The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এক আপেল গাছে ২৫০ জাতের ফল!

বর্তমানে প্রতি শীতে নতুন নতুন বৈচিত্র্যের ২৫০ জাতের আপেল ফলে এই গাছটিতে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একটি গাছে একটি প্রজাতির ফল হয়, আর সেটিই স্বাভাবিক। তবে একটি গাছে যদি ২৫০ জাতের ফল পাওয়া যায় তাহলে বিষয়টি সত্যিই অবাক করে। এমনই এক আপেল গাছ যাতে ২৫০ জাতের ফল ধরে!

এক আপেল গাছে ২৫০ জাতের ফল! 1

আজব এই আপেল গাছটি ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্স শাইচেস্টারের নিকটে উদ্যানপালনবিদ মিস্টার পল বার্নেটের বাগান বাড়িতে পাওয়া গেছে।

পল বার্নেট নিখুঁতভাবে এই গাছটিকে বড় করার জন্য দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট সাসেক্সে শাইচেস্টারের নিকটেই অবস্থিত শিডহ্যামে নিজের বাগানের পেছনে ব্যয় করেছেন দুই দশকেরও বেশি সময়- প্রায় ২৬টি বছর। বর্তমানে প্রতি শীতে নতুন নতুন বৈচিত্র্যের আপেল ফলে এই গাছটিতে। কাঁচা ফল হিসেবে খাওয়ার আপেলের পাশাপাশি এই আজব গাছটিতে বর্তমানে রান্না করে খাওয়ার উপযোগী দুর্লভ সব আপেলও ফলছে বলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৮৮৩ সালে প্রথম সন্ধান পাওয়া ‘উইদিংটন ফিলবাস্কেট’ ও ১৯০৮ সালে সন্ধান পাওয়া ‘এডি’স ম্যাগনাম’র মতো আপেল! এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় হিসেবে স্বীকৃত বিচিত্র সব নাম এবং রঙের আপেল।

৪২ বছর বয়সি পল বার্নেট জানান, কয়েক একরের জমির ওপর একটি নার্সারি বাগানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে তিনি প্রায় ৯০ রকমের আপেল গাছ নিয়ে সময় কাটান। তিনি নিজস্ব আপেল গাছ চাইতেন, তবে এতো বিপুলসংখ্যক ধরনের আপেলের জন্য বিপুল পরিমাণ পৃথক পৃথক গাছ লাগানোর মতো স্থান তার ছিল না।

তাই অল্প জায়গায় অনেক রকমের আপেল ফলানোর উদ্দেশ্য নিয়েই একটি ‘ফ্যামিলি ট্রি’ রোপণের কাজ শুরু করেন পল বার্নেট। প্রতি গ্রীষ্মে নতুন নতুন ধরনের এক-একটি জাতের আপেলের মুকুল ফোটানোর কাজ করতেন পল বার্নেট। শাখা বা কলম সংযোজনের কাজ করতেন শীতের সময়।

পল বার্নেট নিজের গাছটিতে মুকুল ধরানোর জন্য অন্য একটি আপেল গাছে ধরা মুকুল কেটে আনতেন। এরপর নিজের ‘ফ্যামিলি ট্রি’ গাছটির ছালবাকলের মধ্যে সেটি ঢুকিয়ে দিতেন। এক্ষেত্রে পদ্ধতি হিসেবে পল বার্নেট কলমচারা রোপণের কৌশল অনুসরণ করতেন, তবে এরজন্য তিনি ব্যবহার করতেন একাধিক মুকুল ধারণকারী ছোট ছোট শাখাও।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মুকুল এবং শাখাগুলো মূল গাছের অংশ হয়ে গেছে। অবশেষে গাছটিতে নানারকম বিচিত্র ধরনের আপেল ফলতেও শুরু করেছে নিয়মিতভাবে।

পল বার্নেট আরও জানান, গাছটিতে কাঁচা খাওয়ার উপযোগী, রান্না করার উপযোগী ও রস তৈরির উপযোগী প্রায় সব রকমের আপেলই ফলে। তবে প্রতিবছর কেবল সবগুলো জাতের আপেলের কয়েকটি কয়েকটি করেই ফল আসে গাছটিতে।

ভিন্ন রঙ এবং ভিন্ন আকৃতির সবগুলো আপেল একইসঙ্গে গাছটিতে ধরলে সে দৃশ্য হয় দেখার মতো একটি দৃশ্য!

Loading...