পরীক্ষায় ফেল করলেই ডিভোর্স!

নারী-পুরুষের বিবাহ হলো একটি পবিত্র বন্ধন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ডিভোর্স শব্দটি বর্তমান সময় যেনো মুড়ি মুরকির মতো হয়ে গেছে। তাই এবার এমন এক শর্ত দেওয়া হয়েছে যে সেই শর্ত ভাংলে তবেই হবে ডিভোর্স। আর সেই শর্তটি হলো পরীক্ষায় পাস করতে হবে, ফেল করলেই ডিভোর্স! চীনের একটি আদালত এমন শর্ত আরোপ করেছে।

নারী-পুরুষের বিবাহ হলো একটি পবিত্র বন্ধন। তবে নানা কারণে অকারণে অনেক সময় এই বন্ধনের ছেদ ঘটে থাকে। প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা। অনেক সময় আবার ঠুনকো অজুহাতেও ঘটে থাকে বিচ্ছেদের মতো ঘটনা।

এবার চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ইবিন আদালত বিবাহ বিচ্ছেদ ঠেকাতে একটি অভিনব পন্থা বাতলে দিয়েছেন।

আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করা দম্পতির জন্য একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তবে অন্য পরীক্ষা হতে এটি একটু ব্যতিক্রমী। এই পরীক্ষায় ফেল করলে তাহলেই মিলবে বিবাহ বিচ্ছেদ, নচেত নয়।

এই পরীক্ষাটি হবে শূন্যস্থান পূরণ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও বিবৃতি; এই তিনটি বিভাগে। মোট একশ নাম্বারের এই পরীক্ষায় স্বামী ও স্ত্রীকে পৃথক দুই সেট প্রশ্ন দেওয়া হবে। প্রশ্নপত্রে তাদের পারিবারিক জীবনের নানা দিক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। পাস নাম্বার ৬০। যদি কোনো দম্পতি পৃথকভাবে ৬০ এর কম পায় তবেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ অনুমোদন করা হবে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ হতে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় বেশ কয়েকজন দম্পতি উতরেও গেছেন। যে কারণে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের পথে আর হাঁটতে হয়নি।

যার মস্তিষ্কপ্রসূত এই অভিনব চিন্তা তিনি হলেন ইবিন আদালতের সেই বিচারক অং সিউ। তিনি বলেছেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমি এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি যেনো কোনো দম্পতি বিবাহ বিচ্ছেদের পূর্বে ভাবনা চিন্তার সুযোগ পায়। আমিও স্ত্রী, সন্তান নিয়ে একটি পরিবারে বসবাস করি। সুতরাং আমি চাই না কোনো পরিবার এভাবে ভেঙে যাক। ’

প্রায় দেড়শ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে বিবাহ বিচ্ছেদ নিত্যদিনের ঘটনা। যে কারণে ইবিন আদালতের গৃহীত এই ধরনের পদক্ষেপ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্মও দিয়েছে। অনেকেই প্রশংসা করলেও অনেকই এটিকে বাঁকা চোখে দেখছেন। তারা বলছেন, বিবাহ বিচ্ছেদ যেখানে একটি মানুষের একান্তই ব্যক্তিগতবিষয় সেখানে এই ধরনের পদক্ষেপ ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপে করার শামিল নয় কী?

Loading...