মেয়েবন্ধুদের খুশি করতে গাড়ি চুরি যার পেশা!

তিনি নিত্যনতুন গাড়ি চুরি করেন কেবলমাত্র মেয়েবন্ধুদের মন জয় করতে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এমন চোরের কথা আগে কখনও শোনা যায়নি। এবার এমনই এক চোরের খবর পাওয়া গেছে। যে চোর শুধুমাত্র মেয়েবন্ধুদের খুশি করতে গাড়ি চুরি করে আসছেন দীর্ঘ ২০ বছর ধরে!

তিনি নিত্যনতুন গাড়ি চুরি করেন কেবলমাত্র মেয়েবন্ধুদের মন জয় করতে! তখন সেই গাড়িতে মেয়েবন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন ইচ্ছা স্বাধীন মতো। ভাবছেন পুলিশ তাকে ধরতো না? না! কারণ মুখমণ্ডলের প্লাস্টিক সার্জারি করেন পুলিশের হাত হতে বাঁচতে। রাতারাতি বদলে ফেলেন নিজের চেহারা। তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি। ধরা পড়ে যান পুলিশের হাতে।

অভিনব কারণে চুরি করা এই চোরের নাম কুনাল ওরফে তনুজ। গত রবিবার রাতে ভারতের দিল্লির নেহরু প্যালেসে ধরা পড়ে যান তিনি। পুলিশী জেরায় কুনাল স্বীকার করেন যে, তার আসল নাম হলো তনুজ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গাড়ি চুরি করে আসছেন তিনি। পুলিশ যাতে তার নাগাল না পায়, সেজন্য কিছুদিন পূর্বে প্লাস্টিক সার্জারি করে নিজের চেহারাও পাল্টে ফেলেন।

দিল্লি পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পান নয়াদিল্লির মুলচাদ হাসপাতালের পাশের রাস্তা দিয়ে একটি চোরাই ‘আই-২০’ গাড়ি আসছে। পুলিশ সেখানে হানা দিতেই গাড়ি ফেলে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন কুনাল ওরফে তনুজ। পুলিশ তাকে ধাওয়া দিলে গুলিও চালান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ধরে ফেলে পুলিশ।

প্লাস্টিক সার্জারি করে ভোল বদলে ফেলা কুনালকে ম্যারাথন জেরা করে দেয় পুলিশ। এতোদিন পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল তাকে। পুলিশের খাতাতে তিনি ছিলেন মোস্ট ওয়ান্টেড।

১৯৯৭ সাল হতে গাড়ি চুরিতে হাত পাকিয়েছিলেন তনুজ। শুধু গাড়ি চুরিই নয়, অটো চুরিতেও তনুজ ছিলেন পাকা। প্রথম দিকে গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করতেন। এরপর থেকে ১৬ বছর বয়সে প্রথম গাড়ি চুরি করতে শুরু করেন তনুজ। গাড়ি চুরি করে কখনও সেই চোরাই গাড়ির রং বদলে মেয়েবন্ধুদের নিয়ে ঘুরতেও যেতেন।

আবার সেসব গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির অর্থে মেয়েবন্ধুদের নিয়ে ফূর্তিও করতেন তনুজ। যে কারণে খুব সহজেই মেয়েবন্ধুদের মন জয় করতেন তনুজ। এভাবে আস্তে আস্তে গাড়ি চুরিতে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন এই অভিনব চোর তনুজ। তাছাড়া এই কাজে বেশ অ্যাডভেঞ্চার হতো বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। এই পর্যন্ত তার গাড়ি চুরির সংখ্যা ১৫০টির ওপরে! চুরির পর গাড়ির ইঞ্জিন এবং চেসিস নম্বর পাল্টে ফেলতেন তনুজ।

দিল্লি পুলিশ তনুজকে জেরার পর তার দুই সাগরেদ ইরশাদ আলী এবং মুহম্মদ সাদাবিকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছে থেকে ১২টি গাড়িও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রোমিল বানিয়া বলেছেন, গাড়ি ও অটো চুরি করাই ছিল তনুজের মূল পেশা। কারণ এই চুরির পয়সায় তিনি নিজের এবং প্রেমিকাদের খরচ বহন করতেন। চার মাস পূর্বে নিজের পরিচয় গোপন করার জন্য প্লাস্টিক সার্জারি করেন তনুজ।

Advertisements
Loading...