৮৯ বছর বয়সেও পিএইচডি’র পরীক্ষা দিচ্ছেন ভারতের শরণ বাসবরাজ বিসারাহল্লি!

বয়স বাড়ছে তবুও জীবনের এই ইচ্ছে পূরণের উদ্দেশ্যেই জোরকদমে চলছে তার পড়াশোনা!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বয়স তার কাছে কোনোই বাধা নয়। এমনই এক ব্যক্তি হলেন ভারতের ৮৯ বছর বয়সী শরণ বাসবরাজ বিসারাহল্লি। তিনি এই বয়সেও পিএইচডি’র পরীক্ষা দিচ্ছেন!

তার বয়স হয়েছে `মাত্র` ৮৯ বছর! এমনটা ভাবার কারণ হলো বয়সটা নিতান্তই তার কাছে একটা সংখ্যা মাত্র। এই বয়সেও তিনি তার লক্ষ্যে অবিচল। পড়তে চান, আরও অনেক পড়তে চান শরণবাসবরাজ বিসারাহল্লি। ভারতের কর্ণাটকের কোপ্পাল এলাকার এই স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা সমাজসেবী বর্তমানে পিএইচডি করছেন। যদিও একাধিকবার চেষ্টা করেও আসেনি তার সাফল্য।

বয়স বাড়ছে তবুও জীবনের এই ইচ্ছে পূরণের উদ্দেশ্যেই জোরকদমে চলছে তার পড়াশোনা। এবারের কন্নড় সাহিত্যে পিএইচডি পরীক্ষায় তাকে পাশ করতেই হবে। সময় পেলেই বই নিয়ে পড়তে বসে যান তিনি। পড়াশোনা ছাড়া যে তিনি বাঁচতেই পারেন না একদম। তাই তো হাম্পি বিশ্ববিদ্যালয় হতে এবার পিএইচডি পরীক্ষায় পাশ করার জন্য মরিয়া হয়েছেন তিনি। তিনিই সম্ভবত একমাত্র বেশি বয়সী প্রার্থী হিসেবে পিএইচডি এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে চলেছেন। ইতিমধ্যে ১৫টি বই লিখেছেন তিনি। আইনে ডিগ্রি রয়েছে, মাস্টার্স ডিগ্রিও করেছেন তিনি। তবুও পড়াশোনায় খামতি রাখতে চান না শরণবাসবরাজ বিসারাহল্লি।

শরণবাসবরাজ বিসারাহল্লির ১৯২৯ সালে কর্ণাটকের কোপ্পালে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সেই জড়িয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে। কিশোর বয়সেই তিনি পেয়েছিলেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে জয়ের স্বাদ। তারপর ইন্টারমিডিয়েট পাস করে তিনি লৈথাদেবীকে বিয়ে করেন। সেই সময় তিনি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন একটি প্রাইমারি স্কুলে। ১৯৯১ সালে শিক্ষক পদ গদে অবসরগ্রহণ করেন শরণবাসবরাজ বিসারাহল্লি। এরপরই তিনি ঠিক করেন, নিজেকে আরও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন। তারপর শুরু করেন আইন নিয়ে পড়াশোনা। আইনে স্নাতক হওয়ার পর স্নাতকত্তোরের লক্ষ্যে এগিয়ে যান তিনি। কর্নাটক বিশ্ববিদ্যালয় হতে কন্নড় সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। তবে তার পিএইচডি-র স্বপ্নপূরণ হয়নি তখন। এর কারণ হলো তিনি ৫৫ শতাংশের কম নম্বর পেয়েছিলেন। তাই ওই বিষয়ে তিনি আবারও মাস্টার্স করেন। এবার ৬৬ শতাংশ নম্বর পাওয়ায় তার সামনে খুলে গেছে পিএইচডি এন্ট্রান্স পরীক্ষার দ্বার। আগামী বছর শেষ করতেই হবে লেখাপড়ার পাঠ।

শরনবাসবরাজ বিসারাহাল্লি সংবাদ মাধ্যম জিনিউজকে বলেছেন, ‘গত বছরে পরীক্ষা দিয়েছিলাম তবে পাশ করতে পারিনি। এই বছরেও পরীক্ষা দেবো। এবারের পরীক্ষা নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী।’

শরণবাসবরাজ বিসারাহল্লির বড় ছেলে শিবানন্দ বলেছেন, ‘বাবা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। হায়দরাবাদ মুভমেন্টে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। উনি খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণ মানুষ। ভোররাত ৩টার সময় ঘুম থেকে ওঠেন, প্রার্থনা করেন। তারপর খবরের কাগজ পড়েন। তারপরই তিনি পড়তে বসে যান। ঘুমিয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত পড়তে ভালোবাসেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং শিক্ষকতা- দু`ক্ষেত্রেই পেনশন পান বাবা। একটা টাকাও নিজের কাছে রাখেন না তিনি। সব দিয়ে দেন সমাজসেবার কাজে।’

পিএইচডি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করলে তিনি কী করবেন? উত্তরে শরণবাসবরাজ বিসারাহল্লি বলেছেন, ‘বচন সাহিত্য নিয়ে পড়বো। এটা কন্নড় সাহিত্যেরই একটা অংশ। পাশ করলেই আগে আমি একটা গাইড খুঁজবো। তার সাহায্যেই এগিয়ে যাবো আরও সামনের দিকে!’ সত্যিই এমন পড়া পাগল মানুষ বোধহয় সমাজে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

Advertisements
Loading...