২০০০ সালের আগে কেমন ছিল এবং ২০২০ সালের পরে কেমন হবে

দিনদিন প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষের শারিরীক পরিশ্রম বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দিনদিন প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষের শারিরীক পরিশ্রম বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন ২০০০ সালের আগের পৃথিবী এবং ২০২০ সালের পরের পৃথিবীর মধ্যে কতটা পার্থক্য হতে পারে? আজ আমরা আলোচনা করব ২০০০ সালের আগে পৃথিবীর বিভিন্ন জিনিসের অবস্থা কেমন ছিল বর্তমানে কেমন আছে এবং ২০২০ সালের পর কেমন হবে।

১। যোগাযোগের কথা বলতে গেলে এক সময় মানুষ পায়ে হেঁটে যোগাযোগ করত। ধীরে ধীরে আবিষ্কৃত হল ঘোরার গাড়ি, গরুর গারি ইত্যাদি। যোগাযোগ আরো দ্রুত করার জন্য আবিষ্কৃত হল যান্ত্রিক মটর চালিত গাড়ি যেমন বাস, ট্রাক, জীপ, মটরসাইকেল ইত্যাদি। তাতেও মানুষের তৃপ্তি হল না। আরও দ্রুত যোগাযোগ করতে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লেন, রকেট, বুলেট ট্রেন, হাইপারলুপ ইত্যাদি। এক সময় কোথাও যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করতে কোন রেন্ট এ কার সেন্টারে গিয়ে গাড়ি ভাড়া করতে হত। আর এখন বাসায় বসেই গাড়ি ভাড়া করা যায়। আপনি নিচে নামার আগেই গাড়ি এসে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। ২০২০ সালের পর হয়ত আপনার বাসার ছাদ থেকে কোন আকাশযানের মাধ্যমে কোথাও যেতে পারবেন। বর্তমানে এত সুবিধা থাকার পরেও মনে হচ্ছে যোগাযোগ আরও দ্রুত করতে হবে। কারণ আপনার কোথাও জরুরী যাওয়া প্রয়োজন, কিন্তু এই সব গাড়ীগুলো নির্দিষ্ট সময় ছাড়া কোথাও যাচ্ছে না। ফলে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। তার উপর রাস্তায় ত জ্যাম লেগেই আছে। এই সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত হয়ে গেছে একা একা উড়ে কোথাও যাওয়ার জন্য জেট ইঞ্জিন চালিত এক ধরনের যন্ত্র। যা ব্যবহার করে খুব দ্রুত আপনি একাই উড়ে উড়ে কোথাও যাতে পারবেন। ২০২০ সালের পরই ব্যাপকভাবে এর ব্যবহার শুরু হতে পারে।

২। এক সময় সাদাকালো ছবি ছাড়া রঙ্গিন ছবিও তোলা যেত না সেটাও আবার ফ্লিম সিস্টেম। কেমন ছবি উঠছে তা দেখা যেত না। আমার প্রথম ছবিটা এক স্টুডিওতে উঠেছিলাম। কিছুদিন পর যখন ছবিটা আনতে গেলাম। সে এক অবাক কান্ড। সব ঠিক আছে কিন্তু আমার ছোখ বন্ধ। ফটোগ্রাফার বলল কিছুই করার নেই। আর এখন ছবি তুলে হাজার বার চেক করা যায়। নেই কোন ফ্লিম নষ্ট হওয়ার ভয়। সেই সাথে তো ইচ্ছে মত ইডিটিং সুবিধা রয়েছেই। বর্তমানে একটি ফোন বের হয়েছে যার ১৬টি ক্যামেরা রয়েছে। এই ১৬টি ক্যামেরা একটি ছবিকে বিভিন্ন দৈর্ঘ্য থেকে তুলতে সাহায্য করবে। এই ক্যামেরাগুলো ৬৪ মেগাপিক্সেল সাইজের ছবি তুলতে সাহায্য করবে। ২০২০ সালের পর হয়ত ১৬*২=৩২টি ক্যামেরা বিশিষ্ট ফোন বাজারে আসতে পারে।

৩। আজকে আমেরিকায় নতুন উকিলদের জন্য কোন কাজ নেই, কারণ IBM Watson নামে একটি আইনি software যে কোন নতুন উকিলের থেকে অনেক ভাল ওকালতি করতে পারে। এইভাবে আগামী ২০২০ সালের পর হয়ত প্রায় 90% আমেরিকানদের আর কোন চাকরি থাকবে না। বেঁচে থাকবে খালি বাকি 10%। এই 10% হবে বিশেষ বিশেষজ্ঞ।

৪। প্রাচীন কালে পণ্যের বিনিময়ে পণ্য লেনদেন করা হত। তারপর ধীরে ধীরে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে শুরু হয় কড়ি, মূল্যবান পাথর। এর পর আসে টাকা-পয়সা। বর্তমানে চলছে ভারচুয়াল মুদ্রা যার বাহ্যিক কোন মূল্য নেই কিন্তু অনলাইনে তার ব্যাপক দাম। ২০২০ সালের পর হয়ত এর থেকেও আধুনিক কোন বিনিময় মাধ্যম যুক্ত হতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে প্রযুক্তির উন্নয়নের কথা লিখে শেষ করা খুব দুরুহ ব্যাপার। তবে যত দিন গড়াবে ততই নতুন নতুন বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচর হবে।

Advertisements
Loading...