এক নির্মম পিতার কাণ্ড: ভিক্ষুক বানাতে গিয়ে কন্যাশিশুকে করলেন অন্ধ!

সন্তানের জন্য নিজের সব কিছু এমন কি জীবনটাও বিলিতে দিতে প্রস্তুত থাকেন একজন বাবা বা মা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সমাজে কতো রকম মানুষের বাস তা গুণে শেষ করা যাবে না। সত্যিই এক আশ্চর্যজনক লাগে। অর্থের জন্য মানুষ সব কিছুই করতে পারে। যেমন নিজ সন্তানকে অন্ধ বানিয়েছেন এক বাবা। ভিক্ষুক বানাতে গিয়েই এমন একটি গর্হিত কাজ করেছেন!

সন্তানের জন্য বাবা-মা সব কিছুই করেন। সন্তানের জন্য নিজের সব কিছু এমন কি জীবনটাও বিলিতে দিতে প্রস্তুত থাকেন একজন বাবা বা মা। কিন্তু এমন কিছু বাবা-মা আছেন যারা নিজের স্বার্থের জন্য সন্তানকে বিক্রি করে দেন। আবার কখনও অন্ধ বানিয়ে দেন! বড়ই বিচিত্র আমাদের এই সমাজ! এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের কোলকাতায়। সেখানে এক বাবা নিজের ৬ মাসের কন্যা শিশুকে অন্ধ করে দিয়েছেন ভিক্ষুক বানাতে! এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।

মেয়ের চোখে ওষুধ দিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে সোনারপুরের সূর্য সেন কলোনির বাসিন্দা জয়ন্ত চক্রবর্তীকে সম্প্রতি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ বলেছে, সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা ও মা এবং ভাইকে মারধরের অভিযোগে প্রথমে গ্রেফতার হয় জয়ন্তকে। মাস দুয়েক পূর্বে জেল থেকে ছাড়া পায় সে। কিছুদিন পূর্বে স্ত্রী ও মেয়েকে কোলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে সে। তারপর সোনারপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ তার মা এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধে। সে অভিযোগ দায়ের করে জানায়, স্ত্রী-মেয়ের চোখে অ্যাসিড দিয়েছেন তারা!

অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রথম থেকেই তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এক পুলিশ কর্তার বক্তব্যের পর, ওই সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায় যে, মাস ছয়েকের ওই শিশুর চোখে অ্যাসিড দেওয়া হয়নি। কোনো ওষুধের বিষক্রিয়ায় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে ওই শিশুটি।

পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, জয়ন্তের চারটি বিয়ে এবং একাধিক সন্তান রয়েছে। নিজে বেকার, কোনো উপার্জন করে না। নিজের মেয়েকে অন্ধ করে মা-ভাইদের ফাঁসানো এবং তাকে দিয়ে ভিক্ষা করানোর উদ্দেশ্যেই অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের কাছে সে স্বীকার করে।

Advertisements
Loading...