পরপারে চলে গেলেন ডায়ানার প্রেমিক অলিভার

ক্যান্সারে ভুগে ৭৩ বছর বয়সে ফ্রান্সে মারা গেছেন ডায়ানার প্রাক্তন সেই প্রেমিক অলিভার হোর

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পরপারে চলে গেলেন প্রাক্তন যুবরানি ডায়ানার প্রেমিক অলিভার। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লসের খুব ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু।

ক্যান্সারে ভুগে ৭৩ বছর বয়সে ফ্রান্সে মারা গেছেন ডায়ানার প্রাক্তন সেই প্রেমিক অলিভার হোর। ডায়ানার বাকি যে ক’জন প্রেমিকের কথা শোনা যায় (জেমস হেউইট, উইল কার্লিং, জেমস গিলবে, হাসনাত খান ও ডোডি আল ফায়েদ) তাদের মধ্যে অলিভারকেই সব চেয়ে সৌম্য দর্শন বলে মনে করা হতো। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ডায়ানা-অলিভারের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক হইচই শুরু হলেও প্রেমিকপ্রবর কখনও তা স্বীকার করেননি।

সে সময় শোনা যায়, কেনসিংটন প্যালেসে ঢোকার সময় ডায়ানা নাকি একবার অলিভারকে গাড়ির ডিকিতে নিয়ে এসেছিলেন। একবার রাজপ্রাসাদের রক্ষীরা অর্ধনগ্ন অবস্থায় অলিভারকে খুঁজে পান একটি তেজপাতা গাছের পিছনে। সেবার মাঝরাতে হঠাৎ করেই ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠায় তৎপর হয়ে উঠেছিলেন রক্ষীরা। তার পরেই ওই কাণ্ডটি ঘটে!

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, ডায়ানা একটা সময়ে অলিভারকে নিয়ে রাতদিন মগ্ন থাকতেন। প্রাক্তন যুবরানির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী লেডি বোকারকে (এক কূটনীতিকের স্ত্রী) ডায়ানা বলেছিলেন যে, তিনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন, সুপুরুষ অলিভারের সঙ্গে ইতালিতে জীবন যাপন করছেন। তিন সন্তানের জনক অলিভার অবশ্য তার ধনকুবের স্ত্রীকে ছেড়ে যাওয়ার কথা কোনও চিন্তাও করেননি। অলিভার ছিলেন শিল্পসামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শিল্পকলার ইতিহাসের এই ছাত্র সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ক্রিস্টিজ-এ যোগ দেন। পরে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন ইসলামি শিল্পকলায়।অলিভারের স্ত্রী ডায়ান ছিলেন তেল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী। ১৯৯৪ সাল নাগাদ প্রাক্তন যুবরানির সঙ্গে সম্পর্ক হতে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন অলিভার। তবে ডায়ানা সেই সময় অলিভারের বাড়িতে ফোন করে করে পাগল করে দিতেন বলে দাবি করা হয়।

পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর জোরাজুরিতে পুলিশে খবর দিতে বাধ্য হন অলিভার। তদন্তে দেখা যায় যে, কেনসিংটন প্রাসাদের ব্যক্তিগত ফোন লাইন হতে ৩০০টি কল এসেছে অলিভারের বাড়িতে। অন্য বেশ কিছু কল এসেছিল কেনসিংটন এলাকার সাধারণ ফোন থেকেও। পরে অবশ্য অলিভারের অনুরোধেই তদন্ত বন্ধ করে দেয় বৃটিশ পুলিশ। ১৯৯৫ সালে মার্টিন বশিরের কাছে এক সাক্ষাৎকারে ডায়ানা স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি অলিভারকে মাঝে-মধ্যে ফোন করেছেন, ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে বেশ কয়েক বার। তবে তাই বলে ৩০০ বার কিছুতেই নয়!

Advertisements
Loading...