কৃত্রিম সুগন্ধির কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ৪০০ বছরের সুগন্ধি শিল্প!

সাম্প্রতিক সময়ে আতরের চাহিদাতেও ভাঁটা পড়েছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঈদ আসলে মনে পড়ে সুগন্ধির কথা। কিন্তু কৃত্রিম সুগন্ধির কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ৪০০ বছরের সুগন্ধি শিল্প! এক সময় এই সব সুগন্ধি আমাদের দেশের ঐতিহ্য ছিল। শুধু আমাদের দেশ নয়, সৌদি আরব ও পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতে থেকে প্রচুর পরিমানে আসতো এইসব সুগন্ধি।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, ভারতের কাননুজ শহরে সুগন্ধি উৎপাদনের বিখ্যাত ৪০০ বছরের পুরনো শিল্পগুলোও এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। কৃত্রিম সুগন্ধিই মূলত প্রাকৃতিক এই সুগন্ধির স্থানগুলো দখল করে নিয়েছে। তাই অনেকেই মনে করছেন অচিরেই এই সুগন্ধিগুলো হারিয়ে যাবে।

দেশটির উত্তর প্রদেশের কাননুজ শহরে ২০ বছর পূর্বে ৭০০টি সুগন্ধি ভাঁটিখানা গড়ে উঠেছিল। এই ভাঁটিখানাগুলো তেল ভিত্তিক সুগন্ধি, আতর গোলাপ, জেসমিন ও হেনা ফুল হতে বাষ্প পাতনের মাধ্যমে উৎপাদন করে আসছিল।

সংবাদ মাধ্যমকে উৎপাদকদের দেওয়া এক তথ্যে বলা হয়েছে, এগুলো তৈরিতে সময় উপকরণই বেশি লাগতো। এক কেজি গোলাপের আতর তৈরি করতে গেলে অন্তত ৪ টন পর্যন্ত গোলাপের প্রয়োজন হতো। আবার সাম্প্রতিক সময়ে আতরের চাহিদাতেও ভাঁটা পড়েছে। আগে বিশেষ করে মুসলমানদের ঈদ পরব লাগলে আতর ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল। কিন্তু এখন আর ধর্মীয় বিষয়গুলোও যেনো সরে যাচ্ছে ক্রমেই।

একজন আতর উৎপাদক বলেছেন, আতর সাশ্রয়ী পণ্য নয়, এর উৎপাদন খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে খুব কম লোকই তা বোঝে। এমনকি খুব কম লোকই এর প্রশংসা করে।

ওই উৎপাদক আরও জানান, এক সময় যে কোনো দর্শনার্থী এই শহর একবার ভ্রমণ করলে বুঝতে পারতেন শহরটির প্রধান শিল্প ছিল এটি। তবে সেসব দিন এখন অতীত। কৃত্রিম সুগন্ধির কারণে বিলুপ্ত হতে চলেছে অরিজিন্যাল এই পণ্যটি।

Advertisements
Loading...