কী কারণে ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের শত্রু ?

১৯৭৯ সালে ইরানে বিপ্লবের পর সেখানে ধর্মীয় নেতারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ইরানের সেই সব নেতারা ইসরায়েলকে বর্জন করার আহ্বান জানান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বের বেশ কিছু দেশ একে অপরের সঙ্গে বাদানুবাদ লেগেই থাকে। বিশেষ করে আমেরিকা ইসরাইলসহ বেশ কিছু দেশের সঙ্গে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর এই বাদানুবাদ বেশি। ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের শত্রু কিন্তু কেনো?

বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক খবরে ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের শত্রু তার বিষয়টি উঠে এসেছে। সম্প্রতি সিরিয়াতে ইরানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইসরায়েল বোমা হামলা চালিয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠে কেনো সিরিয়াতে ইরানের স্থাপনার উপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এই দুই দেশের সম্পর্কটা কেনো এমন?

খবরে বলা হয়, ১৯৭৯ সালে ইরানে বিপ্লবের পর সেখানে ধর্মীয় নেতারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ইরানের সেই সব নেতারা ইসরায়েলকে বর্জন করার আহ্বান জানান।

সেই সময় ইসরায়েলের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে ইরান। তারা বিবেচনা করে যে, ইসরায়েল অবৈধভাবে মুসলমানদের ভূমি দখল করে রেখেছে।

অপরদিকে ইসরায়েল তাদের অস্তিত্বের জন্য ইরানকে তাদের হুমকি হিসেবেই দেখে আসছে তারপর থেকে। ইসরায়েল সব সময় বলে আসছে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত হবে না। ইসরায়েলের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিস্তৃতি দেখে উদ্বিগ্ন।

এদিকে ২০১১ সাল হতে প্রতিবেশী দেশ সিরিয়াতে যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তবে সিরিয়া সরকার ও বিদ্রোহীদের সাথে এই যুদ্ধে ইসরায়েল কোনোসময় যুক্ত হয়নি।

তবে ইরানের অবস্থান ছিল তার উল্টো। ইরান সিরীয় সরকারকে হাজার হাজার সৈন্য ও সামরিক উপদেষ্টা দিয়ে সাহায্য করে এসেছে।

ইসরায়েল আরও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলো যে, ইসরায়েলের পার্শ্ববর্তী আরেকটি দেশ লেবাননের যোদ্ধাদের কাছে গোপনে অস্ত্র দেওয়ার চেষ্টা করছে ইরান। এটি ইসরায়েলকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন যে, তার দেশ সিরিয়াতে ইরানকে কোনো প্রকার ঘাটি তৈরি হতে দেবে না, যা ইসরায়েলের বিপক্ষে ব্যবহার করা হতে পারে।

এই অবস্থায় ইরান যেহেতু সিরিয়াতে একটা শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসে, ইসরায়েলও তাদেরকে ধ্বংস করার জন্য তাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে।

ইসরায়েল এবং ইরান কি যুদ্ধ লিপ্ত হতে পারে? না। এর পিছনে কয়েকটি শক্ত কারণও রয়েছে। ইরানের সঙ্গে রয়েছে শক্তিশালী গ্রুপ যারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রয়েছে। তারা হলো হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের সামরিক সংগঠন হামাস। তারপরও যদি এই দুই দেশ যুদ্ধে জড়ায় তবে তা হবে ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক।

সংবাদ মাধ্যমটির খবরে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের সীমান্তে ইরানের রয়েছে ভারি ভারি অস্ত্র, রয়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। আবার ইসরায়েলের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। বলা হয়, তাদের পরমাণু অস্ত্রও রয়েছে। তাছাড়া সব ধরণের সামরিক সহায়তা দিতে তাদের পাশে সব সময় রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি রাষ্ট্র। তাই এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ না বাদলেও বাদানুবাদ রয়েই যাচ্ছে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...