শস্যের উৎপাদন বাড়াতে বিজ্ঞানীদের নতুন প্রযুক্তি

প্রাকৃতিক উপায়ে সালোকসংশ্লেষণের ক্ষেত্রে কিছু বাধা রয়েছে যা ওই গবেষকরা অতিক্রমের উপায় খুঁজে পেয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রযুক্তি মানুষের জীবন যাত্রার মান যেমন বাড়াচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে এই প্রযুক্তি এবার শস্যের উৎপাদন বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

তামাক গাছে জৈব প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এমন একটি ব্যবস্থা করেছেন যাতে সেটি স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে সালোকসংশ্লেষণের ক্ষেত্রে কিছু বাধা রয়েছে যা ওই গবেষকরা অতিক্রমের উপায় খুঁজে পেয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন। যে কারণে শস্য উৎপাদনের হার অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস এই পদ্ধতি চাল বা গমের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি এটি প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সাইন্স’এ। জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব বুঝেই গবেষকরা ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানোর জন্য এই দ্রুত উৎপাদনের বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

কীভাবে কাজ করবে এই পদ্ধতি?

২০০৫ সালের তুলনায় এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় এসে কৃষির চাহিদা ৬০% হতে ১২০% পর্যন্ত বেড়ে যাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে তার বিপরীতে যদি ফসল উৎপাদনের হার বছরে বছরে দুই শতাংশ কমতে থাকে তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, সার, কীটনাশক ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের কারণে গত কয়েক দশক ধরে ফলন বৃদ্ধি পেলেও ভবিষ্যতে তার সম্ভাবনা আরও সীমিত হয়ে আসছে।

সে কারণে বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে শস্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো দিকেই বেশি মনোযোগী হয়েছেন।

উদ্ভিদ সূর্যের আলো হতে শক্তি সংগ্রহ করে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি হতে শর্করা উৎপাদন করে, যা তার বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

এইসব রাসায়নিক বিক্রিয়ার মধ্যে কিছু কিছু বিষাক্ত পদার্থও উৎপন্ন হয় যা ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনাকে আবার সীমিত করে ফেলছে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, উদ্ভিদে এই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে যে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়, সেটিকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলে ফটো রেসপিরেশন নামে এক ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

এতে করে উদ্ভিদ তার মূল্যবান শক্তি ব্যয় করে ফেলে যা কিনা তার ফল উৎপাদনে ব্যবহার হতে পারতো। এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সেই সীমাবদ্ধতা কাটানো উপায় বের করার জন্য কাজ করে চলেছেন।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, ওই গবেষণা পত্রটির প্রধান লেখক মার্কিন কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ড. পল সাউথ বলেছেন যে, ‘আমরা গাছের শক্তির ব্যবহারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়াটিকে সংক্ষিপ্ত করার লক্ষ্যে মূলত ৩টি ভিন্ন বায়োকেমিক্যাল পদ্ধতিতে কাজ করেছি।’

ড. পল সাউথ বলেছেন, “অনুমান করা যায়, সয়াবিন, ধান, ফল ও সবজির ক্ষেত্রে এটি করতে পারলে এসবের উৎপাদন প্রায় ৩৬% বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। আমরা উদ্ভিদের শক্তির ব্যবহারের এই শর্টকাট পদ্ধতি নিয়ে প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি এবং মাঠে অন্তত ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সফলতাও পেয়েছি।”

কেনো তামাক গাছকে বেছে নেওয়া হয়েছে?

এই গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- উচ্চ তাপমাত্রা ও খরা অঞ্চলে এই পদ্ধতি কতোটা ব্যবহার উপযোগী হতে পারে তা দেখা। গবেষকরা এই পরীক্ষার জন্যে শুরুতেই তামাক গাছ বেছে নেন। তার কারণ হলো, এই উদ্ভিদটি খুব সহজে সংশোধন করা সম্ভব। তাদের গঠন অন্য অনেক খাদ্য শস্যের সঙ্গে মিলে যায়।

এই গবেষক দলটি তাদের গবেষণা হতে পাওয়া শিক্ষা বর্তমানে সয়াবিন, ধান, আলু এবং টমেটো গাছের ওপর প্রয়োগের চিন্তা-ভাবনা করছেন।

ড. পল সাউথ বলেছেন, ‘আমরা সত্যি সত্যিই আশা করছি, এটি এমন একটি প্রযুক্তি হবে যা দিয়ে কৃষিতে বাইরে হতে প্রয়োগ করা বিষয় কমাবে ও কম জমিতে আরও বেশি উৎপাদনে এটি সহায়তা করবে।’

তবে তারপরও এই গবেষকরা স্বীকার করছেন যে, জিনগত পরিবর্তন প্রক্রিয়া বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই বিতর্কিত একটি বিষয়।এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে খাদ্য ও ফসল বিকশিত হয় সেটি ঠিক, এটি কৃষক ও ভোক্তারাও গ্রহণ করবে। এটি একটি দীর্ঘ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে গবেষকরা মনে করছেন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষুদ্র চাষিদের জন্যে রয়্যালটি মুক্তভাবে বিতরণের জন্যে এই পদ্ধতিটি আরও উন্নততর করা হচ্ছে। যাতে তারা এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন।

Advertisements
Loading...