আমি যদি স্মার্টফোন হতাম!!!!

একটি ছোট্ট শিশুর ইচ্ছা সে স্মার্টফোন হতে চাই, কিন্তু কেন এই ইচ্ছা?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিদ্যালয়ে আমাদের অনেক ধরণের রচনা লিখতে হয়। বেশিরভাগ রচনাই আমরা অন্য বই থেকে পড়ে বুঝে তারপর পরীক্ষায় লিখি। কিন্তু রচনাটি যদি বাস্তবতা বা আপনার ইচ্ছা সম্পর্কে লিখতে বলা হয় তাহলে আপনার কাছ থেকে জাতি কিছু একটা শিখতে পারবে।

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এমনি একটি রচনা লিখতে বলা হয়েছিল। রচনাটি হল, “তোমার ইচ্ছা সম্পর্কে একটি রচনা লিখ।” অনেকেই তাদের ইচ্ছা সম্পর্কে রচনা লিখলো, অনেকেই লিখলো আমি ডাক্তার হতে চাই। আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু একটা ছোট্ট শিশু এমন একটি রচনা লিখলো যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাহলে পড়ুন কি সেই রচনাটি।

আমার ইচ্ছা আমি স্মার্টফোন হবো:

আমার বাবা মা স্মার্টফোন খুব ভালোবাসে। কিন্তু আমায় ভালোবাসে না। যেখানে যায় আমার বাবা তার স্মার্টফোন সঙ্গে করে নিয়ে যায়। কিন্তু আমায় সঙ্গে করে নিয়ে যায় না।

ফোন এলে আমার মা তাড়াতাড়ি গিয়ে ফোন ধরে। কিন্তু আমি কান্না করলেও আমার কাছে আসে না মা। আমার বাবা স্মার্টফোনে গেম খেলে। কিন্তু আমার সাথে খেলে না। আমি বাবাকে বলি আমায় একটু কোলে নাও না বাবা। কিন্তু বাবা আমায় কোলে নেয় না। স্মার্টফোনটাই সব সময় বাবার কোলে থাকে।

মাকে গিয়ে বলি, মা মা চলো না আমার সাথে একটু খেলবে। কিন্তু আমার মা আমার উপর রেগে গিয়ে বলে, দেখতে পাচ্ছিস না আমি এখন তোর মামার সাথে চ্যাটে কথা বলছি।

আমার বাবা মা রোজ স্মার্টফোন টাকে যত্ন করে মোছামুছি করে। কিন্তু আমায় একটুও আদর করে না। আমার মা যখন বাবার সাথে ফোনে কথা বলে তখন মা স্মার্টফোনে বাবাকে পাপ্পি দেয়। কিন্তু আমায় একদিনও পাপ্পি দেয়নি মা।

আমার বাবা মাথার কাছে স্মার্টফোন নিয়ে ঘুমায়। কিন্তু আমায় কোনোদিনও জড়িয়ে ধরে ঘুমায় না। আমার মা রোজ চার পাঁচবার স্মার্টফোন টিকে চার্জ দেয়। কিন্তু মাঝে মাঝে আমায় খাবার দিতে ভুলে যায় মা। কিন্তু স্মার্টফোন টিকে চার্জ দিতে ভুলে না আমার মা। তাই আমি স্মার্টফোন হবো। আমার ইচ্ছা স্মার্টফোন হয়ে বাবা মায়ের সাথে সবসময় থাকতে চাই।

একটি শিশু কখন এমন একটি রচনা লিখতে পারে আপনি একটু ভেবে দেখুন। তার ছোট্ট মনে কতটা কষ্ট সে লুকিয়ে রেখেছিল। আমাদের সমাজে এমন অনেকে আছেন যারা তাদের শিশুদের ঠিক মত খেয়াল রাখেন না কিন্তু স্মার্টফোনের ঠিকই খেয়াল রাখেন। আমাদের উচিৎ শত ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের সময় দেওয়া, তাদের একটু আদর করা,তাদের সাথে একটু খেলা করা। তাহলে আপনার মনও ভাল থাকবে এবং আপনার সন্তান ও অনেক আনন্দে থাকবে।

পরবর্তী পোষ্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন এবং এই পোষ্টটি শেয়ার করে মানুষকে সচেতন করুন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...