আপনি কী জানেন হামটি ডামটি ছড়ার মূল ইতিহাস বা রহস্য?

প্রতিটি ছড়া বা কবিতার পেছেনেই রয়েছে দুঃখ- আনন্দ বা মজার মজার ইতিহাস

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রতিটি সৃষ্টির পেছনেই একটি রহস্য বা ইতিহাস লুকিয়ে থাকে। সেটা কোন প্রানী হোক বা কোন বস্ত। আমরা ছোটবেলা অনেক মজার মজার কবিতা পড়েছি। বাংলা এবং ইংরেজিতে লেখা সেই কবিতাগুলো এখনো শিশুদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। কখনো কি ভেবেছি এই কবিতা বা ছড়াগুলো কবিরা কি এমনি এমনিই লিখেছিলেন নাকি এর পেছনেও কোন ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে? অবশ্যই প্রতিটি কবিতার পেছেনেই রয়েছে দুঃখ- আনন্দ বা মজার মজার ইতিহাস। আজ আমরা এমনি কিছু ইংরেজি কবিতা রচনার ইতিহাস জানবো।

পুসিক্যাট পুসিক্যাটঃ

এই ছড়াটি নার্সারী লেভেল বা যে কোন ইংরেজি ছড়ার বইতে পাওয়া যায়। অনেক মজার একটি ছড়া। ১৬ শতকের দিকে ইংল্যান্ডের একটি ঘটনার উপর ভিত্তি করে এই ছড়াটি রচিত হয়েছিল। এই ছড়াটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথের কাহিনী। প্রথম এলিজাবেথ ১৫৫৩-১৬০৩ খ্রীঃ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রাণী ছিলেন। রাণী প্রথম এলিজাবেথের একজন কর্মচারীর একটি বিড়াল ছিল। উইন্ডসর ক্যাসেল হচ্ছে ইংল্যান্ডের একটি রাজপ্রসাদ। কর্মচারীর সেই বিড়ালটি উইন্ডসর ক্যাসেলের সব জায়গায় ইচ্ছে মত ঘুরে বেড়াতো। ধারণা করা হয়, এটি বসবাসযোগ্য রাজপ্রাসাদের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজপ্রাসাদ।

একবার এই উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজকীয় অনুষ্ঠানে রানী তার রাজসিংহাসনের বসেছিলেন। এমন সময় বিড়ালটি সিংহাসনের নিচ দিয়ে লুকিয়ে যাবার সময় তার লেজ রাণীর পা স্পর্শ করে যায়। এতে রাণী ভয় পেয়ে চমকে উঠে। পরে তিনি লক্ষ্য করে দেখেন সেটি আসলে বিড়াল ছিল। তা দেখে বিড়ালের মালিক তো ভয় পেয়ে গিয়েছিল। না জানি এর জন্য রানী তাকে কি শাস্তি দিবে। তবে মজার কথা হল রাণী ভয় পেলেও কিন্তু বিড়ালের মালিকের উপর রাগ করেননি। কারণ রাণী ছিলেন খুব রসিক এবং দয়ালু।

সবাই রানীর দিকে লক্ষ্য করলেন। তখন রানী রাজ কর্মচারীদের মজা করে বললেন, “বিড়ালটি হয়তোবা সিংহাসনকে ইঁদুরের হাত রক্ষা করার জন্য পাহারা দিচ্ছে।” রাণী বিড়ালটির মালিককে অভয় দিয়ে বললেন, “তোমার বিড়াল রাজসভায় ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে পারবে। তবে শর্ত একটাই রাজসভাকে ইদুরমুক্ত রাখতে হবে।” এই কাহিনীর উপর ভিত্তি করেই কবি Russell Punter এই কবিতাটি রচনা করেন।

হামটি ডামটি স্যাট অন এ ওয়ালঃ

হামটি ডামটি কবিতায় প্রাণির ছবি দেওয়া থাকলেও হামটি ডামটি কিন্তু একটি কামানের নাম। এই নামের সাথে ইংরেজদের এক গৃহযুদ্ধের কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে। ১৬৪২ খ্রীস্টাব্দে ইংরেজদের ওই গৃহযুদ্ধটা পার্লামেন্টারিয়ান ও রয়ালিস্টদের মধ্যে শুরু হয়েছিল।, পার্লামেন্টারিয়ানরা চায় সংসদীয় পদ্ধতি আর রয়ালিস্টরা চায় রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে। এই দ্বন্দ্বের কারণেই সেই ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি কামানের নাম ছিল হামটি ডামটি।

কামানটি ছিল বিশাল আকৃতির। যুদ্ধ চলাকালে কোলচেস্টার দখলের সময় এই কামানটি কাজে লাগানো হয়। প্রথম চার্লস এই যুদ্ধে রাজতন্ত্রীদের পক্ষে ছিলেন। যুদ্ধের সময় একেক এলাকায় একেক দল প্রভাব বিস্তার করে রাখে। যদিও কোলচেস্টারে পার্লামেন্টারিয়ানেদের প্রভাব বেশি ছিল তবুও রাজতন্ত্রীরা এটি দখল করে ফেলে। কোলচেস্টার দখল করার পরপরই রাজতন্ত্রীরা এই এলাকা দেয়ালঘেরা এক সুরক্ষিত দূর্গে পরিণত করে ফেলে।

সেন্ট মেরির চার্চ ওই দেয়ালের সাথে লাগানো ছিল। রাজতন্ত্রীরা বুদ্ধি করে ওই চার্চ সংলগ্ন দেয়ালের উপর হামটি ডামটি কামানটাকে বসায়। কামানটি অনেক বড়সর হওয়ায় দেওয়ালের উপর বসাতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল। কিন্তু একদিন পার্লামেন্টারিয়ানদের এক গোলার আঘাতে দেয়ালটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। হামটি ডামটি নামের সেই বৃহৎ কামানটিও দেওয়ালের উপর থেকে মাটিতে গড়িয়ে পরে। রাজার ঘোড়সওয়ার বাহিনী এবং অন্যান্য লোকজন (অল দি কিংস হর্সেস অ্যান্ড অল দি কিংস মেন) সবাই মিলে কামানটি আবার জোড়া লাগিয়ে দেয়ালের অন্যদিকে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কামানটি এতো ভারি ছিল যে তাদের মিলিত চেষ্টাতেও তা পুনরায় দেওয়ালের উপর তোলা সম্ভব হয় নি। রাজতন্ত্রীরা তখন পার্লামেন্টারিয়ানেদের কাছে যুদ্ধে হেরে যায় এবং অস্ত্র নামিয়ে রেখে দূর্গের দরোজা খুলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। কোলচেস্টার হাতছাড়া হওয়ায় রয়ালিস্টদের পতন তরান্বিত হয়। ফলে এই যুদ্ধ ১৬৪৯ সালে শেষ হয়। এই কাহিনীর উপর ভিত্তি করে MOTHER GOOSE ছড়াটি রচনা করেছিলেন।

টুইংকল টুইংকল লিটল স্টারঃ

‘টুইংকল টুইংকল লিটল স্টার’ ছড়াটি সারা বিশ্ব জুড়েই সবার কাছে জনপ্রিয়। কোন বাচ্চা ইংরেজি ছড়া শিখলে প্রথমেই এই ছড়াটি শিখে থাকে। মহাকাশ সম্পর্কে কৌতুহলী করতে এই ছড়ার জুড়ি নেই। ছোটদের কল্পনার জগতকে আরও রঙিন করে দিতে ছড়াটির জুড়ি নেই। ইংরেজি এই ছড়াটির জন্মভুমি হচ্ছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের অ্যান টেইলর এবং তার বোন জেন টেইলর দুজন মিলে এই ছড়াটি লিখেছিলেন। ১৮০৬ সালে প্রথম ছড়াটি প্রকাশিত হয়। ছড়াটি প্রকাশিত হবার পর পরই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিভিন্ন ছড়ার বইগুলোতে ছড়াটির প্রথম ৪ লাইন থাকলেও মুল ছড়াটি ২০ লাইনের মোট পাঁচটি পংক্তি রয়েছে। মুল ইংরেজি ছড়াটির শিরোনাম ছিল ‘দি স্টার’।

Advertisements
Loading...