নওগাঁয় পুকুরে ডুব দিয়ে টানা দুই ঘণ্টা পানির নীচে!

ডুবে থাকা অবস্থায় আগত অনেকেই টাকাসহ বিভিন্ন উপহার দিয়ে সম্মানিত করছিল

রায়হান আলম নওগাঁ থেকে ॥ মৎস মানবখ্যাত মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি দীর্ঘ সময় পানির নিচে অক্সিজেন না নিয়েই থাকতে পারেন। তার এই কৃতিত্বপূর্ণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে নওগাঁবাসীকে দেখিয়ে এক প্রকার তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি পুকুরে এক ডুব দিয়ে দুই ঘন্টা পানির নীচে ছিলেন!

পুকুরের চারদিকে হাজার হাজার মানুষের ভীড়। ইনসেটে মৎস মানবখ্যাত মিজানুর রহমান চৌধুরী ছবি-রায়হান আলম

নওগাঁর একটি স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘একুশে পরিষদ’ এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা হতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নওগাঁ শহরের গাঁজা সোসাইটি পুকুরে মৎস মানবের ডুব প্রদর্শন করা হয়। পুকুরে সাঁতার প্রতিযোগিতা শেষে তিনি একটানা দুই ঘন্টা অক্সিজেন ছাড়াই পানির নিচে এই নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। তিনি পানির নিচে বাঁশের একটি খুঁটিতে বাঁধা চেয়ারে দীর্ঘসময় বসেছিলেন। কিছু সময় পর পর হাত উঁচু করে এবং হাত তালি দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন।

ডুবে থাকা অবস্থায় আগত অনেকেই টাকাসহ বিভিন্ন উপহার দিয়ে সম্মানিত করছিল। তাকে ডাকা হলে পানির থেকে তিনি বুঝতে পেরে হাত বাড়িয়ে দিয়ে করমর্দনও করেন এবং তাকে উপহার হিসাবে টাকা দিলে তিনি টাকাও নিচ্ছেন। পানির নীচে চেয়ারে বসেই তিনি আপেলসহ অন্যান্য খাবার গ্রহণ করছেন এবং খাচ্ছেন।

ডুব প্রদর্শণ দেখতে পুকুরের চারিধারে কয়েক হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশুসহ আবাল বৃদ্ধ বনিতার আগমন ঘটে। এ উপলক্ষে সেখানে এক গ্রামীণ মেলাও বসে। দীর্ঘ সময় মিজানুর রহমান চৌধুরীর পানিতে ডুবে থাকায় আগতদের মনে নানান প্রশ্ন দেখা দেয়। এই নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলেন। অলৌকিক ক্ষমতা ছাড়া এতো সময় অক্সিজেন না নিয়ে কেও পানির নিচে থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন। ডুব প্রদর্শন শেষে সাতার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও বিজিত সাঁতারুদের মাঝে এবং মিজানুর রহমান চৌধুরীকে প্রধান অতিথি হিসাবে পুরস্কার বিতরণ করেন, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। অন্যান্যদের মাঝে পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, পরিষদের উপদেষ্টা সাবেক এমপি ওহিদুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শরিফুল ইসলাম খান, জেলা প্রেসক্লাবে সভাপতি কায়েস উদ্দীন, রফিকুদ্দৌলা রাব্বি, সাধারণ সম্পাদক এমএম রাসেল, ড্যাফোডিলস স্কুলের অধ্যক্ষ মাহবুব আলমসহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্যমানব মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে ডুবে থাকলেও আজ পর্যন্ত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। আমার ডুবে থাকা দেখে মানুষ আনন্দ পায়। জীবনে অনেক কিছুই পেয়েছি। এখন জনগণের সেবা করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থেকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করায় আমার ব্রত। সেই সাথে ‘গ্রিনেচ বুকে’ নাম লেখানো এবং এক ডুব দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।

মৎস মানবখ্যাত মিজানুর রহমান চৌধুরী চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার অতিশ্বর গ্রামে চৌধুরী বাড়িতে ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ২০১৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহাম্মদপুর এ আর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০০০ সালের মে মাসে চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় কচুয়া সরকারি হাইস্কুল মাঠ সংলগ্ন পুকুরে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা পানিতে ডুবে থাকায় তাকে মৎস মানব আখ্যায়িত করা হয়। তিনি চৌধুরী ফাউন্ডেশন আতিশ্বর কচুয়া, চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা। চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করলেও নানা দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে তিনি কুমিল্লায় বসবাস করছেন।

Advertisements
Loading...