চাঁদে কী সত্যিই বরফ রয়েছে?

চন্দ্রায়ন-১-এর তোলা ছবি থেকেই চাঁদে বরফের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাবিশ্বের নানা অজানা তথ্য দিনদিন উন্মোচন হচ্ছে তবুও মানুষের মনে রয়ে যাচ্ছে নানা প্রশ্ন। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হচ্ছে চাঁদ, এই চাঁদকে ঘিরেও রয়েছে বিভিন্ন মতামত। এমনি একটি বিষয় হচ্ছে চাঁদে বরফ রয়েছে কি নেই। বিভিন্ন সময়ের নানা গবেষণায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন চাঁদে বরফ রয়েছে কিন্তু নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেনি কেউ।

তবে ইসরোর পাঠানো মহাকাশযান চন্দ্রায়ন-১-এর তোলা ছবি থেকেই চাঁদে বরফের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। শনিবার ২০ আগস্ট ২০১৮ ইং প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে চাঁদের মাটিতে বরফ থাকার প্রমাণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে সুসংবাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড়, জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা টুইটারে জানিয়ে দিয়েছে যে, চাঁদের দুই মেরুতে প্রচুর পরিমাণে বরফ রয়েছে।

তারা চন্দ্রায়ন-১-এর তোলা ছবি থেকেই নিশ্চিত হয়েছেন, দক্ষিণ মেরুতে বড় বড় গর্তের মধ্যে বরফ জমাট বেঁধে রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর মেরুতে বরফ বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। নাসার চন্দ্রবিজ্ঞানী সারাহ নোবেল জানিয়েছেন, “যেহেতু চাঁদের দুই মেরুতে প্রচুর বরফ রয়েছে তাই সেখানে কি পরিমাণে পানি রয়েছে তা নিশ্চিত করে এখনো বলা যাবে না।” চাঁদের মেরুতে সূর্যের আলো না পৌছানোর কারণে সেই অঞ্চলগুলো ভয়ানক অন্ধকার এবং খুব হিম শীতল। তাপমাত্রা সাধারণত মাইনাস ২৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

অতীতে অনেক বিজ্ঞানীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফের সম্ভাবনার পরোক্ষ প্রমাণ পেয়েছিলেন। তবে প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ না পাওয়ায় তারা কোন সুনিশ্চিত মতামত দেন নি। ইসরোর প্রেরিত চন্দ্রায়ন-১ মহাকাশযানে পাঠানো হয় নাসার মুন মিনারেলজি ম্যাপার অভিযানের এমথ্রি যন্ত্র যা বিভিন্ন সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে। ২০০৯ সালে চাঁদে পানি আবিষ্কারেও বিজ্ঞানীদের সহায়তা করেছিল এমথ্রি। এমথ্রি হচ্ছে, একটি ইমেজিং স্পেকট্রোমিটার, যার হালকা তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিমাপের ক্ষমতা রয়েছে। এটি বিজ্ঞানীদের উপকরণ গঠন সম্পর্কে জানিয়েছে। এমথ্রি বেশ সফল একটি যন্ত্র।

তবে বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন শুধু দুই মেরুতেই না চাঁদের আরো অনেক জায়গায় বরফ রয়েছে। এই সুসংবাদ বিজ্ঞানীদের চাঁদে মানুষের বসবাস নিয়ে পরিচালিত গবেষণাকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। তারা আশা করছে, চাঁদে যে মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে এই বিষয়ের গবেষণায় তারা শিগ্রই সফল হবে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...