ঈশ্বরদী-পাবনা রেলপথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে আজ

২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করেন

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥ ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের মাঝগ্রাম হতে পাবনা পর্যন্ত রেলপথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে।

ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের মাঝগ্রাম হতে পাবনা পর্যন্ত রেলপথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল বিষয়টি সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুবক্তগীণ। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ করতে সময় বেশি লেগেছে। আশা করছি ১৪ ডিসেম্বর রাজশাহী হতে ঈশ্বরদী হয়ে পাবনায় পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে। প্রথম পর্যায়ে একটি শার্টল ট্রেন পাবনা-ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে চলাচল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাবনা জেলার ১১টি থানার মধ্যে ৩টি থানার কিছু সংখ্যক মানুষ রেলপথ সুবিধা পেলেও জেলার মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এই সুবিধা হতে বঞ্চিত ছিল এতোদিন। পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই রেলপথ নির্মাণের । সেই অপেক্ষার পালা এবার শেষ হচ্ছে। এখন রোমাঞ্চকর ট্রেন ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পাবনাবাসী।

আজ নয়, পাবনার মানুষের শত বছরের দাবি ছিল এই রেলপথ। ১৯১৪ সালে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সেই সময় প্রথম দাবি উঠে ঈশ্বরদী হতে পাবনা পর্যন্ত একটি লিংক রোড রেল লাইনের। সেই সময় ব্রিটিশরা এই দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলো। তবে সেই প্রতিশ্রুতি কখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে তাৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের এই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করে। সে সময় পাবনায় নদী কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ঈশ্বরদী হতে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেলপথের জন্য জমিও অধিগ্রহণ করা হয়। তবে ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আগামীতে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি এই রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সময় নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী হতে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেই অনুযায়ী ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটি (একনেক) বৈঠকে এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২৯ কোটি টাকাতে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করেন।

Loading...