শাকিব ভক্তদের বিড়ম্বনায় চাকরি এমনকি বউ হারালো ইজাজুল!

সুপার স্টার নয়, এবার দিনমজুর পড়েছেন এক বিড়ম্বনায়!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সত্যিই যাকে বলা যায় বিড়ম্বনা। তবে আমরা দেখেছি সুপার স্টার যারা তারা বিড়ম্বনায় পড়েন কিন্তু একজন দিনমজুর সে কি না বিড়ম্বনার কারণে শেষ পর্যন্ত চাকরি এমনকি বউ হারাতে বসেছেন! সত্যিই এক বিস্ময়কর ঘটনা বটে!

বিড়ম্বনার শিকার হওয়া ব্যক্তির নাম ইজাজুল। পেশায় একজন দিনমজুর। কিন্তু এই দিনমজুর পড়েছেন এক বিড়ম্বনায়। যে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘রাজনীতি’ ছবিটিকে ঘিরে। এইছবির একটি দৃশ্যে নায়ক শাকিব খান নায়িকা অপু বিশ্বাসকে একটি মোবাইল নম্বর দেন। এরপর হতে মহাবিড়ম্বনায় পড়েন ২৫ বছর বয়সী এই দিনমজুর ইজাজুল মিয়া।

মূলত ওই নম্বরটির মালিক হলো ইজাজুল। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর শাকিব খানের মোবাইল নম্বর মনে করে অসংখ্য নারী পুরুষ ইজাজুলকে ফোন করতে থাকে। দিন নেই, রাত নেই, দেশ-বিদেশ হতে হরদম আসা শাকিব ভক্তদের ফোনে অতিষ্ট হয়ে উঠেন ইজাজুল।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং গ্রামে রাজমিস্ত্রি ইজাজুলের বাড়ি। মহাজনের সঙ্গে কাজ করেন ইজাজুল। মাস শেষে রোজচুক্তির বেতনও নেন। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী বাদলের সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন তিনি। তবে শাকিব ভক্তদের হাজার হাজার ফোনের কারণে দুটি কাজই হারাতে হয়েছে তাকে।

আবার বোনের বিয়ে হচ্ছে। অথচ এলাকায় যেতে পারেন না ইজাজুল মিয়া। এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে পরকীয়া করছেন বিবাহিত ইজাজুল মিয়া। এদিকে নায়ক শাকিব খান পরিচয় দিয়ে পরনারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন সন্দেহে স্ত্রী মিশু আক্তার ১৬ মাস বয়সী একমাত্র শিশু কন্যা ইমুকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান। কোনোভাবেই যেনো তাকে বুঝাতে পারেননি ইজাজুল। পরে সিনেমা দেখে মিশুর ভুল আংশিক ভাংলেও এখনও ফিরেননি তার স্ত্রী।

আক্ষেপ করে সংবাদ মাধ্যমকে ইজাজুল বলেছেন, ‘আমি একজন দিনমজুর। সারাদিন কাজ করে ক’টাকায় বা রোজগার করি। সারাদিনে আমার অন্তত ২-৩শ’ ফোন আসছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে কে আমাকে কাজ দেবে বলুন? মা-বাবাও ত্যাগ করেছে আমাকে, বউও চলে গেছে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বুঝাতে পারছিনা। এখন আমাদের এলাকার মুরুব্বিরা চেষ্টা করছেন তার ভুল ভাঙ্গানোর জন্য।’

সাধারণ সিনেমা বা টিভির নাটকে কোনো ফোন নম্বর পুরোপুরিভাবে উল্লেখ করা হয় না। কিন্তু ‘রাজনীতি’ ছবিতে কেনো এটি করা হলো সেটি বোধগম্য নয়। নায়ক-পরিচালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‌‌‘রাজনীতি সিনেমায় আমার নাম্বারটি দেওয়া হয়েছে শাকিব খানের নাম্বার হিসেবে। পুরো নাম্বারটি প্রকাশ হওয়ায় সবাই আমাকেই কল দিচ্ছে। ছবিতে দেওয়ার আগে তাদের অবশ্যই জানা উচিত ছিল এটি আসলে কার নাম্বার। দায়িত্বশীল হয়ে দেওয়া উচিত ছিল। আমি নিজেও নায়ক শাকিব খানের একজন ভক্ত। তবে এখন আমার যে বিড়ম্বনা হচ্ছে তার দায় কে নেবে? আমারতো টাকা পয়সা নেই, তাই মামলা করতেও পারছিনা। তবে আমি থানায় সাধারণ ডায়রি করেছি।’

শুধুই ফোনই নয়। আরও ঘটনা ঘটেছে। ইজাজুল জানান, ‘আমি শাকিব খান কি-না সেটি যাচাই করার জন্য তানিয়া নামে এক যুবতী কিছুদিন পূর্বে খুলনা হতে হবিগঞ্জ চলে আসেন। মা-বাবাকে না জানিয়েই তিনি এসেছেন বলে জানান। পরে তাকে গাড়িতে তুলে বিদায় দিয়েছি। এই খবর শুনে আমার বউ ভীষণ রাগ করে। তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারিনি বিষয়টি। এই অবস্থায় দিন পার করছি আমি।’

এই প্রসঙ্গে ‘রাজনীতি’ ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস সহযোগী একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ আমরা জানি এটি একটি র‌্যানডম নম্বর, দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আমরা বহুদিন এটি পর্যবেক্ষণে রেখে তবেই নম্বরটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিই। এটা নিয়ে এখন কেনো নতুন করে কথা হচ্ছে, বিষয়টি বুঝলাম না। আমি বিষয়টি জানার পর পত্রিকায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়েছি। উনি চাইলে অন্য একটি নম্বর ব্যবহার করতেই পারেন। তিনি কেনো করছেন না? নাকি এখন আমি তো ভিন্ন কথা বলতে পারি, উনি ছবিতে দেখে নতুনভাবে এই নম্বরটি কিনেছেন। তারপর উল্টো নিজের দাবি করেছেন।’

তবে নম্বর পরিবর্তনের বিষয়ে ইজাজুল বলেন, ‘আমার নম্বর আমি ব্যবহার করবো। অন্য কেও কি এটা ব্যবহার করতে পারবে? নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি আমাকে বানিয়াচং থানার ওসি সাহেবও বলেছিলেন। তবে আমি এর শেষ দেখতে চাই। এই ঘটনার জন্য আমার অনেক সম্মান খোয়াতে হয়েছে। এলাকার লোকজন আমার সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাদের কথা, যার পেটে ভাত পড়ে না, সে কীভাবে পরকীয়া করে? শুধু আমি না, আমার পরিবারের লোকজনও অনেক হেয় হয়েছে। আমি আমার সম্মান ফিরে পেতে চাই। ভেবে দেখুন তো, একজন সচেতন মানুষের পক্ষে এমন কাজ করা কী কখনও সম্ভব?’

এ বিষয়ে অনেকেই বলেছেন, পরিচালক মহোদয়ের বক্তব্য ‘আমরা বহুদিন এটি পর্যবেক্ষণে রেখে তবেই নম্বরটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিই’। এটি একটি খোড়া যুক্তি। উনাদের নিজের একটি নম্বর ব্যবহার করতে পারতেন। কিংবা ডিজিট বেশি দেওয়া নম্বর ব্যবহার করতে পারতেন, তা না করে অন্য একজনের নাম্বার দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে সময় কেনো কিল করলেন সেটি সত্যিই হাস্যকর।

দেখুন সিনেমার আংশিক ভিডিও

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...