The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কৃত্রিম হাড় ও ডিমের খোসায় তৈরি হবে বাড়ি!

শহরাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম হবে এই বাড়ি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এখন থাকি নাকি কৃত্রিম হাড় ও ডিমের খোসায় তৈরি হবে বাড়ি! তাহলে কী কংক্রিট ও ইস্পাতের দিন শেষ হতে চলেছে?

কৃত্রিম হাড় ও ডিমের খোসায় তৈরি হবে বাড়ি! 1

এখন থেকে নাকি বাড়ি তৈরি হবে কৃত্রিম হাড় ও ডিমের খোসা দিয়ে। যা শহরাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম হবে। যে কারণে দূষণের হারও কমাবে। কেমব্রিজের একদল বিজ্ঞানী বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তাদের গবেষণার মূলে রয়েছে মূলত এই দু’টি উপাদান।

জানা গেছে, বিশ্বে মোট কার্বন নির্গমণের ১০ শতাংশের জন্যই দায়ী ইস্পাত ও কংক্রিট। নির্মাণ ক্ষেত্রের এই প্রধান দুই উপকরণ তৈরিতে মূলত অতি উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন পড়ে। প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎও খরচ হয় সে কারণে। তবু বর্তমান সময় এই দু’টি উপকরণের উপরই নির্মাণ শিল্প সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাই বিজ্ঞানীরা তৃতীয় বিকল্প উপকরণ ব্যবহারে বেশি জোর দিচ্ছেন। সে কারণে কৃত্রিম হাড় ও ডিমের খোসা ব্যবহারের ভাবনাটি এসেছে তাদের মাথায়। বিজ্ঞানীদের দাবি হলো, প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই দুই উপকরণ ইস্পাত ও কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।

বায়ো ইঞ্জিনিয়ার ড. মিচেল ওয়েনের নেতৃত্বে কেমব্রিজের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকদের একটি দল এই বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ইউ এস আর্মি কর্পস অফ ইঞ্জিনিয়ার এই গবেষণার জন্য অর্থ যোগান দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই ড. ওয়েন কৃত্রিম হাড় ও ডিমের খোসার নমুনা তৈরি করতে পেরেছেন। বর্তমানে এটি মানব শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি কীভাবে বাড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা যায় মূলত তা নিয়েই গবেষণা করা হচ্ছে।

গবেষকরা বলেছেন, নামমাত্র তাপমাত্রায় এই উপকরণটি তৈরি করা সম্ভব। যে কারণে এই প্রক্রিয়ায় কার্বন নির্গমণের মাত্রা খুব কম থাকে। হাড় ও ডিমের খোসা প্রাণী শরীরের অংশ। প্রোটিন ও খনিজের যৌগটি অত্যন্ত শক্ত। খনিজের জন্য কাঠামো শক্ত হয় ও প্রোটিন তাকে যে কোনও আঘাত হতে রক্ষা করতে পারে। কেমব্রিজের আর্কিটেকচার ডিপার্টমেণ্টের ড. মাইকেল রামেজও ভবিষ্যৎ‍ নির্মাণ কৌশল নিয়ে একটি অন্যরকম গবেষণা করছেন। বর্তমানে সুউচ্চ বাড়ি নির্মাণে একমাত্র সহায় কংক্রিট ও ইস্পাত। তবে ড. রামেজ কাঠ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। মানব সভ্যতার আদিকালে বাড়ি তৈরিতে কাঠই ব্যবহার হতো।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে তিনি দাবি করেছেন যে, ‘লন্ডন শহর যদি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সামলাতে চায়, তাহলে জনঘনত্ব বাড়াতে হবে। তার একটা উপায় হলো বহুতল ভবন নির্মাণ। আমাদের বিশ্বাস কংক্রিট ও ইস্পাতের চাইতে কোনও প্রাকৃতিক উপকরণই মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে।’

Loading...