রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় ১১ লাখ মানুষের বিক্ষোভ!

চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনিতে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ছিলো

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মিয়ানমার সরকারের সহিংস রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় ১১ লাখ মানুষের বিক্ষোভ হয়েছে! এ সময় তারা অং সান সু চির ছবিতেও আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানান।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সরকারের সহিংস নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। গত সোমবার রাশিয়ার চেচনিয়ায় ওই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে।

চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনিতে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ছিলো। মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লাখ লাখ মানুষ গ্রোজনিতে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির প্রধান এবং রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির ছবিতেও আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ -বিক্ষোভ করেন।

গ্রোজনি’র বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিলো ‘মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ কর’, ‘রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা বন্ধ কর’ এবং ‘মিয়ানমারের মুসলিম হত্যা বন্ধ কর’ সম্বলিত ব্যানার এবং পোস্টার।

রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রায় ১১ লাখ মানুষ অংশ নেয়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রতিবেশি অঞ্চলগুলো হতে আসেন। চেচনিয়ার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গ্রোজনির কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহরের নামাজের পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য প্রার্থনার মধ্যদিয়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হয়।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার সূত্রপাতের পর দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানে নারী, শিশুসহ এ পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও অত্যধিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মাত্র কয়েকদিনের সহিংসতায় রাখাইনে অন্তত ৪০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে বলে দেশটির আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বলেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশী তল্লাশি টৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সশস্ত্র হামলায় ১২ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর এবং নজিরবিহীন এক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বহু রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...