যেভাবে সামলাবেন প্রিয়জনের মৃত্যুশোক

এই অবস্থা থেকে আপনাকে এক সময় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেই হবে

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ মৃত্যু একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যতোই স্বাভাবিক হোক না কেনো, প্রিয়জনের মৃত্যুশোক সামলানো আমাদের জন্য কঠিন। সঠিকভাবে এই শোক সামলাতে না পারলে আপনি মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন।

প্রিয়জনের মুত্যুর পর পর আপনি খুব মুষড়ে পড়বেন স্বাভাবিকভাবেই। তবে এই অবস্থা থেকে আপনাকে এক সময় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেই হবে। কিছু কিছু বিষয় আপনি নিজেকে বোঝাতে সক্ষম হলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়া আপনার জন্য সহজতর হবে।

মনে রাখুন মৃত্যুশোক স্বাভাবিক

প্রিয়জন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আপনার শোক হওয়াই স্বাভাবিক। তাই ব্যাপারটি নিয়ে কখনো বিরক্তিতে ভুগবেন না। আপনার শোকের বহিঃপ্রকাশেও অস্বাভাবিক কিছু নেই। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই মাত্রা বজায় রাখতে হবে।

সময় নিন

মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে সবারই কিছুটা সময় লাগে। এতো বড়ো মানসিক আঘাত হঠাৎ করে কখনোই দূর হয়ে যেতে পারে না। তাই দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠবেন না। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে প্রিয়জনের মৃত্যুকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

অন্যদের সাহায্য নিন

এ সময় অন্যদের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘ সময় ধরে একা একা না থেকে অন্যদের সাথে সময় কাটানোরা চেষ্টা করুন। সাধারণত এই ক্ষেত্রে আপনার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা তাদের উদ্যোগেই আপনার কাছে এগিয়ে আসবে। তারা আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে চাইলে তা গ্রহণ করুন।

মৃত প্রিয়জনের সুখের স্মৃতি মনে করুন

একজন ব্যক্তি যদি সত্যিই আপনার প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তার সাথে কাটানো আপনার কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে। আপনার প্রিয় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে এই ধরনের মুহূর্তগুলি স্মরণ করার চেষ্টা করুন। সর্বক্ষণ তার মৃত্যুর কথা চিন্তা করতে থাকলে আপনার বিমর্ষভাব বাড়তেই থাকবে। সুখের স্মৃতিরোমান্থন করলে আপনি অনেকটা হালকা বোধ করবেন।

শরীরের দিকে নজর দিন

শোক একটি মানসিক ব্যাপার। কিন্তু শরীরের অবস্থার সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। প্রিয়জন গত হবার পর সাধারণত আমরা স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করি না এবং আমাদের চলাচলও এই সময় কিছুটা কমে যায়। এসব কারণে এই সময় শারীরিকভাবে আমরা কিছুটা অসুস্থবোধ করে থাকি। শারীরিক এই অবস্থার প্রভাব পড়ে আবার মানসিক অবস্থার উপর। এই ব্যাপারে তাই আপনাকে সচেতন হতে হবে। নিজের সুস্থতা বজায় রাখতে খাওয়াদাওয়া যতোটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখুন। সম্ভব হলে প্রতিদিন কিছুটা সময় বাইরে হেঁটে আসুন।

Advertisements
Loading...