রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও ‘বিরক্ত’!

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমার পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোলাটে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের উপর অমানুষিক নির্যাতনের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও ফলাও করে প্রকাশ করা হচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও ‘বিরক্ত’ হয়েছে!

জাতিসংঘের মার্কিন দূত নিকি হ্যালে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনে দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই বিরক্ত’।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে দেওয়া এক বিবৃতিতে হ্যালে জানিয়েছেন, দিন দিন রোহিঙ্গাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘ক্ষুব্ধ’। নিরাপত্তা অভিযান চালানোর সময় ওই জনগোষ্ঠীর সদস্যের প্রতি সম্মানজনক ব্যবহারের আহ্বান জানান মার্কিন এই দূত।

বিবৃতিতে হ্যালে আরও বলা হয়, এই ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন চলতে থাকলে সহিংসতা ক্রমেই বাড়তে থাকবে। এযে কারণে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। রাখাইন প্রদেশের সব জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলারও সুপারিশ করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প এবং একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের’ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায়ও স্বীকার করে। এই ঘটনার পর হতেই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন এবং নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই নির্যাতন শুরুর পর হতে রোহিঙ্গারা পাড়ি জমাতে শুরু করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে। আবার অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থানের সুযোগ পেলেও অনেকেই অবস্থান করছেন দুই দেশের সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গত শুক্রবার সর্বশেষ জানিয়েছে যে, নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, এই সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখের ওপরে যাবে। অর্থাৎ গত ১১ মাসে সাড়ে ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই সময়ে মিয়ানমারে সহিংসতায় মারা গেছে প্রায় ১ হাজার রোহিঙ্গা। এমন এক পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ করা হচ্ছে। মিয়ানমারের এহের কর্মকাণ্ডে হতভম্ব বিশ্ব। অবিলম্বে নির্যাতন বন্ধ ও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের দাবি তোলা হয়েছে।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...