চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন চলছে ॥ জোট মহাজোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বিপুল উৎসবের আমেজে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। চার সিটিতেই জোট ও মহাজোটের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

four City Corporation election-01

চার সিটিতে মেয়র পদে ৩ জন করে ১২ জন, কাউন্সিলর পদে ৫৪৭ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৯০ জনসহ মোট ৭৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন চার সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ১১৮ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৩৯টি সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর। ভোটগ্রহণের জন্য ৬৫২টি ভোট কেন্দ্রের ৩ হাজার ৮০৯টি কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে ১২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রায় পাঁচ বছর পর চার সিটির ভোটাররা তাদের নতুন নগরপিতা নির্বাচিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোট গ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে চার সিটি এলাকা। আজ নির্বাচনী এলাকায় থাকবে সাধারণ ছুটি। প্রত্যেকটি সিটির একটি ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণের ব্যবস্থাও থাকছে।

স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এ নির্বাচন এরই মধ্যে দেশের জাতীয় রাজনীতির প্রভাবে পুরোপুরি দুই জোটের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সমর্থক মহাজোট ও বিএনপি সমর্থিত বিরোধী জোট শুরু থেকেই চার সিটির মেয়র পদে তাদের একক প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা হয়ে লড়াইয়ে নেমেছে। বড় দুই জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও এ নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে চার সিটি নির্বাচনের ফলকে জাতীয় রাজনীতির ব্যারোমিটার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
four City Corporation election

রাজশাহী

    রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২২। এ সিটিতে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩০টি, ভোটকেন্দ্র ১৩৭টি, ভোটকক্ষ ৮৭১টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ আছে ১০৭টি। খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৫০৪ ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৬২ জন। আর ওয়ার্ড সংখ্যা ৩১টি। এখানে ভোটকেন্দ্র ২৮৮টি। ভোটকক্ষ ১ হাজার ৪২৮টি। অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৩৩টি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৬২৫ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ৬৩২, এ সিটি কর্পোরেশনে ওয়ার্ড সংখ্যা ৩০টি। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০টি ও ভোটকক্ষ ৬১৪টি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৮১ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৫। এ সিটিতে ওয়ার্ড ২৭টি, ভোটকেন্দ্র ১২৭টি ও ভোটকক্ষ ৮৯৬টি।

    রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ। নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা গ্যাস আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবারও উভয় প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম ওয়াদা গ্যাস নিয়েই। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ছিল দুই প্রধান প্রার্থীরই। শেষ পর্যন্ত লিটন মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেন। কিন্তু সফলতা পেয়েছেন মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভোটাররা দ্বিধা-বিভক্ত। একশ্রেণীর ভোটাররা বলছেন, লিটন গ্যাস আনতে পেরেছেন। এখন সবাই গ্যাস পাবে। আরেক শ্রেণীর ভোটাররা বলছেন, লিটনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সবাইকে গ্যাস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।

    পুলিশ জানায়, প্রতি কেন্দ্রে সশস্ত্র আনসার সদস্যসহ নিয়মিত ফোর্স ছাড়াও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে র‌্যাব-পুলিশের পৃথক মোবাইল টিম কাজ করবে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ থাকবে। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস‘ত থাকবে। কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ দেখা দিলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে বলেও জানানো হয়। এদিকে, রাজশাহীতে ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

    রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিস জানান, রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডের ১৩৭টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ১ হাজার ৮টি ব্যালট বাক্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৭টি কেন্দ্রের জন্য ৮৭১টি ব্যালট বাক্স এবং প্রতি কেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত আরও ১টি করে ১৩৭টি ব্যালট বাক্স বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রের ২০টি বুথে ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক্স ভোটিং মেশিন) এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।

    বরিশাল

নিজ দল সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী না হলে দলীয় চাপের মুখে পড়বেন বরিশালের দুই শীর্ষ নেতা বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশাল মহানগর বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি। তাদের দলীয় হাইকমান্ডের কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে বলে মনে করেন বরিশালের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা এবং রাজনীতি সচেতন মহল। তাই আজ শনিবারের এ নির্বাচন এই দুই নেতার জন্যও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হয়ে উঠেছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১শট ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সার্বিক প্রস‘তি শেষ হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২ লাখ ১০ হাজার ৮৪৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করছে বরিশাল নির্বাচন কমিশন। এবার নির্বাচনে ৩ জন প্রার্থীসহ ১১৬ জন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৭ জন নারী কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

নির্বাচন কমিশন জানায়, দুপুরের পর থেকেই কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরবরাহ করা হয়েছে ভোট সরঞ্জাম। এবার অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বেশি মাত্রায় নজর দেওয়া হয়েছে। বরিশাল মেট্রো-পুলিশ কমিশনার মো. শামসুউদ্দিন জানান, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য শুক্রবার থেকেই গোটা নগরীতে অবস্থান নিয়েছে। বিকাল নাগাদ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে গেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। র‌্যাব-বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা শহরে টহল জোরদার করেছে।

সিলেট

    সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৯ জন ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ৭, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫২ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। পরে ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাছিম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোঃ সামসুজ্জামান জামান ও সিলেট জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদ থেকে ২ ও নারী কাউন্সিলর পদে ১ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর আগে ত্রুটি থাকায় ১১ জন সাধারণ কাউন্সিলরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সংবাদ সম্মেলনে ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। শেষ মুহূর্তে সংখ্যালঘু ভোট, আঞ্চলিক ভোট, ধর্মীয় ভোট ব্যাংক, ভোটের হাওয়া সবকিছুর হিসাব-নিকাশ চলছে।

    সিলেট সিটি নির্বাচনে ২ লাখ ৯১ হাজার ভোটারের মধ্যে ৬১ হাজার রয়েছে সংখ্যালঘু ভোট। প্রায় ৭০ হাজার ভোট ব্যাংক বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতিসহ একাধিক আঞ্চলিক সমিতির আওতাধীন ‘নন-সিলেটি ভোট’ আছে প্রায় এক লাখ। এই তিন ক্যাটাগরির ভোটে যে প্রার্থী বেশি ভাগ বসাতে পারবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন এবারের নির্বাচনে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক বরাবরই কামরানের পক্ষে থেকেছে। এবারও তার খুব বেশি ব্যতিক্রম হবে না বলেই অনেকের ধারণা। তবে মণিপুরী সম্প্রদায়ের কিছু ভোট ভাগ হতে পারে। অন্যদিকে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রকাশ্যেই কাজ করেছে। সিলেটে অত্যন্ত প্রভাবশালী স্থানীয় সংগঠন আঞ্জুমানে আল ইসলাম (আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী প্রতিষ্ঠিত) কোনো প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন না দিলেও সংগঠনের সভাপতি মাওলানা হোসামুদ্দিন আগেই জানান, জামায়াত যেখানে থাকে তার সঙ্গে তারা থাকেন না, এটা তাদের সব সময়ের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। হেফাজতে ইসলামের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজীও জানান, হেফাজত কাওকে সমর্থন দিচ্ছে না। হেফাজত ভোটের রাজনীতিতে পবিত্র ইসলামের ব্যবহার সমর্থন করে না।

    ২৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৬, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১ ৮১, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৫ জন। ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হচ্ছে ৮৮টি। কেন্দ্রসমূহে বুথ থাকবে ৮৯৬টি। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, ২৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯টি ওয়ার্ডে ৩৫ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, তাদের প্রস‘তি পুরোপুরি সম্পন্ন। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে বিজিবি থাকবে ৬ প্লাটুন, র‌্যাব থাকবে ৩শ, পুলিশ থাকবে ৩ হাজার ও আনসার সদস্য থাকবে ১৮শ। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। ইতোমধ্যে আ.লীগ ও বিএনপি উভয় দল প্রশাসনের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। প্রশাসনের প্রতি দুদলের কোনো অভিযোগ নেই। প্রশাসনের প্রতি সন্তুষ্টিকে দুদলের একই ধরনের বক্তব্যকে ভোটাররা সাধুবাদ জানাচ্ছে। ভোটাররা বলছেন, আজ সিলেটে আ.লীগ-বিএনপির জন্য অগ্নি পরীক্ষা।

    খুলনা

খুলনা শহরে এখন টানটান উত্তেজনা। নানা ধরনের শঙ্কা থাকলেও নির্বাচনী গণসংযোগ শেষ হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। শেষতক কী হয় তা দেখার বিষয়। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ হবে, না-কি এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ খুলনা তার অগ্নিমূর্তি ধারণ করবে। নির্বাচনকে ঘিরে খুলনা মহানগরীর জনগণ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। কেও বলছেন, সরকারি ‘দুঃশাসনের’ জবাব দিয়ে ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনিকে বিজয়ী করবে জনগণ। অনেকে আবার ভিন্নমত পোষণ করে বলছেন, ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের কাজের মূল্যায়ন করবেন নগরবাসী।

কেসিসি নির্বাচনে ২৮৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৪২৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২ হাজার ৮৫৬ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

এবারই প্রথম খুলনা সিটি নির্বাচনে ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১টি ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। ৮নং ওয়ার্ডের সর্বমোট ৫টি কেন্দ্রে এ পদ্ধতিতে ভোট দিচ্ছেন ৩ হাজার ৯৫৪ জন পুরুষ ভোটার এবং ২ হাজার ৬৭৬ জন মহিলা ভোটার। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোয়ালপাড়া কমিউনিটি সেন্টার, ক্রিসেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (উত্তর), ক্রিসেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (দক্ষিণ) ও ক্রিসেন্ট কলোনি আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৩ হাজার ৭৪৪ জন পুলিশসহ র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ব্যাটালিয়ন আনসার ও ভিডিপির ৯ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

২৮৮টি ভোটকেন্দ্রের ৮২টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ২০৬টি কেন্দ্রে ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে ৭ জন সশস্ত্র পুলিশ, ১ জন সশস্ত্র ব্যাটালিয়ন আনসার, ২ জন অঙ্গীভূত সশস্ত্র আনসার এবং ১২ জন ভিডিপি সদস্য রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত ২ জন ব্যাটালিয়ান আনসার রয়েছে।

এছাড়া পুলিশের ৩১টি মোবাইল টিম নগরীতে টহল দিচ্ছে। মোতায়েন রয়েছে ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। তাদের সহযোগিতা করতে মাঠে রয়েছে ৭ পস্নাটুন বিজিবি ও ৩ পস্নাটুন কোস্টগার্ড।

উল্লেখ্য, সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডে ১৩৬ জন কাউন্সিলর এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেসিসিতে এবার মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫০৪ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ১৬ হাজার ৬২ জন মহিলা।

চার সিটি নির্বাচন শুরু হয়েছে সকাল ৮টায়- শেষ হবে ৪টায়। ভোট গননার মাধ্যমে জানা যাবে আসলে কে কে হচ্ছেন চার বিভাগীয় শহরের নগর পিতা। তবে ভোটারদের কথা-বার্তায় যেটুকু বোঝা গেছে তা হলো, তারা যোগ্য ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করতে চান। কে সেই যোগ্য ব্যক্তি তা ফলাফলেই বোঝা যাবে। আর সে জন্য রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু শহরকেন্দ্রিক নির্বাচন তাই খুব কম সময়েই ফলাফল পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisements
Loading...