আশ্চর্য এক নাপিত: করেন খুর দিয়ে চোখ শেভ!

এই নাপিতের কাজ মানুষের দাড়ি-গোঁফ কামানো নয়, ধারালো খুর দিয়ে শেভ করেন মানুষের চোখ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আশ্চর্য এক নাপিতের খোঁজ পাওয়া গেছে, তিনি করেন খুর দিয়ে চোখ শেভ ! চীনের চেংদু শহরের জনৈক নাপিত খোলা আকাশের নিচে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তার কাস্টমারদের!

এই নাপিতের কাজ মানুষের দাড়ি-গোঁফ কামানো নয়, ধারালো খুর দিয়ে শেভ করেন মানুষের চোখ। নিশ্চয়ই চোখ শেভ করা কথাটা শুনতে যেমন অবাক লাগে, তেমনি মনেও জাগে ভয়। জানা গেছে, এভাবে ব্লেড বা খুর দিয়ে চোখ শেভ করা চীনের ওই অঞ্চলের একটি অতি প্রাচীন প্রথা। এমন কি এটিকে শিল্প হিসেবেও দেখা হয়। এই প্রথা অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৬২ বছর বয়সী চীনের জিয়ং গাও।

সংবাদমাধ্যম সাংহাইলিস্ট.কম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের চোখে এক প্রকার পরজীবী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে ঠিক এভাবেই রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসা হচ্ছে প্রাচীন আমল হতে। আক্রান্ত রোগীরা অবলীলায় নিজের চোখকে পেতে দিচ্ছেন খুরের তলায়।

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মানুষের চোখ খুবই স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণও বটে। নিজের চোখকে নাপিতের হাতে ধরে থাকা খুরের কাছে সোপর্দ করতে প্রয়োজন হয় যথেষ্ট সাহসের। আবার এমন একটি কঠিন কাজে নাপিতকেও হওয়া চাই যথেষ্ট দক্ষ। ছোট্ট একটা ভুল হয়ে গেলেই দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন রোগী।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে নাপিত জিয়ং গাও বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশাতে নিয়োজিত। এই দীর্ঘ সময়ে একবারও কোনো রোগীকে আহত হতে হয়নি।

সিশুয়ান প্রোভিনসিয়াল পিপলস হসপিটালের ডেপুটি ডিরেক্টর কিও চাউ বলেছেন, চোখের এই ব্যধিটির নাম হলো ট্রাকোমা। এই ধরনের ইনফেকশন অবহেলা করলে পরে চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ থেকে মুক্তির জন্যে বিপদজনক উপায়ে খুর ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। হাসপাতালে এর আধুনিক এবং নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।

Advertisements
Loading...