প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভ্যানচালক চাকরি পেলেন বিমান বাহিনীতে!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাগ্য পাল্টে গেছে প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যানে বহনকারী সেই যুবক ইমাম শেখের। তার স্বপ্নপূরণ হচ্ছে, বিমানবাহিনীতে চাকরি পেলেন তিনি!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যানে বহনকারী টুঙ্গিপাড়ার সেই ভ্যানচালক ইমাম শেখের কাহিনী সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। গ্রামের সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাঁকে বহনকারী সেই ভ্যান চালক ইমামের সঙ্গে সেদিন কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরিবারের হাল-হকিকতের্ খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। একজন সাধারণ মানুষ হয়েও ইমাম প্রধানমন্ত্রীর খুব নিকটে যেতে পেরেছিলেন ভ্যানচালক হওয়ার সুবাধে।

বাবা-মায়ের সঙ্গে ইমাম

সেই ভাগ্যহীন যুবকের আশা পূরণ হয়েছে। নিজেকে এখন সবচেয়ে সুখী এবং ভাগ্যবান ব্যক্তি বলে দাবি করেছে সে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অব্যক্ত মনের আশা পূরণ করার কারণে ইমাম শেখ প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, সাফল্য ও দীর্ঘায়ুও কামনা করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকার কথাও জানিয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সেই ইমাম শেখ।

সংবাদ মাধ্যমকে ইমাম শেখ জানায়, আজ ২৯ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিমান বাহিনীর যশোর ক্যান্টনমেন্টের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির স্কোয়াড্রন লিডার হারুন-উর- রশিদ টুঙ্গিপাড়া সরদারপাড়া গ্রামে ইমাম শেখের বাড়িতে যান এবং তার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। এরপর তিনি ইমাম শেখের অসুস্থ পিতার চিকিৎসা এবং ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বিমান বাহিনীর পক্ষ হতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেন ইমামের মা শাহানূর বেগমের হাতে। এই সময় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির স্কোয়াড্রন অ্যাসিস্ট্যান্ট লিডার দেলোয়ার হোসাইনসহ বিমান বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইমামের সেই ভ্যানটি জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইমাম শেষ।

জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম গোলাম কাদের সাক্ষী হিসেবে ইমাম শেখের নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তবে তাকে কী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

এই প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ১২টার দিকে ইমাম শেখ ব্যাগ গুছিয়ে এবং ভ্যান নিয়ে বিমান বাহিনীর গাড়িতে করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

বিমান বাহিনীর যশোর ক্যান্টনমেন্টের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির স্কোয়ার্ডন লিডার হারুন-উর- রশিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইমামকে বিমান বাহিনীতে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তার নিয়োগপত্র হস্তান্তরও করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভ্যান আমরা যশোর নিয়ে যাচ্ছি। পরে এই ভ্যান জাদুঘরে পাঠানো হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘পরম মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী ইমামের মনের ইচ্ছা জানতে পরে, তা পূরণ করেছেন। দরিদ্র এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দিয়েছেন ইমামের পিতার চিকিৎসা ও বাড়িঘর মেরামতের সহায়তাও।’

সংবাদ মাধ্যমকে ইমামের মা শাহানূর বেগম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছেলের চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের জন্য সবকিছু করবেন এমন প্রত্যাশা করিনি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য যা কিছু করেছেন, তার জন্য আমরা সারাজীবন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো। তিনি আমাদের মতো গরীব মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘদিন এমন মহৎ কাজে নিয়োজিত রাখুন সেই দোয়া করি।’

সংবাদ মাধ্যমকে ইমামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুস আলী মোল্লা বলেছেন, ‘ইমামের বাবা একজন মানসিক রোগী। সংসারের অভাব অনটনের কারণেই ইমাম পড়াশোনা ছেড়ে ভ্যান চালাতো। প্রধানমন্ত্রী তার ভ্যানে চড়ার পর তার ভাগ্য আজ বদলে গেছে। অত্যন্ত দয়ালু প্রধানমন্ত্রী তাকে চাকরি দিয়েছেন, তাদের পরিবারে দায়িত্ব নিয়েছেন। এতেকরে গ্রামবাসী খুবই আনন্দিত। এমন মহানুভবতায় সবাই বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য দোয়া করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় রাত্রি যাপনের পর সকালে ইমামের ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ঘুরতে বের হন। প্রধানমন্ত্রীর ওই ভ্যানে ছিলেন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তাঁর পত্নী পেপি সিদ্দিক, তাঁদের মেয়ে লিলা তুলি সিদ্দিক এবং ছেলে কায়াস মুজিব সিদ্দিক।

Loading...