নিজের অপারেশন নিজেই করেছিলেন যারা!

বিশ্বে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন যারা নিজের অপারেশন নিজেই করেছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অপারেশনের কথা শুনলেই অনেকেই ভয়ে আঁতকে ওঠে। বাঁচা-মরার চিন্তা শুরু হয়ে যায়। অথচ বিশ্বে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন যারা নিজের অপারেশন নিজেই করেছেন। আজ আমরা সেই সব সাহসী ব্যক্তিদের অপারেশনের ইতিহাস জানবো।

সার্জন ইভান ও’নেইলঃ

সার্জন ইভান ও’নেইল ছিলেন আমেরিকার একটি হাসপাতালের প্রধান সার্জন। যখন তার বয়স ৬০ বছর তখন ১৯২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে তিনি পেটে ব্যাথা অনুভব করেন এবং বুঝতে পারেন তার অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করতে হবে। হঠৎ তিনি সিদ্ধন্ত নিলেন নিজের অপারেশন নিজেই করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ শুরু হল। কেউ তাকে নিষেধ করতে পারেন নি। কারণ ওই হাসপাতালের তিনিই
ছিলেন প্রধান ডাক্তার।

ইভান একটি বালিশ নিয়ে পিঠের পেছনে রেখে এমনভাবে বসলেন যাতে তিনি তার পেট দেখতে পান। তিনি নিজেই তার পেটে কোকেন আর এড্রেনালিন প্রয়োগ করলেন। তারপর শুরু হল আসল মিশন। তিনি অ্যাপেনডিক্সের পজিশন অনুযায়ী পেটের ওপরের টিস্যু কেটে ফেললেন। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ইভান সফলভাবে তার অ্যাপেনডিক্স অপারেশন শেষ করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে আবার নিজের কাজে যোগ দিলেন।

পরবর্তীতে তার কাছে নিজে নিজে অপারেশনের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এ কাজের উদ্দেশ্য ছিল, অপারেশন থিয়েটারে একজন রোগী কেমন অনুভব করে সেটা জানা। এছাড়া অপারেশনের সময় শরীরের কোনো বিশেষ অংশ সাময়িকভাবে অবশ করে দেয়ার উপযোগিতা কতটুকু তা যাচাই করা।” পরবর্তীতে ৭১ বছর বয়সে আবার নিজে নিজেই তার হার্নিয়া অপারেশন শুরু করেন। তবে এবার তিনি সফল হতে পারেন নি। ফলে তার ৩মাস পর তিনি মারা যান।

লিওনিদ রগোজভঃ

লিওনিড আইভানোভিচ রগোজভ ছিলেন অস্ত্রোপাচারে পারদর্শী একজন রাশিয়ান চিকিৎসক। তিনি ১৯৬০-১৯৬১ সালের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ষষ্ঠ এন্টার্কটিকা অভিযানের ১২ সদস্য বিশিষ্ট দলের একমাত্র ডাক্তার ছিলেন। একদিন হঠাৎ তিনি পেটে অ্যাপেনডিক্সের তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তিনি সাধারন সকল চিকিৎসা পদ্ধতিই প্রয়োগ করেন কিন্তু তার অবস্থায় আরো খারাপের দিকে যেতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে তার জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু ওই দলে তিনিই ছিলেন একমাত্র চিকিৎসক। এছাড়া নিকটে কোন হাসপাতাল না থাকায় ২৭ বছর বয়সী লিওনিদ নিজেই নিজের অপারেশন করতে বাধ্য হন। অপারেশন শুরু হয় ১৯৬১ সালের ৩০ এপ্রিল রাত ২২:০০ টায়। তার কাজে সহযোগিতার জন্য দু’জনকে বাছাই করেন। একজন তার ড্রাইভার এবং অন্যজন আবহাওয়াবিদ।

তারা লিওনিদকে তার অপারেশনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, লাইট সরবরাহ ও আয়না স্থাপনে সহায়তা করেন। ফলে তিনি দক্ষতার সাথে তার অপারেশন করতে সক্ষম হন। কিন্তু অপারেশন করার সময় হঠাৎ তিনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পরেন। তিনি লক্ষ্য করেন তার অ্যাপেনডিক্সের এমন অবস্থা হয়েছে, যেকোন সময় সেটি ফেটে যেত। তবুও তিনি সফল্ভাবে নিজের অপারেশন শেষ করেন।

পরবর্তীতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং সুস্থ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর তিনি পুনরায় তার কাজে যোগদান করেন। তার এই সাহসীকতা এবং সফল কর্মী হওয়ায় ১৯৬১ সালে সোভিয়েত সরকার তাকে “অর্ডার অফ দ্য রেড ব্যানার অফ লেবার” পুরষ্কারে ভূষিত করেন। পরবর্তীতে ২১ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে ৬৬ বছর বয়সে ফুসফুস ক্যন্সারে আক্রান্ত হয়ে এই সাহসী ডাক্তার মৃত্যুবরণ করেন।

Advertisements
Loading...