে এই দুই ধরনের পরজীবীর উপস্থিতির কারণে টাকা তুলতে যাওয়া গ্রাহকদের জন্য ভয়ানক হতে পারে। কারণ যৌনরোগ ছড়াচ্ছে এই দুই পরজীবী।

এটিএম ব্যবহারের পর হাত না ধোয়াও হতে পারে এক ভয়ংকর বিষয়। কারণ খাবারের মধ্যেদিয়ে এসব পরজীবীর বেশি সংক্রমণ ঘটায়।

২০১৪ সালের জুন ও জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন, কুইন্স ও ব্রুকলিনের ৬৬টি এটিএম মেশিনের কী-প্যাডে পাওয়া জীবাণুর নমুনা নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়। ওই গবেষকদলের প্রধান ছিলেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেন কার্লটন।

অধ্যাপক কার্লটন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, এটিএমের কি-প্যাড প্রকৃতপক্ষে জীবাণুদের আস্তানা। নানা উৎস হতে এসে জীবাণুরা বাসা বাঁধে এই এটিএম কি-প্যাডে। ওখানে বাসা বাঁধার মূল কারণ হলো তাদের পরিবাহক অর্থাৎ মানুষের সংস্পর্শের সহজলভ্যতা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অনুকূল পরিবেশ। যে কারণে বায়ু বা প্রাণীবাহিত জীবাণুরা সহজেই কি-প্যাডের ওপর বাসা বাঁধে ও পরিবাহকের মধ্যদিয়ে তা দ্রুত বিভিন্ন দেহে স্থানান্তরতি হয়ে যায়।

অধ্যাপক কার্লটন জানিয়েছেন, বিশেষ পদ্ধতিতে এটিএমের কি প্যাড হতে জীবাণু ও পরজীবী সংগ্রহ করে তাঁদের ডিএনএ পৃথক করা হয়। এরপর শুরু হয় গবেষণা। দেখা যায় যে, টেলিভিশন, ড্রয়িংরুমের সোফা-বালিশ, রান্নাঘরের ময়লা, শামুক এবং মুরগি, নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ-দই ও ডিমে যে জীবাণু থাকে, একই ধরনের জীবাণুর দেখা মেলে এটিএমের কি-প্যাডেও!

গবেষকরা বলেছেন, সারাদিনের বিভিন্ন কাজে আমাদের শরীরে বিভিন্নভাবে জীবাণু ঢুকে যায়। যেমন কেও একজন খাবার খেলেন কিংবা কোনো পুরোনো-পচা জিনিস ধরলেন। সেখান থেকে তার হাতে জীবাণু স্থানান্তরিত হয়ে যায়।

তারপর যখন তিনি এটিএম মেশিনে টাকা তুলতে যান, হাত হতে মেশিনের কি প্যাডে খুব সহজেই জীবাণুর স্থানান্তর হয়ে যায়। এরপর অন্য কোনো ব্যবহারকারী ওই কি প্যাডে হাত রাখলেই জীবাণু তখন তার শরীরে প্রবেশ করে।

অধ্যাপক জেন কার্লটন আরও বলেছেন, আমাদের ফলাফল দেখিয়েছে এটিএম কি-প্যাডে বিভিন্ন উৎস হতে জীবাণু আসে। এটি স্থানান্তরও হয় খুব দ্রুত। এর মূল কারণ হলো মানুষের অসাবধানতা। আমরা কোনো নোংরা বস্তু ধরার পর জীবাণুর ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাত ঠিকভাবে ধুয়ে ফেলি। তবে এটিএমে জীবাণুর কথা জানি না বলেই এটি ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কারের কথা আমাদের মাথায় আসে না। যে কারণে জীবাণু সংক্রিমত হয় খুব দ্রুত। অর্থাৎ এখন থেকে এটিএম ব্যবহারের পর জীবাণুনাশক দিয়ে অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলুন।

মন্তব্য

Loading...