চাকরির সাক্ষাৎকারে “ আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন” এর উত্তরটি কিভাবে দিবেন

কখনই ভাববেন না আপনার সিভিতে বর্ণনাকৃত প্রতিটি বিষয় স্টেপ বাই স্টেপ জানতে চাওয়া হয়েছে

Bewerbungsgespraech 16:9

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কোন ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনাকে যদি বলা হয় “ আপনার সম্পর্কে কিছু বলেন” তখন আপনার উত্তরটি কেমন হবে একটু ভেবেছেন কী? কখনোও এমনটি ভাববেন না যে, এর দ্বারা আপনার ব্যক্তিগত জীবন বৃত্তান্ত জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আপনার বাবা- মা, বংশ পরিচয়, পারিবারিক অবস্থা বা এলাকার ঠিকানা ইত্যাদি।

আবার এমনটিও ভাববেন না যে, সেখানে আপনার সিভিতে বর্ণনাকৃত প্রতিটি বিষয় স্টেপ বাই স্টেপ জানতে চাওয়া হয়েছে। অনেক ব্যক্তিই আছেন যারা বিষয়টি না বুঝতে পেরে এই জাতীয় উত্তর করে থাকেন। মনে রাখবেন এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভবনা এবং সাক্ষাৎ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মনতুষ্টির বিষয়টি লুকিয়ে রয়েছে। এমন ভাবে বর্ণনা করবেন যেন তারা বুঝতে পারে আপনিই এই পদের জন্য প্রকৃত উপযুক্ত ব্যক্তি। এক্ষেত্রে আপনি একটি সূত্র ব্যবহার করতে পারেন যা সবচেয়ে কার্যকর এবং আপনাকে সহজে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করবে। সূত্রটি হল,

“বর্তমান, অতীত এবং ভবিষ্যৎ”

সূত্রের প্রথমে রয়েছে বর্তমান। তাই প্রথমে আপনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়ার সময় আপনার নাম বলার পর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলুন। অর্থাৎ আপনি বর্তমানে কোথায় চাকরি করছেন এবং আপনার পদবি বা দায়িত্ব কী সেই বিষয়ে বর্ণনা দিন।

অতীত, এখন আপনি অতীতে যে সকল সাফল্য অর্জন করেছেন সেই বিষয়ে বর্ণনা দিন। অর্থাৎ আপনি যেই পোষ্টে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছেন সেই বিষয়ের সাথে রিলেটেড আপনার অর্জন সমূহ সুন্দরভাবে বর্ণনা করুন। কারণ এর মধ্যে আপনার দক্ষতা কেমন তা প্রকাশ পাবে।

ভবিষ্যৎ, সূত্রের শেষে রয়েছে ভবিষ্যৎ। তাই আপনার অতীত সম্পর্কে বর্ণনা করার পর এখন আপনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বর্ণনা দিন। অর্থাৎ আপনি কেন এই পোষ্টে চাকরি করার জন্য আগ্রহী সেই বিষয়ে সুন্দরভাবে গুছিয়ে বলার চেষ্টা করুন। কারণ এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আপনি এই পোষ্টে চাকরির জন্য কতটুকু আগ্রহী এবং কেমন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবেন সেই বিষয়গুলো।

উদাহরণ স্বরুপঃ আমি সজিব আহমেদ। আমি বর্তমানে মেট্রো হেলথ সেন্টার লিমিটেডের একজন অ্যাকাউন্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়ত্ব পালন করছি। যেখানে আমি কোম্পানির সেরা পারফর্মিং ক্লায়েন্টদের পরিচালনা করি। অতীতে আমি একটি কোম্পানিতে তিনটি প্রধান স্বাস্থসেবা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছি এবং সেখান থেকেই আমি স্বাস্থসেবার বিষয়গুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে পরি। আপনাদের কোম্পানির স্বাস্থ সেবার সিস্টেমগুলো আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। তাই আমি এই পোষ্টে দায়িত্ব গ্রহন করে আমার দক্ষতার মাধ্যমে কোম্পানিকে প্রকৃত সাফল্য অর্জন করাতে চাই।
এভাবে আপনি সূত্র মেনে নিজের সম্পর্কে বর্ণনা দিন। তাহলে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীরা আপনার সম্পর্কে পজিটিভ চিন্তা করবে এবং আপনার চাকরিটা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকবে।

Advertisements
Loading...