বাঁধ নির্মাণে শ্রমিক হয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করলেন সাতক্ষীরার এমপি জগলুল হায়দার!

সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার বাঁধ নির্মাণ দেখতে গিয়ে নিজেও নেমে পড়লেন টুকরি নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এমপিরা প্রকল্প দেখতে গিয়ে লম্বা লম্বা নির্দেশনা দেন। কিন্তু ব্যতিক্রমি এক ঘটনা ঘটালেন সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। তিনি বাঁধ নির্মাণের শ্রমিকদের সঙ্গে শ্রমিক বনে গেলেন!

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, সাতক্ষীরার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় খোলপেটুয়া নদী ভাঙনে বিশাল এক সমস্যায় পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিকে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁধ। এই নির্মাণ কাজ তদারকি করতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। তিনি বাঁধ নির্মাণ দেখতে গিয়ে নিজেও নেমে পড়লেন টুকরি নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে। শ্রমিকদের সঙ্গেই মাটি তুলে মাথায় করে নিয়ে ফেললেন নদীর ধারে। দেখে মনে হবে তিনি যেনো একজন পুরদস্তুর শ্রমিক!

এই বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলাতে। গতকাল (রবিবার) সকালে সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার এভাবে শ্রমিকের সঙ্গে কাজ করেছেন পুরো এক ঘণ্টা। এই সময় তিনি পোশাক হিসেবে বেছে নেন লুঙ্গি ও স্যান্ডো গেঞ্জি। আবার শ্রমিকদের মতোই তাঁর কোমরে বাঁধা ছিল গামছা। মাথায়ও শ্রমিকদের মতো করে বাঁধা গামছাটির ওপরেই তোলা হয় মাটির টুকরিটি।

অন্যান্য শ্রমিকদের মতোই সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার দূর হতে মাটি নিয়ে এসে ফেলছেন বাঁধে- এমন একটি দৃশ্য দেখে যে কেও হতভম্ভ হবেন সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু স্থানীয়রা এখন আর এমন দৃশ্য দেখে আগের মতো অবাক হন না। এর কারণ হলো সংসদ সদস্য জগলুল এটা প্রথমবারের মতো করেননি। এর পূর্বেও একাধিকবার এই কাজ করেছেন তিনি। শ্রমিকের মতোই মিশেছেন সাধারণের সঙ্গে, কাজ করেছেন তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁদ মিলিয়ে, যেনো এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের এই মাটি বয়ে নিয়ে বাঁধে ফেলার ছবিটি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষ তাঁর এমন কাজের জন্য ভূয়সি প্রশংসা করেছেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সহযোগী একটি সংবাদ মাধ্যমকেকে বলেছেন, ‘আমি আমার নির্বাচনী এলাকার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমি একঘণ্টা শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করেছি।’

জগলুল হায়দার আরও বলেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকাটি আসলে আইলা দুর্গত, সুন্দরবন পাশ ঘেরা, বঙ্গোপসাগরের পাশে অবস্থিত। বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গন হয়। যখনই সেখানে ভাঙ্গন দেখা দেয়, তখনই সেখানে আমি ছুটে যায়। শ্রমিকদের সঙ্গে লুঙ্গি পরে কাজ করি। এতে করে শ্রমিকরা তাদের কাজে আরও উদ্বুদ্ধ হয়, আবার তাদের কাজেও আগ্রহ বাড়ে।

সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার ওই সংবাদ মাধ্যমকে আরও বলেছেন, ‘শুধু শ্রমিকদের উৎসাহ নয়, জনপ্রতিনিধিদের জনসম্পৃক্ত হয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে আগ্রহ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই আমি এমন ধরনের কাজ করছি। এতে করে জনগণের মধ্যেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আবার আমার দেখে অনেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও এমন কাজ করছে।’

জগলুল হায়দার বলেছেন, ‘আমি এখনও লুঙ্গি পরে ও ফতুয়া গায়ে দিয়ে গ্রাম এলাকায় যাচ্ছি। সেখানে আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবো।’

সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার মনে করেন, ‘একজন এমপি শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ কিংবা গাড়ি-বাড়িতে থাকার জন্য নয়। তাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এভাবেই সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এই সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেন। তাঁর মতো করে যদি সবাই এলাকার জন্য, এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাধারণভাবে মিশতেন তাহলে দেশের অনেক সমস্যা আর থাকতো না।

Loading...