তালার ভেতর ৫ হাজার চাবি!

সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ৫ হাজার চাবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এই বিশাল একটি তালার ভেতরে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একটি তালার ওজন একশ কেজি! শুধু তাই নয়, এই তালার ভেতর রয়েছে ৫ হাজার চাবি! প্রকৃতপক্ষে তালার ভেতরে সংরক্ষণ করা রয়েছে এই চাবিগুলো।

সত্যিই এক আশ্চর্যজনক বিষয় এটি। সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ৫ হাজার চাবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এই বিশাল একটি তালার ভেতরে, যাকে বলা যায় একটি আলমারি। কোর্ট হতে দাবি করা হচ্ছে যে, সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তালা হলো এই তালাটি। একশ কেজি ওজনের এই তালার ভেতরে রয়েছে ৫ হাজার চাবি ২৪ ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বিশাল এই তালার আলমারির ভেতর হতেই বিতরণ করা হয় সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ চাবিগুলো।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হতে শুরু করে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির কক্ষ, বেঞ্চ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কোর্টের বিভিন্ন শাখা ও সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের কক্ষের দরজার নির্ধারিত তালার চাবি এই তালার ভেতরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। প্রয়োজন অনুসারে চাবিগুলো বিতরণও করা হয়।

জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের সব অফিসের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা এই চাবিগুলো সকাল সাড়ে ৭টা হতে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত আদান-প্রদান চলে। প্রতি কক্ষের লোকজন আসার পর এই তালা হতে চাবি নিয়ে দরজা খোলা হয়। অফিসের কাজকর্ম শেষে অর্থাৎ অফিস সময় পার হলে বিকাল সাড়ে ৪টা হতে রাত ১০ পর্যন্ত চাবি জমা নেওয়া হয়।

এই বিশাল তালাটির নিরাপত্তায় নিয়োজিত মো. খোকন কাজী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এর পূর্বে এই তালার ভেতরে ৪ হাজারের মতো চাবি রাখা হতো। এখন চাবির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার। জানানো হয়েছে, কোর্ট ছাড়া আরও বিল্ডিং তৈরি করার পর অনেকগুলো অফিস কক্ষ বাড়ানোর কারণে ওইসব কক্ষে নতুন করে তালা লাগানোর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার। প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও ৫ ফুট চওড়া এই বিশাল তালাটি।

সুপ্রিম কোর্টের মাঝখান বরাবর রাস্তা হতে পূর্বদিকে আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের মূলভবনে ঢোকার সময় নিচতলায় ঢুকতেই ডান দিকে এই বিশাল তালাটি রাখা হয়েছে। সেখানে এই তালার পাহারায় একজন ব্যক্তি সর্বক্ষণ নিয়োজিত থাকেন। পর্যায়ক্রমে একজনের পর আরেকজন দায়িত্ব পালন করে থাকেন। চাবিসহ এই তালার পাহারায় দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সুপ্রিম কোর্টের সিকিউরিটি গার্ড ছাড়াও সর্বদা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও এই গেটের সামনে বসে থাকেন। মোট কথা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হয় এই বিশাল তালাটিকে।

বিতরণ নিয়ম মাফিক চলে সারাদিন। আবার অফিসের কাজ শেষে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব চাবি জমা নেয়ার পর একসঙ্গে তালাবদ্ধ করে প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও পাঁচ ফুট চওড়া এই একশ কেজি ওজনের তালার ভেতরে রাখা হয়।

রাসেল জানান, দেখতে তালা হলেও এটি আসলে একটি বড় আলমারি। এর ভেতরে সুপ্রিম কোর্টের মূল পুরাতন এবং এনেক্স ভবনের কোর্ট ও অফিস কক্ষের হাজার হাজার চাবি সংরক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, এখানে যারা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন তাদের কাছ থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যেই চাবি বুঝে নেয়া শুরু হয়। আবার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চাবি জমা দিয়ে যান সংশ্লিষ্টরা।

আমরা এই বিশাল তালার মধ্যে সারিবদ্ধভাবে চাবিগুলো সাজিয়ে রাখি। সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকা খোকন কাজী জাগো নিউজকে বলেন, সব সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করি যাতে নির্দিষ্ট কোর্ট কক্ষের চাবি ঠিকভাবে দেয়া যায়। সারাদিন এই বিশাল তালার পাশে বসে চাবির পাহারায় নিয়োজিত থাকার অনুভূতি জানতে চাইলে দিলিপ কুমার দাস ও মো. রাসেল বলেন, খারাপ লাগে না। সময় কেটে যায় গল্প করে এবং চাবি জমা নিতেই।

তবে তাদের দাবি, এতগুলো চাবি নিয়ে মাথায় একটা দায়িত্ব ভারী করেই রাখে। কারণ এখানকার প্রতিটি চাবিই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই চাবিগুলোর পাহারার বিষয়ে খুবই সতর্কতার মধ্যে থাকতে হয়।

Advertisements
Loading...