The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে মহাপ্লাবন হতে পারে!

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সায়েন্স বিভাগের সাম্প্রতিককালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে সেই ভয়াবহ ভবিষ্যতের অশনি সংকেত

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে এবার। অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে আবারও মহাপ্লাবন হতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে!

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে মহাপ্লাবন হতে পারে! 1

ঘটনাটি খুব বেশি দূর অতীতের ঘটনা নয়। মাত্র সোয়া এক লাখ বছর আগের ঘটনা। পৃথিবীর সবক’টি মহাসাগরের পানিস্তর ৩০ ফুটেরও বেশি উঠে এসেছিল সে সময়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় পুরোটাই চলে যায় পানির তলায়। অ্যান্টার্কটিকার বরফের বিশাল বিশাল চাঙর গলে যাওয়ায় এমনটি ঘটেছিলো।

আবারও ঠিক তেমনটিই ঘটতে চলেছে। কুমেরুর বরফের চাঙরগুলো খুব দ্রুত গলে যাচ্ছে এখন। আর এবার সেই মহাসাগরগুলোর পানিস্তর উঠে আসবে কম করে হলেও ৭০/৮০ ফুট! এর অর্থ হলো প্রায় ৬/৭ তলা বাড়ির সমান!

এই তফাতটা কেবলমাত্র একটা জায়গায় দেখা যায়। তখন কুমেরুর বরফের বিশাল বিশাল চাঙরগুলো গলে যাওয়ার পিছনে মানবসভ্যতার কোনও হাতই ছিল না। এটি ছিল একেবারেই প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে এবার সেই ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে চলেছে আমাদের কারণেই। উষ্ণায়নের দৌলতে এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে। এই ঘটনাটি আগামী ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ঘটতে পারে। ৫০০/৭০০ বছরের (সঠিক হিসেবে ৪৭৫ বছর) মধ্যে সেই পৃথিবীকে ডুবিয়ে দেওয়ার মতো মহাপ্লাবনের আশঙ্কা অন্তত ৭০ শতাংশ দেখা দিয়েছে।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সায়েন্স বিভাগের সাম্প্রতিককালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে সেই ভয়াবহ ভবিষ্যতের অশনি সংকেত।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাইমেট সায়েন্স বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর আন্দ্রেজ কার্লসনের নেতৃত্বে সেই গবেষকদলে রয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অপর দুই অধ্যাপক সিদ্ধার্থ রঙ্গনাথন ও দেবযানী দত্ত ভট্টাচার্য। এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ। গবেষণাপত্রটি ডিসেম্বরে পড়া হয়েছে ওয়াশিংটনে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের (এজিইউ) এক বৈঠকে।

গবেষকদের অন্যতম সিদ্ধার্থ রঙ্গনাথন এবং দেবযানী দত্ত ভট্টাচার্য ভারতের খ্যাতিমান পত্রিকা ‘আনন্দবাজার ডিজিটাল’কে বস্টন হতে জানিয়েছেন, ‘আমরা খুব বেশিদূর ভবিষ্যতের কথা বলিনি। কারণ অ্যান্টার্কটিকার বরফের বিশাল বিশাল চাঙরগুলো যে সেই ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে চলেছে, তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে দেড়/দু’দশক আগে থেকেই। সোয়া এক লাখ বছর পূর্বে কুমেরুর বরফের চাঙর খুব দ্রুত হারে গলে গিয়েছিল সূর্যের বায়ুমণ্ডল (করোনা) হতে বেরিয়ে আসা ভয়ঙ্কর সৌরঝড়, সৌরবায়ু ও করোনাল মাস ইজেকশানের মতো ঘটনার জন্যই ঘটেছে। যা পৃথিবীকে এতোটাই তাতিয়ে তুলেছিল যে অতি দ্রুত হারে গলতে বাধ্য হয়েছিল অ্যান্টার্কটিকার বরফের অত্যন্ত পুরু ও বিশাল চাঙরগুলো।’

গবেষকরা দেখেছেন যে, গত দেড় থেকে দু’দশক ধরে যে গতিতে গলে গিয়ে পাতলা হয়ে এসেছে সেখানকার বরফের অত্যন্ত পুরু ও বিশাল চাঙরগুলো, তাতে কুমেরুর পশ্চিম প্রান্তের বরফের চাঙরগুলি (ওয়েস্ট অ্যান্টার্কটিকা আইস শিট) আরও দ্রুত ও আরও বেশি পরিমাণে গলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তাই আগামী ৩০ হতে ৫০ বছরের মধ্যে সেই আশঙ্কা বেড়ে যাবে আরও ৫০ হতে ৭০ শতাংশ।

গবেষক সিদ্ধার্থ ও দেবযানীর ভাষায়, ‘এর অর্থ হলো, অ্যান্টার্কটিকার বরফের পুরু এবং বিশাল বিশাল চাঙরগুলো গলতে সেই সময় যতোটা সময় নিয়েছিল, এবার তার চেয়েও অনেক কম সময় নেবে; অন্তত ৪৫/৪৭ শতাংশ কম।’

এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি)-র গান্ধীনগর শাখার আর্থ অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক বিক্রান্ত জৈন বলেছেন, ‘খুবই উদ্বেগজনক ছবি তুলে ধরলেও, এই গবেষণাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও সদর্থকও। উষ্ণায়ন আমাদের সভ্যতার বিপদকে কতোটা বাড়িয়ে তুলেছে গত দু’দশকে বা তা কতোটা বাড়িয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত, এই গবেষণা যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ তার পূর্বাভাসই দিয়েছে।’

গবেষণা এও বলছে যে, প্রতি শতাব্দিতে ৮ হতে ১০ ফুট করে উঠছে এবং উঠবে মহাসাগরগুলোর পানিরস্তর। তার অর্থ হলো, আরও ৮০ ফুট উঠতে আরও ৮ শতাব্দি লাগার কথা ছিলো। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ২৮০০ সালের মধ্যেই সেই মহাপ্লাবন হবে এই পৃথিবীতে। সেই ‘হিমশৈলে’র চূড়াটা দেখা যাবে ৫০০ বছরের (২৫০০ সাল নাগাদ) মধ্যেই।

গবেষক দেবযানী ও সিদ্ধার্থ বলেছেন, ‘মূলত, দু’টি কারণে দেড় লাখ বছর পূর্বে পৃথিবী তার কক্ষপথ বদলিয়ে হঠাৎই খুব কাছে চলে এসেছিলো সূর্যের। যে পথে নিজের চারপাশে লাট্টুর মতো পাক খাচ্ছে আমাদের গ্রহ, তাও আবার বদলে গিয়েছিল। যে কারণে সূর্যের করোনা হতে বেরিয়ে আসা সৌরঝড়, সৌরবায়ু এবং করোনাল মাস ইজেকশান (সিএমই)-এর মতো ঘটনায় খুব দ্রুত গলে গিয়েছিল অ্যান্টার্কটিকার বরফের অত্যন্ত পুরু এবং বিশাল বিশাল চাঙরগুলো।’

গান্ধীনগর আইআইটি-র অধ্যাপক বিক্রান্ত জৈন জানিয়েছেন যে, গত ২৫ বছর ধরে অ্যান্টার্কটিকায় ৩ লাখ কোটি টনেরও বেশি বরফ গলে গেছে। হালের গবেষণায় দেখা যায়, সেই বরফ গলে যাওয়ার হার বেড়ে গত দেড় দশকে ৩ গুণ বেশি হয়েছে। সে কারণে দেড় লাখ বছর আগেকার সময় হতে এখন পর্যন্ত বাড়তি ২ কোয়াড্রিলন (এক-এর পর ১৫টি শূন্য বসালে যে সংখ্যা হবে, তাকে বলা হয় এক কোয়াড্রিলন) গ্যালন পানি পৃথিবীর মহাসাগরগুলোতে ঢুকে পড়েছে। যে কারণে আরও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে মহাসাগরগুলো। এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

Loading...