The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অর্থাভাবে সন্তানকে শুধু কবিরাজ ও ঝাড়ফুক করছেন এক মা!

হাসানের চিকিৎসার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে চাইলে বা বিস্তারিত জানতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কেও অর্থকে গদি বানিয়ে তার ওপর ঘুমায়, আবার কেও চিকিৎসা করতে না পেরে অসহায় অবস্থায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়- আমাদের সমাজ ব্যবস্থা অনেকটা সেরকম। যেমন এক কঠিন রোগে আক্রান্ত সন্তানকে অর্থাভাবে কবিরাজ ও ঝাড়ফুক করছেন এক মা!

অর্থাভাবে সন্তানকে শুধু কবিরাজ ও ঝাড়ফুক করছেন এক মা! 1

ওই মায়ের সন্তান এক অদ্ভুতরোগে আক্রান্ত। যে কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পালিয়েছে সন্তানের বাবা সেলিম খাঁ! সেই সন্তান হাসানের বয়স এখন মাত্র ১৮ মাস। দিন দিন অস্বাভাবকিভাবে বড় হয়ে যাচ্ছে তার মাথা। তাকিয়ে দেখছে তবে করার যেনো কিছুই নেই মা শারমিন আক্তারের। স্বামী তালাক দেওয়ার পর ঠাঁই পেয়েছে তার অভাবী বাবার সংসারে।

এই রোগের নাম কি তাও জানতে পারেননি শারমিন। দেখাতে পারেন নি কোনো ডাক্তারও! তবে এলাকার বিভিন্ন কবিরাজদের দেখিয়ে পানিপরা কিংবা তাবিজ নিয়েছেন বহুবার, তবে তাতে কোনো উপকারে আসেনি। এখন অসুস্থ ছেলে হাসানকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন অসহায় মা শারমিন আক্তার।

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের লাউতাড়া গ্রামে অসহায় এই পরিবারটির বসবাস। ওই গ্রামের রজব আলী খাঁ জানিয়েছেন, চার বছর আগে তালা সদরের আটারই গ্রামের মালেক খাঁর ছেলে সেলিম খাঁর সঙ্গে পারিবারিকভাবে মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ের পর সবকিছু ভালোই চলছিলো। ১৮ মাস আগে নাতি হাসান জন্মগ্রহণের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই মাথা অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। এরপর জামাই মেয়েকে তালাক দিয়ে চলে যায়। সে অন্যত্র বিয়েও করেছে।

হাসানের মা শারমিন আক্তার জানিয়েছেন, টাকার অভাবে হাসানকে কোনো ভালো ডাক্তার আজও দেখাতে পারিনি। তবে স্থানীয় ডাক্তার কবিরাজ দেখালেও কোনো কাজ হয়নি তাতে। স্থানীয় ডাক্তাররা শুধু বলেছে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাও ভালো হয়ে যাবে। ঢাকায় যাওয়ার মতো সাধ্য নেই আমাদের। ভাঙাচোরা মাটির ঘরে আমাদের বসবাস। ছেলেকে সুস্থ করতে আপনারা সম্ভব হলে একটু সহায়তা করুন।

স্থানীয় তেঁতুলিয়া ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী মোড়ল বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। রজব আলী কৃষিকাজ করে কোনো রকমে সংসার চালায়। ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই তার। মেয়ের অসুস্থ ছেলে হাসানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে সে।

তবে অসুস্থ হাসানকে দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মনোয়ার হোসেন বলেছেন, হাসানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে দেখাতে হবে। তাহলে সেখানকার চিকিৎসকরা ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন। তারা বলেছেন হাসানকে সুস্থ করা সম্ভব।

হাসানের চিকিৎসার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে চাইলে অথবা এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন সাতক্ষীরার সাংবাদিক আকরামুল ইসলামের সঙ্গে। তার মোবাইল : ০১৭১৬-০৬০৮৩৬

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...